Showing posts with label news. Show all posts
Showing posts with label news. Show all posts

Sunday, July 18, 2021

হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল দেখুন ২০২১

হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল  দেখুন ২০২১
Al Haiatul Ulya Result 2021 |(Full Marksheet & PDF Download)

দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) এর ফলাফল 


ব্যক্তিগত ফলাফল দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন :


১৪৪২ হিজরী/২০২১ সনের দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার ফলাফলের পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করুন :

মেধা তালিকা (ছাত্র) ডাউনলোড করুন :

মেধা তালিকা (ছাত্রী) ডাউনলোড করুন :

ফলাফল প্রতিবেদন :

Tuesday, June 29, 2021

মৃত্যু সম্পর্কে লিখব / কিভাবে মৃত্যু সম্পর্কে লিখব / ঝড়ে ফুল, কাঁদে বাগান

ঝড়ে ফুল, কাঁদে বাগান

হাফিজ মাওলানা আনওয়ার হুসাইন

“মহান আল্লাহ তিনি, যার কুদরতি হাতে বিশ্বময় রাজত্ব রয়েছে৷ আর তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান৷ যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন- কে তোমাদের মাঝে কর্মে শ্রেষ্ট৷" ( সূরা মূলক ১-২ )

মৃত্যু জিনিষটা আল্লাহ পাকের সৃষ্টিরাজির মধ্যে এমন এক বিষয়, যাকে কেউই অস্বীকার করতে পারে না৷ জ্ঞানী, মূর্খ, ধনী, গরীব, আমীর, ফকীর সবাই মৃত্যুকে স্বীকার করে৷ 

জন্মিলে মরিতে হয় কথাটি অমোঘ সত্য৷ মৃত্যু থেকে কোন জীবই রেহাই পায় না৷ এমনকি আল্লাহর প্রিয় নবীগণ ও মৃত্যুবরণ করেছেন৷ অবশ্য মৃত্যু কারো জন্যে আশীর্বাদ আবার কারো ক্ষেত্রে সর্বনাশ৷ আল্লাহর বিধান মুতাবিক যারা জীবন পরিচালনা করে পরপাড়ে পাড়ি জমাবে, মৃত্যু তাদের জন্য হবে আশীর্বাদ৷ 
এছাড়া যারা ইহকালে খোদায়ী বিধানকে অস্বীকার করবে এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় জীবন পরিচালনা করবে, তাদের জন্য মৃত্যু সর্বনাশের দরজা খুলে দেবে৷ 

আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন “ মৃত্যু জিনিসটা সেতুর ন্যায়, যা দু'জন বন্ধুর মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক ঘটায়" ৷ তথা মু'মিন বান্দা যিনি আল্লাহর বন্ধু তাঁকে তাঁর পরম বন্ধু আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দেয়৷ অপরদিকে কাফের ব্যক্তির জন্য মৃত্যু অবধারিত গজবের দরজা খুলে দেয়" ৷ যেমন কালামুল্লাহ শরীফে আল্লাহ বলেন- “স্মরণ করো যখন ফেরেশতাগণ কাফেরদের প্রাণ বিসর্জন করবে এমতাবস্থায় যে, তারা কাফেরদের মুখমন্ডল ও পশ্চাতে প্রহার করতে থাকবে ৷ সাথে সাথে তারা এও বলবে যে, তোমরা জলন্ত সাজা আস্বাদন করো ৷ এ সাজা তোমাদেরই কর্মের ফল৷ আর মহান আল্লাহ তার বান্দার উপর জুলুমকারী
নন ৷" ( সূরা আনফাল- ৫০ )

যাক, এতক্ষণ মৃত্যু নিয়ে লিখছিলাম৷
এই মৃত্যু বিষয়টা যদিও কঠিন সত্য, তবুও কিছু কিছু মৃত্যুকে আমাদের মন মেনে নিতে চায় না৷ এরকমই একটি মৃত্যুকে নিয়ে লেখার উদ্দেশ্যে কলম হাতে বসা৷ সেই মহান ব্যক্তিত্ব হলেন 
মাও. সা'দ উদ্দীন রাহিমাহুল্লাহ ৷
আল্লাহর এ বান্দাকে হারিয়ে আজ আমরা বিরাট এক শূন্যতা অনুভব করছি৷ যার স্মৃতি আজ মনস্পটে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে ওঠে৷

স্মৃতির মৃত্যু নেই। এই পার্থিব জীবনে মানুষ যে আমল বা স্মৃতি তৈরি করে, তা মৃত্যুর পরও বাকি থেকে যায়। ইহকালেও , পরকালেও। 
মৃত্যুর পরেও মানুষকে তার স্মৃতি বা আমল দিয়ে বিবেচনা করা হয়। তাই পরবর্তীদের জন্য আমরা কী স্মৃতি রেখে যাচ্ছি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মহান এ ব্যক্তি ২৭ মার্চ ১৯৯৭ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বলেশ্বর ঢেমী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

গ্রামের মকতবে তাঁর পড়ালেখা শুরু হয়। এরপর স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং পরে ঘোড়াইল মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। তারপর সিলেটের আলুরতল মাদরাসায় খুব সুনামের সাথে পড়ালেখা করেন৷
এরপর ঢাকায় এক মাদরাসায় অধ্যয়ন কালীন সময়ে এক বিরল রোগ (ব্লাড ক্যান্সার) তাঁর শরীরে বাসা করে নেয়৷
অতঃপর এ বছরই তিনি
 ইহলোক ত্যাগ করেন৷
( আল্লাহপাক তাঁর কবরকে জান্নাতুল ফেরদাউসের নেয়ামত দ্বারা ভরপুর করুন)

যিনি দুআ-দরূদ, হাদীস, 
নসীহতমূলক শের-আশ্আর লিখে 
রাখতেন। কেউ কোন কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে কিছু বললে কিতাবের নাম ও 
প্রকাশনা তথ্যসহ সবকিছু লিখে 
রাখতেন-সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে। এভাবে তাঁর পকেট বইগুলোর মধ্যে 
এর একটি বিশাল সংগ্রহ জমা হতো৷
অনেক সময় বিভিন্ন কিতাবের 
গুরুত্বপূর্ণ অথচ দীর্ঘ বিষয়ও নিজ 
হাতে লিখে রেখে দিতেন। 

সুন্নতের অনুসরণ তাঁর স্বভাবে 
পরিণত হয়েছিল অসুখের সময়  স্বাভাবিক চেতনা হারালেও সুন্নতের কথা তাঁর ঠিকই মনে থাকত। সারাক্ষণ মাথায় টুপি থাকত। কখনো টুপি নিয়েই ঘুমিয়ে পড়তেন। কথা-কাজ, চলন-বলন, ইবাদত-বন্দেগী সবকিছুতেই সুন্নত ছিল তাঁর নির্বিকল্প আদর্শ।

সুন্নাতের খেলাফ কোনো কাজ
 দেখলেই তিনি তা শুধরে দেয়ার
 চেষ্টা করতেন। শাসনের যোগ্য হলে তাই করতেন। শিশুদেরকে সুন্নতের তালীম দিতেন। বাম হাতে কোনো শিশুকে কিছু
 খেতে দেখলে ভীষণ রেগে যেতেন।
 
নামায ‘চোখের শীতলতা’ হাদীসটির যথার্থতা তাঁকে দেখলে উপলব্ধি করা যেত। নামাযের প্রতি তাঁর আকর্ষণ, 
নামাযে মনোযোগ ও খুশু-খুযু, 
সদা নামাযের প্রতি মানুষকে 
দাওয়াত দেওয়া ইত্যাদি দেখে 
মনে হত নামায তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ, সত্যিই নামায তাঁর ‘চোখের 
শীতলতা’।
জামাতের গুরুত্ব ছিল তাঁর কাছে 
অত্যধিক। 
ইশরাকের নামায, ভরপুর মসজিদে আওয়াবীনের নামায ও শেষ রাতে
নির্জনে তাহাজ্জুদের নামায 
সবগুলোর ধরন ধারণ ছিল
 এক ও অভিন্ন। নিয়মিত এবং খুশু-খুযুতে সমৃদ্ধ।

নামাযের মত কুরআন তিলাওয়াতও ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর আবেগপূর্ণ গম্ভীর আওয়াজের তিলাওয়াত, তিলাওয়াতের আদাব, পূর্ণ একাগ্রতা ও মনোযোগিতার যে চিত্র আমার মনে গেঁথে গেছে এর
 উপমা আর খুঁজে পাইনি। সকালের ঘুম তার কাছে খুব 
অপছন্দনীয় ছিল৷
 কুরআন মাজীদের যত্ন ও আদব 
রক্ষায় ছিলেন খুব সতর্ক।

যখন অসুস্থতা ও দুর্বলতার কারণে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়,
 তখন পুরো সময়ই কাটাতেন কেবল কুরআন তিলওয়াতে৷
দু‘আ ছিল তাঁর একটি বিশেষ 
বৈশিষ্ট্য। প্রতি দিন নিয়মিত চার পাঁচ বার
 লম্বা লম্বা দু‘আ করতেন ৷ 
দু‘আ শেষে মনে হত পৃথিবীটা কত 
সুন্দর নিষ্কণ্টক। তৃপ্তিতে ভরে যেত মন।

অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য 
তাঁকে শিশু থেকে মৃত্যু আপন পর
 সকলের কাছেই পরম প্রিয় করে
 রেখেছে। 
লোভ, হিংসা-বিদ্বেষ, স্বার্থপরতার 
কোন চিহ্নও তাঁর মাঝে ছিল না। তিনি ছিলেন স্বল্পভাষী, সদা সহাস্য-সদালাপী। 

তাঁর চরিত্রে বিনয়-নম্রতা, ক্ষমা ও
 উদারতা দীপ-শিখার মত 
জ্বল-জ্বল করত। বংশগত আভিজাত্য, আজন্ম ভদ্রতারাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিঃশর্ত অনুকরণের অদম্য স্পৃহা ও উলামায়ে কেরামের সুহ্বত তাঁকে অপরূপ চারিত্রিক রূপশোভা দিয়ে একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষরূপে তৈরী করেছিল।

তিনি ইবাদত-বন্দেগী ও শত 
ব্যস্ততার পরও নিজের কোন কাজ অন্যকে দিয়ে করাতেন না। 
নিজের কাপড় চোপর ধোয়াসহ সব কাজ নিত্যদিনই রুটিন মাফিক 
করতেন।

খাবার ছিল পরিমিত এবং সময়মত। পূর্ণ মনোযোগিতার সাথে খাবার
 খেতেন সম্পূর্ণ সুন্নত তরীকায়। বসতেন ঠিক মনিবের সামনে
 গোলামের বসার মতো। সাধারণত তাঁর কোনো খাবারের 
অংশ মাটিতে পড়ত না। অন্য কারো কিছু পড়ে গেলেও তিনি উঠিয়ে নিজে খেতেন অথবা অন্যকে খাইয়ে দিতেন। খাবার শেষে হাত ধোয়ার আগেই 
হাত বা প্লেট দেখলে মনে হত খাবার এখনো শুরু হয়নি। অনুরূপ তাঁর হাঁটাও ছিল 
মাপাঝোকা৷ সব সময় পথের ডান 
দিকে চলতেন। চোখ থাকত নিচের 
দিকে।

তিনি সব সময়ই মুত্যুর জন্য প্রস্ত্তত
 থাকতেন৷ তাঁর আলোচনার একটি 
নিয়মিত বিষয় ছিল-মৃত্যু ও তৎপরবর্তী যিন্দেগী। প্রায় সবসময়ই তাঁর মুখে এ হাদিসটি শোনা যেত- ‘তোমার মরণের পরের জগৎটা হয়ত একটা দোজখের ‘গাড়া’ হইব, না হয় জান্নাতের একটি বাগিচা’।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি 
ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি রাতে একবার ‘সায়্যিদুল
 ইসতিগফার’  পড়বে, সে যদি ঐ 
রাতে মারা যায় তাহলে সে জান্নাতি। আর যে এ দু‘আটি দিনে পড়বে,
 অতঃপর ঐ দিনে যদি সে মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতি’। হয়ত এ আশাতেই তিনি সর্বদা এ
 দু‘আর আমল করতেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইবাদত ও তাকওয়া-পরহেযগারির বিষয়ে খুব যত্নশীল ছিলেন। সেজন্য আসাতিযায়ে কেরামের নেক নযর ছিল তাঁর প্রতি। তাছাড়া নিজ থেকেও উস্তাযদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। উস্তাযগণও তাঁকে মহব্বত করতেন।

আর আমরা আশাবাদী যে, শেষ পর্যন্ত তিনি পেয়ে গেছেন স্থায়ী কামিয়াবীও। পেয়েছেন শহীদী মৃত্যু। 

চলে গেছেন, রেখে গেছেন অনেক ত্যাগ, কুরবানী, আদর্শ ও কামিয়াবীর ফিরিস্তি। আল্লাহ তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগিচা বানিয়ে দিন এবং মুসলিম তরুণ-যুবকদের তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেয়ার তাওফীক দান করুন। 
মুসলমানদের মেধা, মননশীলতা, 
সৃজনশীলতা, কণ্ঠ ও মেহনত ব্যয় হোক মহান সৃষ্টিকর্তার অনুমোদিত পথ ও পন্থায়। আমীন।

আল্লাহ বলেন “ প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে"৷ 
হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত চলছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে৷ তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৪ অক্টোবর ২০১৮ ঈসায়ি নয়াযড়কস্থ উইমেন্স মেডিকেল  হাসপাতালে সবাইকে এতীম করে পাড়ি জমালেন জান্নাতের পথে৷

সাহাবী হযরত সালমান ফারসী রা. বলেছেন, ‘কোনো ভূখণ্ড কাউকে শ্রেষ্ঠ বানাতে পারে না। একমাত্র আমলই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে।’ আমরা আশা করি, মাওলানা সা'দ উদ্দীন রাহিমাহুল্লাহ তাঁর জীবনের স্বল্প পরিসরে দ্বীনী যে চেষ্টা করে গেছেন তাই তাকে মর্যাদা দান করবে।

আল্লাহ্ এই চেহারার ঔজ্জ্বল্য তুমি বাড়িয়ে দাও।তুমি এর দীপ্তি চিরস্থায়ী করে দাও।তুমি তাঁকে আফিয়ত ও প্রশান্তি দান কর।তাঁর সকল নেক কাজকে তুমি কবুল করে নাও। 
সব ভুল-ত্রুটি তুমি ক্ষমা করে দাও৷
তুমি তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। আমীন।

اللهم اغفره وارحمه وعافه وأكرم نزله ووسع مدخله مدخلا كريما واغسله بالماء الثلج والبرد ونقه من الذنوب والخطايا كما ينقى الثوب الابيض من الدنس.

اللهم اغفره وارحمه واسكنه فى الجنةالفردوس الاعلى. امين يارب العلمين.
اللهم أجعل قبره روضة من رياض الجنة  .اللهم نور مرقده و طيب مضجعه و عطر مشهده  و اكرم مثواه.

Saturday, November 30, 2019

৫ মিনিটে পাওয়া যাবে জমির খতিয়ান

৫ মিনিটে পাওয়া যাবে জমির খতিয়ান



এখন যেকোনো স্থান থেকে মাত্র ৫ মিনিটে অনলাইনে জমির খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করা যাবে।
‘হাতের মুঠোয় খতিয়ান’ স্লোগানে বুধবার সচিবালয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আরএস খতিয়ান অনলাইনে অবমুক্তকরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
land.gov.bd বা rsk.land.gov.bd বা
www.minland.gov.bd বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করা যাবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সহায়তায় নতুন এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রায় ৬১ হাজার ৫০০ (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার মৌজার জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, এর প্রায় ৩২ হাজার মৌজার জরিপে প্রকাশিত এক কোটি ৪৬ লাখ আরএস (১৯৬৫ সাল থেকে চলমান জরিপে প্রস্তুত করা খতিয়ান) খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে পাওয়ার সুযোগ করা হয়েছে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখানেই থেমে থাকব না। বাকি খতিয়ানগুলো ক্রমান্বয়ে যুক্ত হতে থাকবে।’
জরিপ কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং জরিপ শেষ হয়েছে এমন খতিয়ানগুলো পর্যায়ক্রমে আপলোড করা হবে। জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে গেজেট প্রকাশিত খতিয়ানও এসব লিংকে আপলোড করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
‘প্রচলিত পদ্ধতিতে খতিয়ানের কপি পেতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এটা থাকবে না। খতিয়াতের কপি পেতে ভূমি অফিসে বা ডিসি অফিসে দৌড়ানোর কোন প্রয়োজন নেই।’
মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে দ্রুত সময়ে সেবা দিতে বর্তমানে ৩০২টি উপজেলায় ই-মিউটেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আরএস-কে (রিভিশনাল সার্ভে খতিয়ান) সিস্টেম ও ডিডিআর (ডিজিটাইজেশন অব রেকর্ড রুম) এর মাধ্যমে সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ান অনলাইনে সরবরাহের পরিপত্র জারি করা হয়েছে।’
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকসুদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অফিসের রেকর্ডরুম থেকে খতিয়ান বা পর্চা দেয়া হয়ে থাকে। খতিয়ানের কপি প্রাপ্তিতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহার, সময়, খরচ ও যাতায়াত ভোগান্তি হ্রাস, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম হ্রাস এবং ভূমি সংক্রান্ত সেবা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করার জন্য সরকার অনলাইন ভিত্তিক আরএস-কে পদ্ধতি চালু করা হল।’
যেভাবে অনলাইনে পাওয়া যাবে খতিয়ান
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনলাইনে জমির খতিয়ান সংগ্রহের জন্য সব নাগরিকের জন্য নাগরিক কর্ণার রয়েছে। অনুসন্ধানের জন্য নির্ধারিত বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা বাছাই করতে হবে। খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর বা মালিকানা নাম বা পিতা বা স্বামীর নাম দিয়ে খতিয়ান খোঁজা যাবে।
এছাড়া খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির জন্য অনলাইনে আবেদন, আবেদন নিষ্পত্তি বিষয়ে ট্যাকিং ও কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনিটরিং করার সুবিধা রয়েছে এই অনলাইন ব্যবস্থায়।
অনলাইনে খতিয়ানের কপি পেতে অনলাইনে আবেদনের সময় নাগরিকের নাম, পরিচয়পত্র নম্বর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও ফোন নম্বর ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে। নির্ধারিত তথ্য দেয়ার পর মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খতিয়ানের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে। ফি পরিশোধের পর অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে চাইলে সরাসরি অনলাইন কপি প্রিন্ট করে নেয়া যাবে।
সার্টিফাইড কপি পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনের সময় নাগরিকের নাম, পরিচয় পত্র নম্বর, ফোন নম্বর ইত্যাদি দিতে হবে। তথ্য প্রদানের পর মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খতিয়ানের জন্য ফি দিতে হবে। ফি দেয়ার পর সার্টিফাইড কপির জন্য নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র, ই-মেইল, মোবাইল নম্বর, ট্রানজেকশন আইডি ও ডাকযোগে যোগাযোগের ঠিকানা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট জেলা অফিস থেকে বা আবেদনকারীর প্রত্যাশিত ঠিকানায় ডাকযোগে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে আরএস খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সরবরাহ করা হবে।
আরএমএম/জেএইচ/এমকেএইচ

Friday, May 31, 2019

শায়খুল হাদীস আল্লামা শিহাবুদ্দীন রহ.বর্ণাঢ্য জীবনীঃ


শায়খুল হাদীস আল্লামা শিহাবুদ্দীন রহ.বর্ণাঢ্য জীবনীঃ

লেখক. উস্তাদে মুহতারাম   মাও.তালেব উদ্দীন শমশের নগরী দাঃবাঃ


 সর্বমহলে সমাদৃত ও প্রশংসিত উপমহাদেশের অন্যতম হাদীস বিশারদ আল্লামা শিহাব উদ্দিন দা.বা.। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের প্রথম দিন থেকেই শায়খুল হাদীসের মসনদে স্বমহীমায় আসীন। অর্ধশতাব্দি কালব্যাপী জামেয়া রেঙ্গায় বুখারী শরীফের দারস প্রদানের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। শায়খুল মাশায়েখ, শায়খুল হাদীস আল্লামা শায়খ শিহাব উদ্দীন দাঃ  বাঃ একটি নাম, একটি ইতিহাস। একটি প্রেরনা। আলোর দিশারি। চেতনার বাতিঘর। জীবনের প্রতিটি ধাপে ধাপে যার রয়েছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। খেদমতে খলকে দৃঢ়প্রত্যয়ী, নিরলস পরিশ্রম, অদম্য স্পৃহা অসীম সাহস, বৈচিত্র্যময় গুণাবলী সম্পন্ন এক বিরল ব্যক্তিত্ব। অসাধারণ প্রতিভা, ব্যতিক্রমী কর্মস্পৃহা, বহুমুখী প্রতিভা ও অত্যান্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি। আধ্যাত্বিক কামালতের মুর্তপ্রতীক এই হযরতের ইলমের গভীরতা ও তাআল্লুক মা’আল্লার ঝান্ডাবাহী। উস্তাজুল আসাতিজা ওয়াল মুহাদ্দীসীন, বহুমাত্রিক সাফল্যমন্ডিত কর্মময় জীবনের অধিকারী। স্বমহীমায় উজ্জল সত্যিকারের নায়েবে নবী। আমার মুহতারাম উস্তাদ, সাদাসিধে জীবনের অধিকারী পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। হুজুরের দীর্ঘ নেক হায়াতে তাইয়্যেবাহ  কামনা করি।

সিলেট জেলার অন্তর্গত, পুন্যবানদের অন্যতম ঘাটিখ্যাত, কানাইঘাট থানার ৫নং চতুল ইউনিয়নের পর্বতপুর নয়াফৌদ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত দ্বীনদার পরিবারে মরহুম আলহাজ্ব ক্বারী  মাওঃ নিসার আলী রহঃ ও আলেমা মহিয়সী নারী মরহুমা মোছাঃ আয়েশা বেগম রাহঃ র ঔরশে ১৩৫৫ বাংলার মাঘমাসে মোতাবেক ১৯৪৮ ইং সালের সোমবার দিনে ১২ রবিউল আউয়ালে সোবহে সাদিকের সময় জন্মগ্রহণ করেন।

অপরুপ নিসর্গশোভা মায়াবী পরিবেশে শৈশবের সোনাঝরা দিনগুলো তিনি অতিক্রম করেন। মুক্ত আবহাওয়ায় বেড়ে উঠেছেন বলে বাল্যকাল থেকেই তাঁর চিন্তা চেতনা এক অসম ব্যাপ্তি লাভ করে। পিতা- মাতার স্নেহছায়ায় থেকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের কঠিন পাঠগুলো সহজেই আত্মস্থ করে নেন। শিশুকাল থেকেই তাঁর সত্তায় লুকিয়ে ছিলো দ্বীনে ইলাহীর তীব্র তৃষ্ণা। আরাধ্য ইবাদতে ছিলেন অনুস্বরণীয়।

সময়ের সর্বাধিক আলোচিত একটি নাম। সর্বসাধারনের জন্য ছায়াদার একটি বটবৃক্ষ। একটি অবিস্মরণীয় ইতিহাস। পুর্ণতার প্রতিচ্ছবি,  একটি চেতনা, এ শতাব্দীর কিংবদন্তীতুল্য মহাপুরুষ। একটি গণবিপ্লব, প্রকৃত মুমিনের জন্য একজন অবিসংবাদিত যোগ্য রাহবার। সহজ সরল,উদারমনা, নিরহংকারী হযরত শায়খ  গণমানুষের শান্তির ঠিকানা। তার মুহতারাম পিতা ছিলেন হাকিমুল উম্মত হযরত থানভী রহঃ’র হাতে বাইআত। আবাল – বৃদ্ধ  বণিতা, নারী- পুরুষ সবার কাছে তিনি দেওবন্দী নামে ছিলেন পরিচিত। শায়খের পিতা উচ্চশিক্ষার জন্য দেওবন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি দেওবন্দ থাকাবস্থায় তার পিতা শায়খের দাদা মারা যান  দেওবন্দ থেকে উচ্চশিক্ষার সম্পন্ন করে

ইলমুল কিরাআত বিভাগে ভর্তি হয়ে কিরাতে সাবআ আসারার ডিগ্রী অর্জন করেন। তার পিতা শায়খকে ছোট অবস্থায় আনুমানিক ৭ বৎসর বয়সে বাড়িতে রেখে তার হাতে ভাংতি সিকি (কয়েন) জাতীয় টাকা দিয়ে চট্রগ্রাম হইতে পানির জাহাজ যোগে সাড়ে তিন মাসে ১৪০০ টাকায় হজব্রত পালন করেন। হজ্বশেষে বাড়ীতে আসার মুহুর্তে বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শায়খ বিচলিত হন। অবশেষে আল্লাহর রহমতে তিনি সহিহ সালামতে ফিরলে তাকে নৌকাযোগ দরবস্ত বাজার থেকে এসে বাড়ীতে নিয়ে যান। শায়খের মুহতারামা মাতা সাংসারিক কাজকর্মের ঝামেলা সত্বেও নিয়মিত তেলাওয়াত, তরজমায়ে কোরআন ও অন্যান্য উর্দু কিতাবাদী নিয়মিতভাবে মোতালা – অধ্যয়ন করতেন। শায়খের মাতা- পিতা বারবার স্বপ্নযোগে রহমতে আলম, নবীয়ে আকরম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখেছেন বারবার। শায়খ সম্পর্কে ও তারা অনেক গুরুত্বপুর্ণ স্বপ্ন দেখেন।সে সব স্বর্ণপুরুষের স্বপ্নিল প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেন আধ্যাত্বিক জগতের সুর্য, মফাক্কিরে ইসলাম, উম্মাহর দুরদর্শি দরদী রাহবার আল্লামা শায়খ শিহাব উদ্দীন দাঃ বাঃ। শায়খের পিতা ৭৫ বৎসর বয়সে ১৯৮৭ ইং সালের ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটের সময় ইন্তেকাল করেন এবং তার মাতা ৮৫ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন। শায়েখ তার  আব্বা ও তিন চাচার মধ্যে তিনি তার পিতা ও হাজী চাচাকে পেয়েছিলেন, দুই চাচা শায়খের জন্মের পুর্বেই মৃত্যু বরণ করেন। শায়খের দাদা হাজি আহমদ আলী রহঃ দাদী মোছাঃ মফুরা বিবি রহঃ উভয়ই ১২০ টাকা করে সে সময় হজব্রত পালন করেন। শায়খের একমাত্র ফুফু কে তিনি জীবিতাবস্হায় পেয়েছিলেন।

হযরত শায়খের সম্মানিতা মাতা ছিলেন  একজন আবিদা, সালিহা ও আলেমা মহিলা এবং পিতাও ছিলেন দেওবন্দী এক ক্ষনজন্মা আমিল আলিম। সেকারনে মাতা-পিতার তত্ত্বাবধানে পারিবারিকভাবে তাঁর শিক্ষা জীবনের সুচনা হয়। পাশাপাশি নিজগ্রামের মক্তবে। তারপর বর্তমানের “জামেয়া ইসলামিয়া দারুল হাদীস চতুল ঈদগাহে” (যার প্রাক্তন নাম ছিল ” চতুল ঈদগাহ আলিয়া মাদ্রাসা”)। এ মাদ্রাসায়   ইবতেদাইয়্যাহ থেকে আলিয়া ২য় বর্ষ পর্যন্ত কৃতিত্বের সাথে লেখা-পড়া করেন। প্রতিটি ক্লাসেই তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। হেদায়াতুন নাহু জামাতে এ মাদ্রাসা থেকে পরিক্ষায় অংশ নিয়ে কানাইঘাট বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সরফ জামাতে পড়াকালীন বাৎসরিক জলসার স্টেইজে আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রহঃ শায়খ শিহাব উদ্দীন দাঃ কে সিগাহ ও তা’লীল ধরালে তিনি ঝটপট উত্তর দিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেন, এবং বায়মপুরী রহঃ মাহফিলে মাইকে ঘোষনা দিয়ে তখনকার সময়ের ১ টাকা পুরুষকার দেন যখন ওয়াজের হাদিয়া ছিল ছয় টাকা। হযরত শায়খ গেলো সপ্তাহেও সেই বায়মপুরীকে স্বপ্নযোগে দেখেছেন এবং ইদানিং বারবার স্বপ্নযোগে তাকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন।

শায়খের বাড়ী থেকে মাদ্রাসাটির দুরত্ব হল ১ কিলোমিটার। প্রতিদিন দু’পাশে দিগন্ত বিস্তৃত অবারিত ফসলের মাঠ মাড়িয়ে দ্বীনী শিক্ষার অমীয় সুধা পান করতে, সেই নববী কাননের মধু আহরণ করতে ভ্রমরের মতো ছুটে চলতেন এই রাসুল প্রেমিক- আসেকে রাসুল চতুল ঈদগাহ মাদ্রাসার পানে। চতুল মাদ্রাসার শায়খের কয়েকজন উস্তাদ হলেন ; ১. খলিফায়ে ফেদায়ে মিল্লত মরহুম মাওঃ শেখ আহমদ আলী রাহঃ যিনি মিযান মুনশাইব ও তরজমায়ে কোরআনের উস্তাদ। ২. মাওঃ শামসুল হক রহঃ। ৩. মাওঃ  নছিরুদ্দীন রাহঃ । ৪. মাওঃ আঃ সামাদ রাহঃ ও হযরত মাওঃ মুহিব্বুল হক সাহেব । উল্লেখ্য যে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে ১২৭০ ঈসায়ী সনে সুলতান গিয়াসুদ্দীন বলবনের আমলে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা এসে তদানিন্তন বিশ্বের হাদিস চর্চার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র  গড়ে তোলেন। ইতিপুর্বে হিজরি পঞ্চম শতকের সুচনার দিকে চালু হয় বর্তমান প্রচলিত ধারার মাদ্রাসা। ৪১০ হিজঃ মোতাঃ ১০১৯ খৃঃ গজনিতে সুলতান মাহমুদ গজনবী সর্বোচ্ছ ইসলামী বিদ্যাপীঠ হিসেবে ‘বিশ্বদুহিতা’ মসজিদের কাছে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। একসময় গোটা ভারতবর্ষে কোনো নগর- বন্দর এমন ছিলনা যেখানে মাদ্রাসা গড়ে ওঠেনি। সরকারিভাবে মাদ্রাসাগুলোর ব্যয়ভার বহন করা হতো। তখন কওমী – সরকারী  বলে কোনো পার্থক্য ছিল না। শুধু মোগল শাসনামলে রাজধানী দিল্লিতেই ছিল এক হাজার মাদ্রাসা। বৃটিশ  শাসনের পুর্বে  শুধু বাংলাদেশেই ছিল ৮০ আশি হাজার মাদ্রাসা। বৃটিশরা  ভারতবর্ষের ক্ষমতায় আসীন হলে চুরমার হয়েযায় মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা।বৃটিশরা হাজার বছরের লালিত লক্ষলক্ষ মাদ্রাসা মসজিদ ভেঙে চুরমার করে দেয়।সর্বশেষ উলামায়ে কেরামের আযাদী আন্দোলনের ফলে স্বাধীন হয় এ উপমহাদেশ ১৯৪৭ সালে। হুজুরের জন্ম ১৯৪৮ সালে হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা ও ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা কোন পর্যায় ছিলো সচেতন মহলের অজানা নয়।

হযরত শায়খ দাঃ বাঃ চতুল ঈদগাহ মাদ্রাসায় শিক্ষা- দীক্ষার  মাধ্যমিক স্তর শেষ করেন।  মেধা, আমল – আখলাক ও সুন্নতি লেবাসের কারণে উস্তাদগণ তাকে খুবই ভালোবাসতেন এবং স্নেহ করতেন। তাঁই উস্তাদগণ তাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ১৮৮৯ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত সিলেটের কানাইঘাটে দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনুসরণে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম দ্বীনী প্রতিষ্টান কানাইঘাট ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ( আজকের দারুল উলুম কানাইঘাটে) যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। পিতা – মাতার সম্মতি লাভের পর অনেক প্রতিকুলতার মাঝেও অবশেষে তিনি পাড়ি জমান ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম কানাইঘাটে। সেখানে তিনি তিন বছর লেখা- পড়া করেন। শায়খের বাড়ী থেকে কানাইঘাটেরর দুরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। রাস্তা বলতে পায়ে হাটার মেঠো পথ, খাল ও নালায় গ্রাম – বাংলার ঐতিহ্যের সেই বাসের সাকো। শীত ও বসন্ত কালে ক্ষেত কাটার পর জমির ড্রাইবেসন দিয়ে বাস চলত। অন্য মওসুমে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হতো, পায়ে ব্যথা হতো, গতি মন্থর  হতো কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে পথ আর শেষ হতোনা। অভুতপুর্ব দৃশ্য নয়নাভিরাম মানজর অবলোকন করতে করতে শায়খ ছুটে চলতেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অজোপাড়া গাঁয়ের আর দু’ পাশে দিগন্ত বিস্তৃত বিস্তীর্ণ সবুজের সমারোহ অবারিত ফসলের মাঠের বাঁকে বাঁকে বয়ে যাওয়া কাচা রাস্তা দিয়ে। মেঘলা আকাশে হঠাৎ ঝলমলিয়ে ওঠা রোদের মত দ্বীনের এ রবি হাজির হতেন কানাইঘাটের ঐশি কাননের আলোর পথে। পদব্রজে হাঁটার পথে তার মানসপটে যা তিনি কষতেন -আকঁতেন যদি লেখা যেতো তাহলে অনেক আত্মা শান্তি পেতো। উল্লেখ্য যে কানাইঘাট ইসলামিয়া, ঝিংগাবাড়ী ও ফুলবাড়ি মাদ্রাসা সমুহে দাওরায়ে হাদীস খোলা হয়  ১৯৫২ সনের পরে তবে চট্রগ্রামে দারুল উলুম দেওবন্দের পু্র্ণ আদর্শ ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনুসরনের ১৯০১ সালে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯০৮ ইং হতে দাওরায়ে হাদীস খোলা হয়। সে হিসেবে এটাই বাংলাদেশের প্রথম মাদ্রাসা যেখানে হাদীসের “সিহাহ সিত্তাহ” শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়। এ কারনে হাটহাজারী মাদ্রাসাকে উম্মুল মাদারিছ বলা হয়। এরপর শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী রাহঃ ১৯২৪ ইংতে সিলেটে আসেন এবং মক্তব মাদ্রাসা নির্মানে ব্রতী হন। যারফলে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এ দেশে প্রায় ৪৪৩ টি কওমী মাদ্রাসা স্থাপিত  হয়েছিল। পাশাপাশি ৫১ টি মাদ্রাসা ছিল দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত।

দারুল উলুম কানাইঘাটে হযরত শায়খ দাঃ বাঃ সেখানকার আলিয়া ৫ম পর্যন্ত অত্যান্ত সুনাম- কৃতিত্বের  সাথে পড়াশুনা করেন। ঐ সময় থেকেই অধ্যয়নের সাথে সাথে তার চিন্তার দিগন্ত উন্মোচিত হয়, গবেষণার জগতে নিমজ্জিত হন। তার মাঝে পরিলক্ষিত হয় গভীর ভাবগাম্ভীর্যতা। উল্লেখ্য যে হযরত বায়মপুরী রাহঃ এর হজ্বে গমণের সুযোগকে কেন্দ্র করে তার কর্মস্হল গাছবাড়ী জামেউল উলুম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গাছবাড়ী মাদ্রাসাকে সরকারি মাদ্রাসায় পরিণত করলে তিনি দারুণভাবে আহত হন। অবশেষে ১৯৫৩ ঈসায়ী সনে কানাইঘাট ইসলামিয়া মাদ্রাসায় যোগদান করেন। প্রথমে মাদ্রাসার নাম পরিবর্তন করতঃ “দারুল উলুম কানাইঘাট” নামকরণ করেন এবং পুর্ব  সিলেট কওমী মাদ্রাসা সমুহের সমন্বয়ে ” পুর্ব সিলেট আযাদ দ্বীনী  আরবী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড “গঠন করেন। আলিয়া চাহারমে শায়খ দাঃ বাঃ আবারও অতীতের ন্যায় এ বোর্ডের ফাইনাল পরিক্ষায় ১ নম্বর  হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। বাংলাদেশের কিংবদন্তি আদর্শপুরুষ, আধ্যাত্বিক রাজধানী সিলেটের গৌরব, ১৯৬২ ইং র জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহঃ র খাছ তাওয়াজ্জুহ লাভে ধন্য হয়েছিলেন হযরত শায়খ দাঃ  বাঃ। ইলমে ওহীর সুতিকাগার দারুল উলুম কানাইঘাটের নন্দনকাননে প্রথম দিন থেকেই শায়খ ছিলেন অত্যান্ত সমাদৃত, পরমনন্দিত। শায়খের লজিং ছিল হাজী হাবিবুর রহমান সাহেবের বাড়ীতে। তিনতিনটি বছর এ বাড়ি থেকে গিয়েই লেখা-পড়া করেন। পার্শে ছিল ১৫/১৬ ফিট প্রসস্ত একটি খাল। খালের ওপারে ছিল বায়মপুরী রাহঃ র বাড়ী। আলিয়া পান্জমের বছর বিভিন্ন এখতেলাফে কানাইঘাট মাদ্রাসার লেখা- পড়ায় বেশ ব্যাঘাত ঘটে। এ বৎসরই দারুল উলুম থেকে বিদায় নেন মাওঃ আঃ রব কাসেমী ফিল্লারকান্দী রহ. যার কাছে তিনি হামাছা ও তাফসীরে মাদারিক অধ্যয়ন করেন। আরো বিদায় নেন মোনাযিরে আযম আল্লামা শফিকুল হক আকুনির মেছাব যারকাছে হযরত শায়খ হেদায়াহ ছালিছ পড়েন। তাদের বিদায়ে সাময়িক শিক্ষক সংকটে পড়ে দারুল উলুম কানাইঘাট। যারা নিয়োগ পান তাদেরদারা যখন শায়খের কিতাবাদী চলছিলনা তখন পড়ানোর দায়িত কাধে তুলে নিলেন স্বয়ং বায়মপুরী রহঃ। এই সুবাদে বায়মপুরীর কাছে তাফসীরে মাদারিক ও মাওঃ মুজ্জাম্মিল সাহেবের কাছে হেদায়াহ ছালিছ পড়েন। হযরত বায়মপুরী রহ. শায়খকে তার নিজের লেখা ” মুল্লা মুবিন ” ও তার ব্যক্তিগত “তাহরিরে সম্বট” বই খানা খুশি হয়ে পড়ার জন্য দান করেন।

কিছুদিন পরে চলে আসে রমজান। রমজানের পুর্বে কোন এক সময় শায়খ দাঃ বাঃ চিঠি লিখেন হাটহাজারীর মুহতামিম শায়খ মাওঃ আব্দুল ওয়াহ্হাব রহ.’র কাছে। নিজের পঠিত কয়েকটি কিতাবের নাম উল্লেখ করে ভর্তির আগ্রহ পেশ করে লেখা চিঠির জবাব দানের জন্য পোষ্ট কার্ড ও সঙ্গে পাঠান। অপ্রত্যাশিত ভাবে সেই চিঠির জবাব ও দেন হাটহাজারীর মুহতারাম মুহতামিম সাহেব এবং শায়খকে দাওরায়ে হাদীসে ভর্তির সুযোগ দিবেন বলেও আশ্বস্ত করেন। আল্লামা আব্দুল ওয়াহ্হাব সাহেব কোনদিন মাদ্রাসায় থাকবেন আর কোনদিন থাকবেন না তাও পত্রে উল্লেখ করে শায়খকে সাক্ষাতের দিনক্ষণ ঠিক করে দেন। হযরত শায়খ ১৩৮৫/৮৬ হিজরীতে রমজানের পর উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে হাটহাজারীর পানে যাত্রা করেন এবং সে মাদ্রাসার সার্বিক চিত্র দেখে তিনি মূগ্ধ হন। চিঠি প্রেরণের প্রায় তিনমাস পর হাটহাজারীর মুহতামিম সাহেবের সাথে সাক্ষাত হলেও তিনিই যে চিঠির প্রেরক সে পরিচয় না দিয়ে ভর্তি হন। ১ম বৎসরে মুখতাসারুল মা’য়ানী, সুল্লাম, মুল্লা হাসান ও মাকামাতে হারীরীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ  ঘন্টা নেন। ২য় বৎসর তাওজীহ, মুসাল্লামুস সুবুত, জালালাইন, মিশকাত, খেয়ালির ঘন্টা করেন। পরবর্তী বৎসর দাওরায়ে হাদীসের ক্লাসে ভর্তি হন। ২২ বৎসর বয়সে ১৩৮৮/৮৯ হিজরীতে দাওরায়ে হাদীসের সনদ যখন লাভ করেন তখন শায়খের দাড়ি পুরোমাত্রায় উঠেনি এবং এবৎসরই বাবার ১ম পুত্র হিসাবে বিয়ের পিড়িতে বসেন। শায়খুল মাশায়েখ শায়খুল হাদীস আল্লামা আঃ কাইয়ুম সাহেবের কাছে বুখারী শরীফ কামিল অধ্যয়ন করেন। মুফতি শায়খ আহমদুল হক সাহেবের কাছে মুসলিম শরীফ কামিল, মাওঃ আব্দুল আজিজ সাহেবের কাছে তিরমিজি শরীফ কামিল, শায়খ আল্লামা জুনায়দ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহর পিতা তানযীমুল আসতাতের মুসান্নিফ, হাটহাজারী মাদ্রাসার শায়খুত তাফসীর আল্লামা শায়খ আবুল হাসান সাহেবের কাছে নাসায়ী শরীফ ও ত্বাহাবী শরীফ, হযরত শায়খ মোহাম্মদ আলী সাহেবের কাছে ইবনে মাজাহ শরীফ ও মুয়াত্তা মুহাম্মদ ও বর্তমান প্রিন্সিপাল আমীরে হেফাজত, খলিফায়ে মদনী হযরত শায়খ আহমদ শফী হাফিজাহুল্লাহ’র কাছে মুয়াত্তা মালিক, তাওজীহ, মুসাল্লামুস সুবুত ও জালালাইন অধ্যয়ন করেন। পীর সাহেব হুজুর নামে খ্যাত হযরত মাওঃ হাফিজুর রহমান সাহেবের কাছে মিশকাত ছানী পড়েন। যিনি হযরত শায়খের উপস্থিতি ছাড়া সবক পড়ানো শুরু করতেন না, কুনুযে এ’যাযিয়াহ ও মুসাল্লামের সংকলক হযরত মুহাম্মদ আলী সাহেব দরসে হযরত শায়খকে তাঁর ডানদিকের ব্রেঞ্চে বসাতেন। কানাইঘাটে ফিল্লার হুজুর হযরত মাওঃ আব্দুর রব কাসিমীর কাছে হামাছাহ, তাফসীরে মাদারিকুত তানযীল উরফে তাফসীরে নাসাফী ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান আল্লামা বায়মপুরী রহ. ‘র ভাই হযরতুল আল্লাম মুজাম্মিল সাহেবের কাছে হেদায়াহ ৩য় খন্ড ও মুফাস্সল এবং বায়মপুরী রহ. ‘র কাছে তাফসীরে নাসাফীর অবশিষ্টাংশ অধ্যয়ন করেন।

উলুমুল কোরআনের মুসান্নিফ/ রচয়িতা দেওবন্দের শায়খুত তাফসীর আল্লামা শামসুল হক আফগানী রহ. হাটহাজারী মাদ্রাসা সফরের সময় বুখারী শরীফের পাঠদান কালে হযরত শায়খ দাঃ বাঃ বুখারী শরীফের ইবারত পড়ে তার নেক নজর কাড়তে সক্ষম হন ও হাদীসের ইজাজত লাভ করেন। মাগরীবী পাকিস্তানের মুফতিয়ে আযম আল্লামা মুফতি শফি রহঃ ও হাটহাজারী সফরে আসেন। তিনিও সফরকালে বুখারী শরীফের পাঠদান করলে ইবারত পড়েন হযরত শায়খ দাঃ বাঃ। শায়খের ইবারত পড়া তিনি মনযোগ সহকারে শ্রবণ করেন এবং আনন্দচিত্তে হযরত শায়খকে হাদীসের ইজাজত দান করেন। আরেকবার হাটহাজারী মাদ্রাসা ভিজিটে আসেন মদীনা ইউনিভার্সিটির শায়খুত তাফসীর  আল্লামা শায়খ উমর হাফিজাহুল্লাহ। তিনিও বুখারী শরীফের দারস দান করেন। আর হযরত শায়খই ইবারত পড়েন ও ইলমে হাদীসের ইজাজত লাভ করেন। হযরত শায়খ জীবনে বহুবার হজ্জব্রত পালন করেছেন। স্বপরিবারেও হজ্জ পালন করেন। ২০০৮ সালের কথা, শায়খ হজ্জব্রত পালনকালে মসজিদে নববীর ২য় তলায় قسم المخطوطات -চিঠিপত্র সংরক্ষণ বিভাগের কক্ষে একফাঁকে প্রবেশ করেন এবং রোমের রাজা হিরাক্লিয়াসের প্রতি প্রিয় নবীর প্রেরিত পত্রের/ চিঠির কোন হাতে লেখা কপি থাকলে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন এই বিভাগের দায়িত্বরত সবাই শায়খের দিকে বিষ্ময়ভরা চোখে অপলক নেত্রে হেরিতে থাকে। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর যখন শায়খ নীচে নেমে আসেন তখন উপর থেকে দ্রুত নেমে আসেন একজন সুদর্শন যুবক ( যিনি ছিলেন একজন বড়মাপের আলেম ও বিমানের একজন পাইলট) মাহদী বিন সালিম আনসারী দাঃ বাঃ সহ তার সঙ্গীরা এবং মসজিদে নববীর খালি জায়গায় ১০ টি হাদীসের কিতাব থেকে শায়খকে সেই মাহদী আনসারী সনদ ও মতনসহ ২০টি হাদীস শুনান ও শায়খের সনদে বর্ণনার ইজাজত প্রার্থনা করেন। শায়খ নিজেকে বাঙ্গালী ও আজমী বলে তার স্বভাবজাত কসর নফসী হিসাবে উপযুক্ত নয় বললেও তাঁর পীড়াপীড়িতে অবশেষে সনদ ও ইজাজত দিতে বাধ্য হন। শায়খের মদীনা ইউনিভার্সিটির শায়খ উমরের প্রসঙ্গ আসলে মাহদী বলে উঠেন শায়খ উমর সেখানে এখনও বিদ্যমান আছেন। হযরত শায়খ মক্কাতুল মুকাররমায় অবস্থিত জামেয়া উম্মুল কুরা সফরের আমন্ত্রণ পেলেও শেষ পর্যন্ত সময় সল্পতায় যেতে পারেননি।

২২ বছর বয়সে১৩৮৯ হিজরীতে দাওরায়ে হাদীসের সনদ লাভ করেন। শিক্ষা সমাপনের পর বাড়িতে আসেন এবং বিবাহের পিড়িতে বসেন। দাওরায়ে হাদীসের বছর শায়খের লেখাপড়াবস্থায় জামেয়া রেঙ্গার পক্ষ থেকে শায়খুল হাদীসের চাহিদা পেশ করলে  হাটহাজারী মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম আল্লামা আহমদ শফি দাঃ বাঃ এর নির্দেশে ১৩৯০ হিজরীতে জামেয়া রেঙ্গার শায়খুল হাদীসের মসনদে আসীন হয়ে কর্মজীবনের সুচনা করেন। রেঙ্গা মাদ্রাসায় তখন সিলেট থেকে ট্রেনযোগে মোগলাবাজার রেল ষ্টেশনে নেমে আসতে হতো। হযরত আহমদ শফি হাফিজাহুল্লাহ হযরত শায়খকে নিজের সঙ্গে করে রেঙ্গা মাদ্রাসায় নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে সিলেট রেল ষ্টেশনে পৌঁছে ট্রেন মিছ করলে আমীরে হেফাজত চলে যান সুলেমান খাঁ’র বাসায় এবং শায়খকে হাটহাজারী মাদ্রাসার বাৎসরিক রিপোর্টের কপি সঙ্গে দিয়ে পাঠিয়ে দেন শায়খে রেঙ্গা রহ.’র খেদমতে। সেই ১৩৯০ হিজরী ১৯৬৯ ঈসায়ী থেকে আজোবধী সূদীর্ঘকাল যাবৎ জামেয়া রেঙ্গার শায়খুল হাদীস পদে নিরবচ্ছিন্ন অবিরাম খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

লেখক. উস্তাদে মুহতারাম   মাও.তালেব উদ্দীন শমশের নগরী দাঃবাঃ

আহ, আজ তিনি চলে গেলেন! আমাদের ছেড়ে.....

 ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আমাদের  শায়খ, আমাদের প্রিয় উস্তাদ,
বৃহত্তর সিলেটের গর্ব,আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তা,লীম বাংলাদেশে,র দীর্ঘদিনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সিলেটের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জামিআ তাওয়াক্কুলিয়া রেঙা,সিলেট,র দীর্ঘ ৫২ বছরের শাইখুল হাদীস, হযরতুল আল্লামা শিহাবুদ্দীন চতুলী রাহিমাহুল্লাহ রাত ২ টার সময়   ইন্তেকাল করেছেন।

আহ! আমাদের কত আশা ছিলো, হুজুর আমাদের পাগড়ী পরিয়ে দিবেন? এখন আমাদের কে শান্তনা দিবে? হে আল্লাহ আমাদের শায়খকে মাফ করে দাও। জান্নাতের উচ্চ মাক্বাম দান করো,
 এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধরার তাওফীক দিন।আমীন।.

Sunday, May 26, 2019

*শবেকদরের ফযীলত ও আমল*

*শবেকদরের ফযীলত ও আমল*

 *বয়ানঃ শাইখুল ইসলাম মুফতী তকী উসমানী দাঃ বাঃ*

 *অনুবাদ ও সংকলন*
 *মুফতী মুহাম্মদ আব্দু মালেক*

 *শেষ দশকের গুরুত্ব*
শেষ দশক হলো গোটা রমযান মাসের নির্যাস। আল্লাহ তাআলা শেষ দশককে বিশেষ ফযীলত ও অপার মহিমা মণ্ডিত করেছেন। গোটা বছরে এমন বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত দিন আর দ্বিতীয় বার লাভ হয় না। রমযানের বিশতম রাত থেকে তা শুরু হয়। আল্লাহ তাআলা এতে তার রমহমত ও বরকতের খাযানা রেখে দিয়েছেন। তাতে মাগফিরাতের বাহানা খোঁজা হয়। বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির পরওয়ানা প্রদান করা হয়।

 *শেষ দশকে রাসূল সা.-এর অবস্থা*
এমনিতে গোটা রমযান মাসই পবিত্র ও বরকতময়। তার একেকটি মুহূর্তের মূল্য অনেক। কিন্তু বিশেষ করে এই শেষ দশ দিন বেশি গুরুত্ব রাখে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিভিন্ন হাদীসের আলোকে বুঝা যায়, শেষ দশ দিনে তাঁর অবস্থা ছিল নিম্নরূপ-
شَدَّ مِئْزَرَه وأحْيَ لَيْلَهُ وأيْقَظَ أهْلَهُ (صحيح البخاري، فضل ليلة القدر، باب العمل في العشر  الأواخر  من رمضان)
অর্থাৎ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর বেঁধে নিতেন তথা সারা রাত ইবাদতে কাটানোর জন্য তৈরি হয়ে যেতেন। নিজেও রাত জাগতেন, পরিবারের লোকদেরও জাগ্রত থাকার ব্যবস্থা করতেন।
সাধারণত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামায পড়তেন। তার রাকাতগুলো হত লম্বা লম্বা। তাহাজ্জুদে রাতের অর্ধেক, কখনো এক-তৃতীয়াংশ কাটিয়ে দিতেন। কিন্তু পবিত্র রমযানের শেষ দশ দিনের ব্যাপারে হযরত আয়শা রা. বর্ণনা করেন, তাতে ইবাদতের জন্য তিনি নিজের কোমর বেঁধে নিতেন।

 *সাধারণ সময়ে রাসূল সা.-এর তাহাজ্জুদ*
সাধারণ সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল তিনি তাহাজ্জুদের জন্য যখন উঠতেন-
اِنْتَعَلَ رُوَيْدًا، وَأَخَذَ رِدَاءَهُ رُوَيْدًا، ثُمَّ فَتَحَ الْبَابَ رُوَيْدًا (سنن النسائي، كتاب عشرة النساء، باب الغيرة)
অর্থাৎ ধীরে-ধীরে জুতা পরতেন, ধীরে-ধীরে চাদড় পরতেন, এরপর ধীরে-ধীরে দরজা খোলতেন। যাতে তাঁর উঠা এবং দরজা খোলার আওয়াজে আয়শা রা. এর নিদ্রায় বেঘাত না ঘটে।
কেননা তাহাজ্জুদ যেহেতু ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তাই তাহাজ্জুদের জন্য এমনভাবে উঠা উচিত যাতে অন্য কারো ঘুম না ভাঙ্গে, ফলে সে কষ্ট পাবে। কেউ আল্লাহর অনুগ্রহে জাগ্রত হওয়ার সুযোগ পেলে তার জন্য উচিত নয়, সমস্ত মহল্লাবাসীকে জাগিয়ে তোলবে বা পরিবারের সকলকে জাগ্রত করবে। নিজের তাহাজ্জুদের জন্য অন্য কারো ঘুমে বেঘাত ঘটানো কোনোভাবেই জায়িয হবে না। তাই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের জন্য এমনভাবে উঠতেন যাতে আয়শা রা.-এর ঘুম না ভাঙ্গে।

 *শেষ দশকে পরিবারের লোকদের জাগিয়ে তোলা*
কিন্তু রমযানুল মোবারকের শেষ দশকে তাঁর অভ্যাস ছিল, ঘরের সকল সদস্যদেরকেও জাগ্রত করতেন। তাদেরকে বলতেন, উঠ! শেষ দশক চলছে। এটা আল্লাহর কৃপার বসন্ত কাল। আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছে। এ সময়ও ঘুমিয়ে থাকা দুর্ভাগ্যের লক্ষণ। তাই জাগ্রত হয়ে আল্লাহ রহমত দিয়ে নিজেদের আচল ভর্তি কর।

 *শবেকদর*
এই শেষ দশকে ‘লাইলাতুল কদর’ নামে আল্লাহ তাআলা একটি রাত রেখেছেন। তা হাজার রজনী থেকেও উত্তম। শেষ দশকের কোনো না কোনো রাত শবেকদর হবে। এমন মহিমান্বিত রাত, এ রাতের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা পূর্ণ একটি সূরা নাযিল করে করেছেন। ইরশাদ করেছেন-
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
অর্থ : আমি কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে।
এরপর বলছেন- وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
অর্থ : লাইলাতুল কদর সম্পর্কে তুমি কি জান?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে, লাইলাতুল কদর সম্পর্কে তুমি কি জান। অর্থাৎ এর হাকীকত, আজমত ও ফযীলত তুমি নিজে থেকে জানতে পার না।
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ
অর্থ : লাইলাতুল কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
এক হাজার মাসে প্রায় সাতাশি বছর হয়। সাতাশি বছর থেকে শ্রেষ্ঠ এক হাজার মাস। অর্থাৎ সাতাশি বছর পর্যন্ত বিরামহীন ইবাদত করলে যে সওয়াব লাভ হবে এবং আল্লাহ তাআলা যে পরিমাণ অনুগ্রহ করবেন এক রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি তোমাদের লাভ হবে।

 *পূর্বের যুগে ইবাদতগুযারদের আয়ুকাল*
আল্লাহ এই রজনীকে হাজার রাত থেকেও শ্রেষ্ঠ কেন করেছেন? এর কারণ হলো, একদা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাদের মসলিসে অতীত উম্মতের ইবাদতগুযার বান্দাদের আলোচনা করেন এবং বলেন, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করত। সরাসরি কুরআনুল কারীমে হযতরত নূহ আ.-এর ব্যাপারে এসেছে-
فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا (سورة العنكبوت:১৪
অর্থাৎ হযতর নূহ আ. সাড়ে নয়শত বছর তার উম্মতের মাঝে অবস্থান করেছেন। এছাড়া অন্যান্য উম্মতও দীর্ঘ হায়াত লাভ করত। কারো আয়ুকাল ছিল পাঁচশত বছর। কারো সাতশত বছর। কারো এক হাজার বছর।

 *সাহাবায়ে কেরামের আক্ষেপ*
সাহাবাদের সামনে তাদের আয়ু কাল উল্লেখ করা হলে তারা আক্ষেপের সহিত বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তারা তো দীর্ঘ হায়াত লাভ করেছে। তাই ইবাদত-বন্দেগীরও বেশি সুযোগ পেয়েছে। তাদের নামায, রোযা, যিকির-তাসবীহ সকল ইবাদতের সংখ্যা বেশি হয়েছে। পক্ষান্তরে আমাদের আয়ুকাল তো খাট। আমরা যতই ইবাদত করি না কেন, তাদের সমান তো হতে পারব না। তবে কি আমারা তাদের থেকে পিছিয়ে যাব?

 *লাইলাতুল কদর কল্যাণে ভরপুর*
এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা উক্ত সুরা নাযিল করেন। তিনি বলেন, হে উম্মতে মুহাম্মাদী! তোমরা ঘাবরিয়ো না। তোমাদের আয়ুকাল কম হতে পারে, কিন্তু আমি তোমাদের জীবনের প্রতি বছর তোমাদেরকে এমন এক রাত দান করেছি, যদি তাতে ইবাদত-বন্দেগী করতে পার তবে তা হাজার রজনী থেকে উত্তম হবে।
এখানে আল্লাহ তাআলা خير [খায়ের] শব্দ ব্যবহার করেছেন। যারা আরবী ভাষা বুঝেন তারা জানেন, ‘খায়ের’ শব্দটি ‘অতি উত্তম’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। দেখুন! দুটি জিনিসের মাঝে উনিশ-বিশের পার্থক্য হলে সেই ক্ষেত্রে ‘খায়ের’ বলা যায় না। এরূপ বলা যায় না, উনিশ বিশের তুলনায় সহজ। বরং আকাশ-পাতালের পার্থক্য হলে সেই সময় ‘খায়ের’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। এরূপ বলা যায় আসমান জমিন থেকে শ্রেষ্ঠ।

 *হাজার মাসের চেয়ে কয়েক গুণ শ্রেষ্ঠ*
সুতরাং কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা যে বলেছেন-
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ
অর্থাৎ লাইলাতুল কদর হাজার রজনী অপেক্ষা উত্তম। এর এই অর্থ নয়, লাইলাতুল কদর এক হাজার মাসের সমান। এ অর্থও নয়, এক হাজার এক মাসের সমান। বরং এই রাত এক হাজার রজনী থেকে কয়েক গুণে শ্রেষ্ঠ। যার হিসাব আমরা করতে পারব না।

 *এ নেয়ামত অনুসন্ধান করতে হবে*
আল্লাহ তাআলার হেকমত হলো এত বড় নেয়ামত যদি এমনিতেই দিয়ে দেয়া হত তাহলে তার অবমূল্যায়ন হত। এ জন্য বলেছেন, এ নেয়ামত হাসিল করার জন্য সামান্য কষ্ট করতে হবে। তাহলো আমি তোমাদেরকে এটা বলব না শবেকদর কোন রাতে? তবে এতটুকু বলব, এটি শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে। অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখের কোনো এক রাতে এই শবেকদর সংঘটিত হবে। আর এটাও আবশ্যক নয়, এক বছর শবেকদর ২১ তারিখে হলে পরের বছরও ২১ তারিখেই হবে। বরং এমন হতে পারে, এক বছর একুশ তারিখে হবে। পরের বছর হবে সাতাশ তারিখে। বিভিন্ন রাতে পরিবর্তন হতে পারে। তাই শবেকদর পেতে হলে এবং তার ফযীলত লাভ করতে হলে পাঁচ রাতেই জাগতে হবে। আসলে এই বিশাল নেয়ামত লাভ করার জন্য পাঁচ রাত জেগে থাকা তেমন কোনো ব্যাপার নয়।

 *শবেকদর নির্দিষ্ট না করার হিকমত*
আল্লাহ তাআলার তার প্রিয়নবী এবং প্রিয়নবীর উম্মতের সাথে বিশেষ একটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। দিবেন তো ঠিক, কিন্তু এটাও চাননি, একেভারে মুফতে মিলে যাক। সহজেই সাতাশি রাতের ইবাদত এক রাতে লাভ হয়ে যাক। তিনি সামান্য মেহনত করাতে চেয়েছেন। তাহলো এই শবেকদর রমযানে হবে। তাও শেষ দশকের বেজোর রাতে। এখন এই এক রাত অনুসন্ধানের জন্য পাঁচ রাতে মেহনত করতে হবে। পাঁচ রাতে মেহনত করলে কোনো না কোনো রাতে শবেকদর লাভ হয়ে যাবে। এটা ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মনজুর।
কিন্তু আল্লাহ তাআলার তার প্রিয়নবী এবং তার উম্মতের সাথে এক ভিন্ন রকমের আচরণ করেছেন। প্রথমে বলে দিয়েছেন, অমুক নির্দিষ্ট তারিখে শবেকদর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাইলেন, উম্মতকে তা জানাতে। কিন্তু বলার জন্য যখন বের হলেন তখন দুইজন লোকের মাঝে ঝগড়া হচ্ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেই ঝগড়ার কুফল এ হলো, আমি যে রাতের কথা বলতে চেয়েছিলাম তা ভুলে গেছি। এটাই এ উম্মতের সাথে একটি ভিন্ন আচরণ ছিল, প্রথমে সুনির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছেন। পরে আবার ভুলিয়ে দিয়েছেন। ভুলার কারণও ছিল দুই মুসলমানের মাঝে ঝগড়া। এ কথা বলা উদ্দেশ্য, মুসলমানদের মাঝে ঝগড়া এমন খারাপ জিনিস, তার কারণে এমন বিশাল ফযীলত সহজে লাভ করার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।

 *নামায পঞ্চাশ থেকে পাঁচ ওয়াক্তে কমিয়ে আনার হেকমত*
এমনই একটি বিষয় হলো, পাঁচ ওয়াক্ত নামায। শুরুতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত ফরজ করা হয়েছিল। অথচ মঞ্জুর ছিল, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ করা। পঞ্চাশ ওয়াক্ত নিয়ে যখন মুসা আ.-এর কাছে পৌঁছিলেন, তিনি বললেন, আরো কমিয়ে নিয়ে আসেন। উম্মতের জন্য এটা কঠিন হয়ে যাবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কমিয়ে নিয়ে আসলেন। আবার বললেন, আরো কমিয়ে আনুন। আরো কমিয়ে আনলেন। সর্বশেষ পাঁচ ওয়াক্ত রয়ে গেল।
আল্লাহর কি জানা ছিল না, পঞ্চাশ ওয়াক্ত এই উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে। কিন্তু তা বলেছেন, মুসা আ.। এটাই এই উম্মতের সাথে আল্লাহ তাআলার ভিন্ন রকমের আচরণ। এটা মহব্বত ও ভালোবাসার আচরণ। এর পিছনে অনেক হেকমত রয়েছে। মঞ্জুর তো ছিল পাঁচ ওয়াক্তই। কিন্তু পাঁচ নামাযে পঞ্চাশ নামাযের সওয়াব দেয়া উদ্দেশ্য ছিল। তাই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। পঞ্চাশ বলে কমাতে কমাতে পাঁচ ওয়াক্ত করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া উম্মতের প্রশান্তি লাগবে যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করে পঞ্চাশের বদলে পাঁচ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন। শবেকদরেও এমনই হয়েছে। প্রথমে নির্দিষ্ট করে বলেছেন। পরে ভুলিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন হিকমতে।

 *শবেকদর হাসিল করার উপায়*
এই রাত হাসিল করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো, ইতেকাফ করা। ইতেকাফ অবস্থায় শুয়ে থাকলেও তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। ফলে শবেকদর নিশ্চিতভাবে মিলে যাবে। ইতেকাফ সম্ভব না হলে অন্তত পক্ষে এই পাঁচ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করবে।

 *এই রাত যেভাবে কাটাবে*
অনেকে এই রাতে অহেতুক সময় নষ্ট করে। আবার কেউ কেউ গুরুত্ব দেয় এবং নেকের কাজে কাটানোর চেষ্টা করে বটে কিন্তু বাস্তবে তা হাসিল করতে পারে না। এই রাতকে আল্লাহ তাআলা দান করেছেন, নির্জনে আল্লাহর দরবারে নিজেকে সমর্পণ করতে। ইবাদত, নামায, যিকির-তাসবীহ, তেলাওয়াত ও দোয়া করতে।
এ রাতে সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হলো, লম্বা লম্বা সুরা দিয়ে নফল নামায পড়া। সেই নফল নামাযে কিয়াম লম্বা করবে। রুকু-সেজদা লম্বা করবে। তাতে মাসনূন দোয়াগুলো পাঠ করবে। দ্বিতীয় নম্বরে তিলাওয়াত করা। তৃতীয় নম্বরে যিকির ও তাসবীহ পাঠ করা। যথা : سُبْحانَ اللهِ بِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ العَظِيْم চলতে ফিরতে পড়তে থাকবে। কালিমায়ে সুয়াম পড়বে। দরূদ শরীফ পাঠ করবে। ইস্তেগফারের বাক্য পাঠ করবে।
এছাড়া দোয়া করবে। কেননা এ রাতে দোয়া আল্লাহর নিকট বিশেষভাবে প্রিয়। তাই সকল প্রয়োজন আল্লাহর দরবারে পেশ কর। পার্থিব কোনো কিছু চাইলেও সওয়াব পাবে। উদাহরস্বরূপ, দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমার ঋণ পরিশোধ করে দাও! এটা পার্থিব প্রয়োজন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এতেও সওয়াব দান করবেন। বা দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমার হালাল রোযগারের ব্যবস্থা করুন! এটাও পার্থিব বিষয়। কিন্তু এতেও সওয়াব দেয়া হবে।

 *এই রাত ওয়াজ-মাহফিলের জন্য নয়*
অনেকে এই রাতে ইজতেমায়ী কাজ করে। মাহফিল ও অনুষ্ঠানের  এন্তেজাম করে। বক্তা দাওয়াত করে। ঘোষণা হয়, আজ অমুকের বয়ান হবে। তাবারকের ব্যবস্থা থাকবে। পুরো সময় এর পিছনেই ব্যয় হয়ে যায়। অথচ এটি হলো আমলের রাত। এ রাতের ফযীলত এবং ইবাদত-বন্দিগীর তরীকা শিখানোর জন্য জলসা করতে হলে আগে করবে। এই রাত আসলে শুধু ইবাদত করবে। এই রাতে জলসা করার অর্থ হলো, যুদ্ধের ময়দানে নেমে ট্রেনিং দেয়া। অথচ কর্তব্য ছিল আগেই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থ করা। ময়দানে এসে লড়াই না করে ট্রেনিং নিতে থাকলে মহা বিপর্যয় ঘটবে। একইভাবে এই রাত হলো আমলের রজনী। একে জলসা ও বয়ানের মাঝে কাটিয়ে দেয়া সময়ের অবমূল্যায়ন।

 *এটি নির্জনে কাটানোর রাত্রি*
এটি হলো নির্জনে আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ার রাত্রি। তাতে আল্লাহর নিকট দোয়া ও আবেদন-নিবেদন করবে। চেষ্টা করবে নির্জনে ইবাদত করতে। একেকটি মুহূর্তকে গনীমত মনে করবে। আর মানুষ এ রাতকে যেভাবে অনুষ্ঠানে রূপ দিয়েছে তা থেকে বেঁচে থাকবে।
শরীয়তের দৃষ্টিতে নফল নামায সম্মিলিতভাবে আদায় করা অপছন্দনীয়। তাই এ রাতে যে সবীনার রসম রয়েছে তাও অপছন্দনীয়। উত্তম হলো, নির্জনে ইবাদত করা। এসকল সবীনাতে অনেক খারাবী রয়েছে। অবশ্য কেউ যদি আশংকা বোধ করে একা একা ইবাদত করলে ঘুমিয়ে পড়বে। মোটেই ইবাদত হবে না, সে মসজিদে এসে ইবাদত করতে পারে। যাতে তার ঘুম চলে যায়। তথাপি মনে রাখতে হবে নির্জনে ইবাদতে যে ফযীলত লাভ হবে তা মসজিদে লাভ হবে না। একান্ত অপারগতা থাকলে ভিন্ন কথা।

 *সকল কাজ সীমারেখার ভেতর রাখবে*
আল্লাহ তাআলা সব জিনিস তার সীমারেখায় রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ফরজ নামাযের ব্যাপারে তাগিদ করা হয়েছে মসজিদে এসে জামাতের সাথে আদায় করতে। পক্ষান্তরে নফল নামাযের ব্যাপারে তাগিদ করা হয়েছে ঘরে নির্জনে আদায় করতে। এ কারণে নফলের জামাত জায়েয নেই। মোটকথা যখন শরীয়তের দিকে আসবে তখন শরীয়তের বিধি-বিধান বিবেচনায় রাখতে হবে। দীনের উপর আমল করার জোশে শরীয়তের বিধান লঙঘন যেন না হয়ে যায় তার প্রতি সজাগ থাকতে হবে।

 *এটি প্রার্থনার রাত*
এ রাতে দোয়ার প্রতি মনোযোগ দিবে। দোয়া করবে দীনের বিষয়ে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে, জীবিকার বিষয়ে, দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে। এ সব আবেদন আল্লাহ দরবারে পেশ করবে। দোয়া করবে হে আল্লাহ! তুমি নিজ অনুগ্রহে আমাদের অবস্থা ঠিক করে দাও। এভাবে রাতটি কাটাতে পারলে এ রাত হবে বরকতময়, রমযানও হবে মোবারক। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে রমযানের একেকটি মুহূর্ত সঠিকভাবে কাটানোর তাওফীক দান করুন।

 *রমযান সঠিকভাবে কাটিয়ে দাও*
রমযানের শুরুতে বলেছিলাম, এক হাদীসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন-
مَنْ سَلِمَ لَهُ رَمَضَانُ سَلِمَتْ لَهُ السَّنَةُ
অর্থ : যার রমযান মাস নিরাপদে কাটল তার সারা বছর নিরাপদ থাকবে।
তাই রমযানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে চেষ্টা করবে তা নিরাপদে কাটাতে। নিরাপদে কাটানোর অর্থ হলো তাকে গুনাহমুক্ত রাখা। তাই চেষ্টা করবে তাতে যেন চোখের গুনাহ না হয়। যবানের গুনাহ না হয়। হাত-পা দিয়ে কোনো গুনাহ না হয়। এভাবে রমযান কাটাতে পারলে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, ইনশাআল্লাহ বছরের বাকি দিনগুলোও এভাবেই কাটবে। আল্লাা আমাকে এবং আপনাদের সকল তাওফীক দান করেন। আমীন।
 *[‘ইসলাহী খুতুবাত’ থেকে অনূদিত এবং ইন্টানেটের বয়ান থেকে সংযোজিত]*

Friday, February 8, 2019

প্রসঙ্গ তাবলীগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা: অতীতের মূল্যায়ন ও আগামীর ভাবনা: আল্লমা মামুনুল হক্ব

প্রসঙ্গ তাবলীগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা:
অতীতের মূল্যায়ন ও আগামীর ভাবনা
---------------------------------------------------------
তাবলীগ জামাত বিষয়ে বাংলাদেশের আলেম সমাজ এ যাবৎ যা কিছু করেছেন তাবলীগ জামাতের প্রতি তাদের মাত্রাতিরিক্ত আবেগ ও ভালোবাসা থেকেই করেছেন এবং মোটের উপর বলা যায় একাজ তারা ইখলাস ও ঐকান্তিকতার সাথেই করেছেন ৷ তবে যা কিছু করেছেন সবটাই যে নির্ভুল এবং শতভাগ সঠিক করেছেন এমনটা দাবি করার শক্তিশালী কোন যুক্তি নেই ৷ তবে দীর্ঘ এই কার্যক্রমের এখন একটি উপসংহারে উপনীত হবার পর্যায় এসেছে ৷ এ পর্যায়ে অতীতের কর্মকাণ্ডগুলোকে পর্যালোচনায় এনে ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যধিক জরুরি ৷ সেটা করা না গেলে অতীতের অর্জনগুলোই শুধু ভন্ডুল হবে না, বরং আগামীতে তাদেরকে সমূহ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে ৷ ওলামায়ে কেরাম এর কার্যক্রম ও তাবলীগ জামাতের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি কে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পর্যালোচনা, আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণ, আলেম-ওলামা ছাত্রজনতা ও তাবলীগের সাধারণ সাথী সকলের জন্যই জরুরী-

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপিত হওয়ার পরই বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম নড়েচড়ে বসেন ৷ প্রথমেই কাকরাইলের দায়িত্বশীলদেরকে এ বিষয়ে তাদের অভিযোগের কথা জানান এবং মাওলানা সাদ কে বাদ দিয়ে বিশ্ব ইজতেমা এবং তাবলীগ জামাতের কাজ পরিচালনার জন্য অনুরোধ করেন ৷ কিন্তু সাদপন্থী ওয়াসিফুল ইসলাম গং নানা ধরনের ছলচাতুরি ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে যে কোন মূল্যে মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আনার এবং তার চিন্তা-দর্শনের উপর তাবলীগ জামাতের কাজ পরিচালনার চেষ্টা চালাতে থাকেন ৷ এক পর্যায়ে তাদের এই অপতৎপরতা প্রতিহত করতে ওলামাযে কেরাম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন ৷ এটি ছিল তাবলীগ জামাত সংক্রান্ত আলেম সমাজের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ৷ ওলামায়ে কেরামের এভাবে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে কারো কারো আপত্তি থাকলেও বাস্তবতা হল- আলেমগণ যদি শক্ত হাতে বিষয়টিকে প্রতিহত না করতেন তাহলে বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের কাজ মাওলানা সাদ সাহেবের নিয়ন্ত্রণ এবং তার বিভ্রান্ত ধারায় পরিচালিত হয়ে পড়তো ৷ মূলত বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামের বাধার মুখেই মাওলানা সাদ সাহেব এবং তার অনুসারী গ্রুপ মূলধারা থেকে ছিটকে পড়ে এবং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ৷ সারা পৃথিবীতে মাওলানা সাদ অনুসারীদের কাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয় ৷ যদি তখন মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনকে রুখে দেওয়া না যেত তাহলে বাংলাদেশে সাদপন্থী বিভ্রান্ত লোকের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেত ৷

দ্বিতীয় কাজ যেটি ওলামায়ে কেরাম করেছেন সেটি হল- তাবলীগের অভ্যন্তরে ওয়াসিফুল ইসলাম এবং নাসিম সাহেব এর দাপটে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে থাকা সিংহভাগ আলেম মুরব্বীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ৷ তাদের সহযোগিতা করেছেন ৷ মাঠে ময়দানে তাদের সঙ্গে কাজে শরিক হয়েছেন ৷ এতে করে তাবলীগ জামাতের জিম্মাদার ওলামায়ে কেরাম এবং শূরাপন্থী তাবলীগ জামাতের সাথীরা সংগঠিত ও কাজ গুছিয়ে নিতে পেরেছেন ৷ আলেম সমাজ তাদের পক্ষে না দাড়ালে নিরীহ তাবলীগের সাথীদেরকে এতাআতী গ্রুপের উগ্রপন্থীরা তাবলীগের কাজ থেকে বিদায়ের পায়তারা করত ৷  ফলে তাবলীগের কাজ বাংলাদেশে একতরফা বিভ্রান্তির পথে পরিচালিত হতো ৷

তাবলীগের প্রচলিত এই বিরোধে ওলামায়ে কেরাম তৃতীয় যে কাজটি করেছেন তা হল ব্যাপকভাবে মাওলানা সাদ সাহেবের ভ্রান্তির বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং মাঠে ময়দানে কাজে-কর্মে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা এবং এই বিভ্রান্তির পথে পরিচালিত গ্রুপটির কার্যকলাপকে যতটা সম্ভব ময়দান থেকে উৎখাত করা যায় সে ব্যাপারে নিয়মতান্ত্রিক ও প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে তাদেরকে প্রতিহত করা ৷ এই ধারাবাহিকতায় তাদের হাত থেকে বিভিন্ন মারকাজ এবং তাবলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কে হেফাজত করার চেষ্টা চালানো হয় ৷ এটা করতে গিয়েই মূলত ১ লা ডিসেম্বর হামলার শিকার হয় আলেম-ওলামা নিরীহ ছাত্র জনতা ও তাবলীগের সাধারণ সাথীরা ৷ যদিও এই রক্তক্ষয়ী হামলায় ব্যাপকভাবে আলেম-ওলামা মাদরাসাছাত্রদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, রক্ত ঝরেছে, জীবন বিপন্ন হয়েছে ৷ কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে এতাআতীদের মুখোশ জাতির সামনে খুলে পড়েছে ৷ ফলে তারা সাধারণ মানুষের কাছে ধিকৃত হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়েছে ৷
মূলত একটি পর্যায় পর্যন্ত এই ওয়াজাহাতি কার্যক্রম, মাওলানা সাদ সাহেবের ভ্রান্তচিন্তার অপনোদন ও এতাতীসম্প্রদায়ের আলেম বিদ্বেষী স্বরূপ তুলে ধরা একান্তই প্রয়োজন ছিল ৷ এই সকল কর্মতৎপরতায় মূলত সাদপন্থীরা তাবলীগ জামাতের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রূপ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে ৷ ব্যাপকভাবে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে উঠেছে ৷ ওলামায়েকেরাম যদি এই পদক্ষেপটি না নিতেন সারাদেশের মসজিদ এবং মাহফিলের মেম্বারগুলো থেকে যদি এই প্রচারণা না চালাতেন তাহলে তাদের বিভ্রান্তি আরো অনেক বেশি বিস্তৃত হত ৷ সর্বশেষ ১ লা ডিসেম্বর  তাদের নিশংস হামলাযজ্ঞের পর তাদেরকে যেভাবে জাতির সামনে চিহ্নিত করা গিয়েছে এটিও তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ তারা কোন বিবেচনায় এমন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছিল আর এমন নৃশংস আক্রমণ করেছিল তা তারাই ভালো জানে ৷ তবে এর মাধ্যমে এই ফেতনা অনেকটাই  চুপসে গেছে ৷

তাবলীগ জামাতের চলমান এই ফিতনা নির্মূলে ওলামায়েকেরাম চতুর্থ যে কাজটি করেছেন সেটি হল প্রশাসন ও সরকারকে এ ব্যাপারে সচেতন করার চেষ্টা করা এবং প্রশাসন ও সরকারের মধ্যস্থতা ও সহযোগিতায় মাওলানা সাদ সাহেবের বিভ্রান্ত চিন্তা থেকে বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে এবং তাবলীগ জামাতকে হেফাজত করার চেষ্টা করা ৷ দুই পক্ষের বিরোধ ও নানা আনুষঙ্গিক কারণে তাবলীগ জামাতের বিষয়টিতে সরকার ও প্রশাসনও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে এবং এখন বিশ্ব ইজতেমা ও কাকরাইলের অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাবলীগ জামাতের কাজের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সরকারের হাতে ৷ ওলামায়েকেরাম অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাসে সরকারের উপর আস্থা রেখে চলেছেন ৷ অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতায় ফিতনার মুকাবেলা করতে চাচ্ছেন ৷ কিন্তু তারা বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন, খোদ এই জাতীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতায় দীনী কাজ করা মস্ত বড় এক ফিতনা ! হুকুমত বা সরকার যত ভালোই হোক না কেন, তারা যখন কাউকে কোনো সহযোগিতা করে, সুযোগমত এর কয়েকগুন বিনিময় উসূল করে ছাড়ে ৷ নিজেদের অনৈতিক ও অন্যায় সুবিধা হাসিল করে নেয় ৷ এজন্যই আলেমসমাজকে সরকারের দুয়ারে ধর্ণা দিতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে ৷ দেওবন্দের উসুলে হাশতেগানার মধ্যে মাদ্রাসা পরিচালনার মতো নিছক এবং নিরেট দীনী কর্মকাণ্ডেও সরকারের কোন অনুদান গ্রহণ কিংবা কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতাকে পরিহার করার নীতি রাখা হয়েছে ৷ কেননা সরকারি আনুকূল্য লাভ করতে গিয়ে অনেক চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হয় ৷ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আলেম সমাজ দুটি বিষয়ে সরকারের আনুকূল্য লাভে দেনদরবার ও নানা রকম তদবির পরিচালনা করেছেন ৷ তার প্রথমটি হলো কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি, যা কেবল দাবি আদায় ও অধিকার হিসেবে পাওনা ছিল ৷ কিন্তু বোর্ডের পারস্পরিক বিরোধের জের ধরে কিভাবে কোন পক্ষ স্বীকৃতি আদায় করবে সেটা ছিল অনেকটাই সরকারের আনুকূল্যের বিষয় ৷ সেই আনুকূল্য হাসিল করার জন্য অনেক তোষামোদি করা হয়েছে ৷ দ্বিতীয় যে বিষয়ে কওমি ওলামায়ে কেরাম সরকারের আনুকূল্য লাভের অধিক পরিমাণ আগ্রহী ছিলেন সেটি হল দাওয়াত এবং তাবলীগের কাজ ৷ সরকার দুটি বিষয়েই একটা পর্যায় পর্যন্ত আনুকূল্য ও কৃপার দৃষ্টি দিয়েছে ঠিক, কিন্তু সেটি বিনিময় ও শর্তহীন ছিল না ৷ শোকরানা মাহফিল ও শাপলার দায় অস্বীকারের মাধ্যমে তার বিনিময় আদায় করে নিয়েছে ৷ এভাবে যদি তাবলীগ জামাতের কাজে সরকারের দাক্ষিণ্য গ্রহণ করার তৎপরতা অব্যাহত থাকে তাহলে এমন আরও বহু আত্মমর্যাদাবিরোধী ঘটনা আমাদেরকে প্রত্যক্ষ করতে হবে ৷
যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে কি আলেমসমাজ সরকারের সাথে সম্পর্ক রাখবে না ? কোন বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা নিবে না ? এই প্রশ্নের কোরআন সুন্নাহ, ইসলামী ঐতিহ্যের ইতিহাস ভিত্তিক উত্তর হল, আলেমসমাজ সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে  তাদেরকে যাবতীয় অন্যায় অনাচার থেকে বিরত রাখার জন্য, যতটা সম্ভব ভালো কাজে তাদেরকে অগ্রসর করার জন্য, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিজেদের কার্যকলাপ পরিচালনা করার জন্য নয় ৷ আর সেটা তত বেশি সম্ভব হবে যত বেশি আলেমসমাজ সরকারের প্রতি অমুখাপেক্ষি থাকবে ৷

তাবলীগ জামাতের চলমান সংকটে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি বিষয়ে লক্ষণ ভালোই মনে হচ্ছে-তাবলীগ জামাত নিয়ে সরকারের লুকোচুরি ও সর্বশেষ ভূমিকায় যদি আমাদের মোহভঙ্গ ঘটে !
চলমান সংকটে কিছু ভুল সমীকরণ করা হয়েছিল ৷ মাওলানা সাদপন্থীদের শক্তিমত্তার বিষয়গুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়নে করা হয়নি ৷  তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে যথেষ্ট ক্ষমতার মালিক ৷ তারা যে কোনো মূল্যে তাদের এই সকল শক্তি,  ক্ষমতা, তদবীর ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক ৷ এক্ষেত্রে আলেম সমাজ তাদের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদী সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে নিজেদের কাজে ব্যঘাত ঘটবে ৷ ওৱামায়ে কেরাম তাদের যাবতীয় ভ্রান্তি জনসম্মুখে প্রচার করে দিয়েছে, মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে আর যতটুকু অবশিষ্ট ছিল সেটা ১ লা ডিসেম্বর হিংস্র ও নগ্ন হামলার মাধ্যমে নিজেরাই স্বরূপ প্রকাশ করে দিয়েছে ৷
এখন ওলামায়ে কেরামের নিজেদের কাজে নিজেদের মতো করে মনোনিবেশ করাই শ্রেয় ৷ তাবলীগের ভেতর এবং বাহিরের সকল আলেম-ওলামা মিলে আগামী দিনের তাবলীগের কাজের রূপরেখা তৈরি করা এবং কুরআন-সুন্নাহ ও তিন হযরতজ্বীর অামলের নমূনা সামনে রেখে  দাওয়াতের আজিমুশশান এই কাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ময়দানে নেমে পড়তে হবে ৷ ওলামা ও তোলাবা ব্যাপকভাবে কাজে অংশগ্রহণ করে কাজের শূন্যতা পূরণ করাতে হবে ৷ আর অন্যান্য বাতিলপন্থীরা যেভাবে নিজেদের হালতের উপর চলছে, বেদআতি, মাযহাব বিরোধী, ভন্ড দেওয়ানবাগী, রাজারবাগী, কুতুববাগী, চন্দ্রপুরী, আটরশী ও মাইজভান্ডারীদের মতসাদপন্থীদেরকেও নিজেদের হালতে ছেড়ে দিলেই চলবে ৷ মানুষের সামনে হকের পরিচয় তুলে  ধরার পর  বাতিলের ব্যাপারে সতর্ক করন ছাড়া আর কি করণীয় থাকতে পারে? প্রত্যক্ষ ময়দানে তাদেরকে সকল ক্ষেত্রে প্রতিরোধ প্রতিহত করা আলেম সমাজের পক্ষে সম্ভব নয় ৷ সুতরাং এ পথে আর বেশিদূর পথচলা কল্যাণকর হবে বলে মনে করি না ৷ এজতেমার ময়দান ও কাকরাইল নিয়ে বিরোধ মিটিয়ে কাজে ঝাপিয়ে পড়তে হবে ৷ আর মসজিদে মসজিদে স্থানীষভাবে সাধারণ মানুষকে এদের ব্যপারে সচেতন করতে হবে ৷ তাবলীগের মুরুব্বী হযরত মাওলানা জুবায়ের সাহেব যেমনটি বিভিন্ন সভায় বলেছেন যে, হক ও বাতিল কখনই একসাথে চলতে পারে না ৷ হয় বাতিলপন্থীদের কে নিজেদের বাতিল পরিহার করে হকের পথে ফিরতে হবে অন্যথায় ভিন্ন ভিন্ন পথ বেছে নিতে হবে ৷

Thursday, November 1, 2018

*তাবিজের শরয়ী ববিধান*

*তাবিজের শরয়ী ববিধান*


কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাবিজ দেয়া ও ব্যবহার করা বৈধ।  সাহাবায়ে কেরাম রা. তাবিজকে বৈধ জেনেছন এবং ব্যবহারও করেছেন।

রাসুল সা. ভয়ভীতি থেকে বাঁচার জন্য  সাহাবায়ে কেরাম রা. কে এই দোয়া শিক্ষা দিতেন

أَعُوذُ  بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ ، وَعِقَابِهِ ، وَشَرِّ عِبَادِهِ ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ ، وَأَنْ يَحْضُرُونَ

হযরত ইবনে উমর রা. তার বুঝমান ছোট বাচ্চাদের এই দোয়াটি শিক্ষা দিতেন, আর যারা অবুঝ শিশু তাদের গলায় তা লিখে ঝুলিয়ে দিতেন।
- আবু দাউদ: ২/৫৪৩।
এর থেকে প্রমাণিত হয় সাহাবাগণ তাবিজ ব্যবহার বৈধ জানতেন।

অবশ্য কোনো কোনো হাদীসে তামিমা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তামিমা ঝুলায় সে শিরক করল।
এখন সেই তামিমা দ্বারা উদ্দেশ্য কী?
আব্দুল ওহাব নজদী ও তার ভক্ত অনুসারীগণ প্রচলিত তাবিজকেই সেই তামিমা আখ্যায়িত করে, তাবিজকে নাজায়েয বলার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। অথচ তা সম্পূর্ণ ভুল।

এ ব্যাপারে সাহাবাগণের মতামত লক্ষ্য করুন!
হযরত আয়েশা রা. বলেন বিপদ আসার পরে যা গলায় ঝুলানো হয় তা তামিমা নয়।
-সুনানে বাইহাকী ৯/৩৫

আরবী ভাষাবিদ ও মুহাদ্দিসগণ উল্লেখ করেছেন যে, তামিমা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা জাহেলী যুগে মুশরিকরা ( সরাসরি তামিমাকে ক্রিয়াশীল মনে করে) বাচ্চাদের গলায় ঝুলাতো।
-আল মুগরিব, ১/১০৭
তাহজিবুল লুগাত ১৪/২৬০

সুতরাং বুঝা গেলো নিষিদ্ধ হলো জাহেলী যুগের তামিমা বা তাবিজ, যা মুশরিকরা সরাসরি ক্রিয়াশীল মনে করতো।

পক্ষান্তরে যার মধ্যে নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পাওয়া যাবে তা নিষিদ্ধ নয়। তাকে শিরক বলা স্থুল বুদ্ধিতা ও কুরআন-হাদীস সম্পর্কে অপরিপক্কতার নামান্তর।

১)  আল্লাহর উপর পূর্ন বিশ্বাস রাখা এবং তাবিজকে অষুধের মতো শুধু উপকরণ হিসেবে বিশ্বাস করা।
২) কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও সীফাত ইত্যাদি দ্বারা তাবিজ করা।
৩) কুফুরী বা এমন শব্দ ব্যবহার না করা যার অর্থ জানা যায় না।

উল্লেখ থাকে যে কোরআনে কারিমের বিভিন্ন আয়াত বা সূরার নকশা বানিয়ে সেটা দিয়ে তাবিজ দেওয়া জায়েজ আছে।

Saturday, September 8, 2018

পরীক্ষায় A+ / মুমতাজ পাওয়ার দারুন কৌশল৷ 

পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ বা চিন্তা থাকাটাই স্বাভাবিক। এই চিন্তা বা উদ্বেগই পরীক্ষায় ভালো করার মূল চালিকাশক্তি। পরীক্ষা নিয়ে যার কোনো ভাবনাই নেই তার প্রস্তুতিতে যথেষ্ট ঘাটতি থেকে যায়। পড়ালেখা থাকলেই পরীক্ষা থাকবে। এর থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই। আর তাই পরীক্ষায় ভাল ফলাফল সবারই কাম্য। তবে শুধু পড়ালেখা করে পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য কিছু কৌশল বা ‘‘strategy” অনুসরণ করতে হয়। তেমন কৌশল নিয়েই আমাদের এই ভিডিও এর জন্য আপনাকে দৈনিক ৭/৮ ঘন্টা পড়তে হবে (সকালে ২.৩০ ঘন্টা, বিকাল ১.৩০, রাত ৩/৪ ঘন্টা)। গুরুত্বপূর্ণ বা আপনি কম বুঝেন এরকম বিষয়গুলোকে প্রায়োরিটি দিয়ে একটা রুটিন বানান... রুটিন সাধারণ নিয়মে হবেনা, প্রত্যেকটা বিষয় প্রতিদিন থাকতে হবে। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে যেদিন যে পরীক্ষা তার আগের দিন শুধু ঐটা পড়বেন। পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেনো পুরো সিলেবাস রিভাইস করতে পারেন। সকালে উঠে রাতে পড়া বিষয়গুলোর মধ্যে যে যে টপিক অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ শুধু সেগুলোই আবার রিভাইস দিবেন। আত্মবিশ্বাস: পরীক্ষার হলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হল আত্মবিশ্বাস। পরীক্ষার আগে তুমি যা যা পড়েছো তা সঠিকভাবে খাতায় উপস্থাপন করে আসাটাই মাথায় রাখবে শুধু। আর কিছু নয়! যা শিখে গেলে তা যদি অতিরিক্ত টেনশনে ভুলে গিয়ে লিখে দিয়ে আসতে না পারো তাহলে লাভ নেই। পড়াশোনা আর পরীক্ষা শব্দ দুটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিকে ছাড়িয়ে আরেকটি কল্পনা করা যায় না। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখে ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না। আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। পরীক্ষা ছাড়া যেমন কি পড়াশোনা করলে তা মূল্যায়ন করা যায় না তেমনি পড়াশোনা না করলে পরীক্ষাতেও তুমি যথাযথ মূল্যায়ন পাবেনা। তোমার পড়াশোনার পরিমাণের উপর নির্ভর করবে তোমার পরবর্তী কর্ম জীবনের সফলতা। আর পরীক্ষার হলে একটু সচেতন থাকলে আর যা কিছু পড়েছো তা ভালভাবে পরীক্ষার খাতায় লিখে আসতে পারলে আশানুরূপ ফলাফল পাবে আশা করা যায়। আর একটি কথা মনে রাখবে ই আর সবশেষ টিপস হলো দুশ্চিন্তা একদমই করবেননা আর আত্মবিশ্বাস হারাবেননা। আপনার কিছু জানার থাকলে বিস্তারিত লিখে কমেন্ট করুন I ফিরতি কমেন্ট এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে I 

Friday, August 17, 2018

বিবাহ স্বরণীকা

বিবাহ স্মরণীকায় যা লিখা যাবে নিজের ইচ্ছা মত!!!

রোজ অমুক বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ব হন/ যুগল জীবনের শুভ সূচনা হয়৷

যে বাক্য গুলা লিখা যাবে তা হলো:
আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি এই যে,তিনি তোমাদার জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে স্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন,যেন তোমরা তাদের হতে শান্তি লাভ করো,আর তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি সৃষ্টি করেছেন৷এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে৷
সূরা রুম, আয়াত:21

2/ দুনিয়ার সব কিছুই সম্পদ তবে দুনিয়ার সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে,পূণ্যবতী রমনী৷
3/আল্লাহ পাক প্রতিটি নর নারীকে,একেকটি জুটি হিসাবে সৃষ্টি করেছেন৷
4/ তোমাদের জন্মের পূর্ব হইতে এ মিলন নির্দারন করা হয়েছে৷
5/ যে স্ত্রী স্বমীর কাছে উত্তম,সে আল্লার কাছেও উত্তম৷
6/ তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম,যে স্বীয় স্ত্রীর নিকট উত্তম৷
আর আমি মুহাম্মাদ সা: আমার পণ্থীদের নিকট তোমাদের সকলের চেয়ে উত্তম৷
7/
আজ হলো তোমাদের শুভ পরিনয়, একে অন্যর মন করে নিয় জয়৷নব দুটি জীবনের আজ হলো সূচনা সূখে থাক সূখী হও এই মোর কামনা৷
উপমা স্বরুপ:
রোজ শুক্রবার আমার প্রিয় বন্দু নিঃসাতোর আঙ্গিনা পেরিয়ে শুভ্রতার সানাই বাজিয়ে মিলনের প্রদীপ হাতে নিয়ে কাংখিত সোনালী বাসর সাজাতে যাচ্ছে৷
রিক্তের দোয়ারে দাড়িয়ে  যদি মনে পরে আমার নাম ক্ষনিকের তরে দিও মোর এ লেখার দাম৷

Thursday, July 5, 2018

Rabeta Board Edu Result


Rabeta Board Edu
Result
Rabitatul Madarisil Islamia Bangladesh.
13th Examination: 1439 Hizri, 2018 AD
Class: Sanabiah Ammah 1st.
Roll ... Average ... Divisio
101 --- 92.25 --- Mumtaz
102 --- 88.38 --- Mumtaz
103 --- 87.63 --- Mumtaz
104 --- 82.25 --- Mumtaz
105 --- 92.88 --- Mumtaz
106 --- 95.00 --- Mumtaz
107 --- 88.63 --- Mumtaz
108 --- 81.88 --- Mumtaz
109 --- 83.13 --- Mumtaz
110 --- 80.63 --- Mumtaz
111 --- 81.50 --- Mumtaz
112 --- 85.50 --- Mumtaz
113 --- --- --- FAIL
114 --- 71.25 --- 1st
115 --- 64.50 --- 1st
116 --- 80.00 --- Mumtaz
117 --- 66.13 --- 1st
118 --- 67.75 --- 1st
119 --- 71.13 --- 1st
120 --- 59.63 --- 2nd
121 --- 70.13 --- 1st
122 --- 75.88 --- 1st
123 --- 74.63 --- 1st
124 --- 58.38 --- 2nd
125 --- 64.50 --- 1st
126 --- 55.25 --- 2nd
127 --- 51.50 --- 2nd
128 --- 47.13 --- 2nd
129 --- 55.00 --- 2nd
130 --- 58.13 --- 2nd
131 --- 60.25 --- 1st
132 --- 56.38 --- 2nd
133 --- 55.25 --- 2nd
134 --- 49.38 --- Makbul
135 --- 52.63 --- 2nd
136 --- 59.88 --- 2nd
137 --- 69.38 --- 1st
138 --- 85.75 --- Mumtaz
139 --- 94.00 --- Mumtaz
140 --- 88.13 --- Mumtaz
141 --- 56.50 --- 2nd
142 --- 54.50 --- Makbul
143 --- 65.75 --- 1st
144 --- --- --- FAIL
145 --- --- --- FAIL
146 --- 76.50 --- 1st
147 --- 88.63 --- Mumtaz
148 --- 87.50 --- Mumtaz
149 --- 47.88 --- 2nd
150 --- 58.00 --- 2nd
151 --- 76.88 --- 1st
152 --- 50.13 --- 2nd
153 --- 51.38 --- 2nd
154 --- 62.38 --- 1st
155 --- 81.13 --- Mumtaz
156 --- 68.13 --- 1st
157 --- 52.25 --- 2nd
158 --- 59.75 --- 2nd
159 --- 44.25 --- Makbul
160 --- 56.63 --- 2nd
161 --- 64.88 --- 1st
162 --- 63.13 --- 1st
163 --- 55.00 --- 2nd
164 --- 58.50 --- 2nd
165 --- 62.38 --- 1st
166 --- --- --- Absent
167 --- 54.13 --- 2nd
168 --- 64.50 --- 1st
169 --- 80.25 --- Mumtaz
170 --- 74.25 --- 1st
171 --- 73.25 --- 1st
172 --- 59.00 --- 2nd
173 --- 75.00 --- 1st
174 --- 66.50 --- 1st
175 --- 54.63 --- 2nd
176 --- 61.25 --- 1st
177 --- 53.13 --- Makbul
178 --- 48.38 --- Makbul
179 --- 48.00 --- Makbul
180 --- 49.38 --- 2nd
181 --- 49.00 --- 2nd
182 --- 36.63 --- Makbul
183 --- 59.00 --- 2nd
184 --- 34.13 --- Makbul
185 --- 38.75 --- 3rd
186 --- 57.50 --- 2nd
187 --- 58.75 --- 2nd
188 --- --- --- FAIL
189 --- --- --- Absent
190 --- --- --- FAIL
191 --- --- --- Absent
192 --- --- --- FAIL
193 --- 85.13 --- Mumtaz
194 --- 84.75 --- Mumtaz
195 --- 68.13 --- 1st
196 --- 79.50 --- 1st
197 --- 58.63 --- 2nd
198 --- 66.13 --- 1st
199 --- 58.88 --- 2nd
200 --- 50.13 --- Makbul
201 --- 48.50 --- Makbul
202 --- --- --- FAIL
203 --- 43.50 --- Makbul
204 --- 65.00 --- 1st
205 --- 64.75 --- 1st
206 --- 62.25 --- 1st
207 --- 73.00 --- 1st
208 --- 59.75 --- Makbul
209 --- --- --- FAIL
210 --- 64.25 --- 1st
211 --- 57.38 --- 2nd
212 --- 68.63 --- 1st
213 --- 54.75 --- 2nd
214 --- --- --- FAIL
215 --- 52.38 --- 2nd
216 --- 43.50 --- Makbul
217 --- 39.13 --- Makbul
218 --- 50.88 --- Makbul
219 --- --- --- FAIL
220 --- --- --- FAIL
221 --- --- --- FAIL
222 --- --- --- FAIL
223 --- 43.63 --- Makbul
224 --- --- --- FAIL
225 --- --- --- FAIL
226 --- --- --- FAIL
227 --- --- --- FAIL
228 --- 62.00 --- 1st
229 --- 50.25 --- 2nd
230 --- 65.13 --- 1st
231 --- 54.88 --- 2nd
232 --- 43.63 --- Makbul
233 --- 41.38 --- 3rd
234 --- 90.88 --- Mumtaz
235 --- 88.50 --- Mumtaz
236 --- 77.25 --- 1st
237 --- 67.00 --- 1st
238 --- 63.75 --- 1st
239 --- 55.13 --- 2nd
240 --- 66.25 --- 1st
241 --- 54.50 --- 2nd
242 --- 51.00 --- Makbul
243 --- 48.00 --- Makbul
244 --- 75.25 --- 1st
245 --- 43.50 --- 3rd
246 --- 43.63 --- 3rd
247 --- --- --- FAIL
248 --- 58.50 --- 2nd
249 --- 48.75 --- Makbul
250 --- --- --- FAIL
251 --- --- --- FAIL
252 --- --- --- FAIL
253 --- 68.50 --- 1st
254 --- 50.88 --- 2nd
255 --- 55.13 --- 2nd
256 --- 61.50 --- 1st
257 --- 51.50 --- 2nd
258 --- --- --- FAIL
259 --- 36.38 --- Makbul
260 --- --- --- Absent
261 --- 59.50 --- 2nd
262 --- --- --- FAIL
263 --- 57.00 --- Makbul
264 --- 40.00 --- Makbul
265 --- 38.63 --- Makbul
266 --- 47.88 --- Makbul
267 --- 37.38 --- Makbul
268 --- 82.38 --- Mumtaz
269 --- 53.38 --- 2nd
270 --- 63.38 --- 1st
271 --- 61.88 --- 1st
272 --- 57.75 --- 2nd
273 --- 42.88 --- Makbul
274 --- 54.00 --- 2nd
275 --- 63.63 --- 1st
276 --- --- --- FAIL
277 --- 43.13 --- 3rd
278 --- 37.50 --- Makbul
279 --- 41.75 --- 3rd
280 --- 41.88 --- Makbul
281 --- 76.63 --- 1st
282 --- 79.75 --- 1st
283 --- 85.50 --- Mumtaz
284 --- 77.63 --- 1st
285 --- 70.00 --- 1st
286 --- 58.75 --- 2nd
287 --- 72.50 --- 1st
288 --- 75.25 --- 1st
289 --- 60.50 --- 1st
290 --- 65.50 --- 1st
291 --- 71.38 --- 1st
292 --- 67.00 --- 1st
293 --- 67.75 --- 1st
294 --- 50.00 --- 2nd
295 --- 53.38 --- Makbul
296 --- 60.63 --- 1st
297 --- 71.13 --- 1st
298 --- 68.63 --- 1st
299 --- 61.50 --- 1st
300 --- 64.88 --- 1st
301 --- 63.88 --- 1st
302 --- 57.88 --- 2nd
303 --- 56.38 --- 2nd
304 --- 41.00 --- Makbul
305 --- --- --- FAIL
306 --- 40.63 --- Makbul
307 --- 59.63 --- 2nd
308 --- --- --- FAIL
309 --- 67.00 --- 1st
310 --- 70.63 --- 1st
311 --- 71.75 --- 1st
312 --- 64.75 --- 1st
313 --- 46.00 --- 2nd
314 --- --- --- FAIL
315 --- 52.38 --- 2nd
316 --- --- --- FAIL
317 --- --- --- FAIL
318 --- --- --- FAIL
319 --- 91.88 --- Mumtaz
320 --- 90.13 --- Mumtaz
321 --- 79.13 --- 1st
322 --- 79.75 --- 1st
323 --- 71.13 --- 1st
324 --- 82.38 --- Mumtaz
325 --- --- ---
326 --- --- --- FAIL
327 --- --- --- FAIL
328 --- 46.75 --- Makbul
329 --- 59.75 --- 2nd
330 --- 58.00 --- 2nd
331 --- 44.63 --- Makbul
332 --- --- --- FAIL
333 --- --- --- FAIL
334 --- --- --- FAIL
335 --- --- --- FAIL
336 --- --- --- FAIL
337 --- 44.13 --- Makbul
338 --- --- --- FAIL
339 --- 49.25 --- 2nd
340 --- --- --- FAIL
341 --- --- --- FAIL
342 --- 76.38 --- 1st
343 --- 57.00 --- 2nd
344 --- --- --- FAIL
345 --- 63.88 --- 1st
346 --- 78.00 --- 1st
347 --- --- --- FAIL
348 --- --- --- FAIL
349 --- 55.88 --- 2nd
350 --- --- --- FAIL
351 --- 82.00 --- Mumtaz
352 --- 74.13 --- 1st
353 --- --- --- FAIL
354 --- 47.63 --- 2nd
355 --- --- --- FAIL
356 --- 50.88 --- 2nd
357 --- --- --- FAIL
358 --- 80.00 --- Mumtaz
359 --- --- --- Absent
360 --- 59.25 --- 2nd
361 --- 57.50 --- 2nd
362 --- 52.50 --- 2nd
363 --- 46.13 --- 2nd
364 --- 49.75 --- Makbul
365 --- 49.25 --- 2nd
366 --- --- --- FAIL
367 --- --- --- FAIL
368 --- --- --- FAIL
369 --- 70.75 --- 1st
370 --- 64.00 --- 1st
371 --- 47.38 --- Makbul
372 --- 43.75 --- Makbul
373 --- 46.50 --- Makbul
374 --- --- --- FAIL
375 --- --- --- FAIL
See Translation

দাওরায়ে হাদিসের ফলাফল : কোন বোর্ডের পাসের হার কত?


কওমি মাদরাসার সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া দাওরায়ে হাদিসের ফলাফল প্রকাশ করেছে আজ। গত বছর থেকে শুরু হওয়া সম্মিলিত এ বোর্ডের অধীনে দেশের মোট ৬টি কওমি শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।
ছয় বোর্ডের বাইরে হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় দফতরের অধীনেও পরীক্ষা দিয়েছেন বিভিন্ন মাদরাসার কয়েকটি মাদরাসার শিক্ষার্থী, যারা কোনো বোর্ডের অধীনে নয়।
হাইআতুল উলয়ার এ পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০,৭৪৯ জন। মোট ৩২২টি কেন্দ্রের অধীনে ১ হাজার ৩৮টি মাদরাসার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন এবার।
সবগুলো বোর্ডের সম্মিলিত ফলাফল :
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ : পাশের হার ৭০.৩৫%
এ বোর্ডের অধীনে মোট ১৬,৬১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ১১,২৫৭ জন এবং ছাত্রীসংখ্যা ৫,৩৩৫ জন। ২৫৭ টি কেন্দ্রের অধীনে অংশ নিয়েছেন ৮৬৮টি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৬৩ জন মুমতাজ, ২৭৮৪ জন জায়্যিদ জিদ্দান, ৫,৫৮৬ জন জায়্যিদ এবং ৪,৭২৬ জন মাকবুল বিভাগ পেয়ে পাসের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ : পাসের হার ৬৬.২৬%
এ বোর্ডের অধীনে মোট ৫৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ৪০৯ জন এবং ছাত্রীসংখ্যা ১৪০ জন। ১১ টি কেন্দ্রের অধীনে অংশ নিয়েছেন ৩০টি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ জন মুমতাজ, ৩৪ জন জায়্যিদ জিদ্দান, ১০৬ জন জায়্যিদ এবং ১৩৪ জন মাকবুল বিভাগ পেয়ে পাসের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ : পাসের হার ৫০.৬৩%
এ বোর্ডের অধীনে মোট ১,৩৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ৯৯৪ জন এবং ছাত্রীসংখ্যা ৩৪৩ জন। ২৫ টি কেন্দ্রের অধীনে অংশ নিয়েছেন ৭২টি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তা’লীম-এর অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৩ জন মুমতাজ, ২১২ জন জায়্যিদ জিদ্দান, ৩৬৩ জন জায়্যিদ এবং ২৬৮ জন মাকবুল বিভাগ পেয়ে পাসের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ : পাসের হার ৭৭.৯৫%
এ বোর্ডের অধীনে মোট ৯৫৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ৯৯৪ জন। এ বোর্ডের অধীনে কোনো ছাত্রী পরীক্ষা দেননি। ১৩ টি কেন্দ্রের অধীনে অংশ নিয়েছেন ২২টি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়ার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৩ জন মুমতাজ, ২২৭ জন জায়্যিদ জিদ্দান, ২৮৮ জন জায়্যিদ এবং ১৭৮ জন মাকবুল বিভাগ পেয়ে পাসের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ : পাসের হার ৭৯.৯৩%
এ বোর্ডের অধীনে মোট ৮৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ৮৩৮ জন এবং ছাত্রীসংখ্যা ৪৪ জন। ১০ টি কেন্দ্রের অধীনে অংশ নিয়েছেন ১৮টি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়ার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৩ জন মুমতাজ, ২২৭ জন জায়্যিদ জিদ্দান, ২৮৮ জন জায়্যিদ এবং ১৭৮ জন মাকবুল বিভাগ পেয়ে পাসের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ : পাসের হার ৫৬.০৭%
এ বোর্ডের অধীনে মোট ৩২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ২২৮ জন এবং ছাত্রীসংখ্যা ৯৩ জন। ৪টি কেন্দ্রের অধীনে অংশ নিয়েছেন ২৪টি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ জন মুমতাজ, ৩৪ জন জায়্যিদ জিদ্দান, ৭৮ জন জায়্যিদ এবং ৬৪ জন মাকবুল বিভাগ পেয়ে পাসের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
আল হাইআতুল উলয়া কেন্দ্রীয় দফতর : পাসের হার ৫৬.০৪%
হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় দফতরের অধীনে মোট ৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ৬৪ জন এবং ছাত্রীসংখ্যা ২৭ জন। ২টি কেন্দ্রের অধীনে অংশ নিয়েছেন ৪টি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ জন জায়্যিদ জিদ্দান, ২৬ জন জায়্যিদ এবং ২৪ জন মাকবুল বিভাগ পেয়ে পাসের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
OURISLAM24.COM


দাওরায়ে হাদিসে মেধা তালিকায় শীর্ষ যারা










আমাদের মাঝে আর নেই মাওলানা হারুনুর রশীদ (রহ)

আমাদের মাঝে আর নেই
মাওলানা হারুনুর রশীদ (রহ)

গোয়াইনঘাটের চারগ্রাম নিবাসী
মাও:মূসা সাহেবের ছো
মাও:হারুনুর রশীদ (রহ)
ট ভাই মাওলানা হারুনুর রশীদ (রহ)
আজ বিকাল ইন্তেকাল করেছেন৷
ইন্না........

হযরতের নামাযে জানাযা আজ বাদ এশা চারগ্রাম বড় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে৷
হযরতের মাগফিরাত কামনা করছি৷

মেধা তালিকা (ছাত্রী)

http://al-haiatululia.com
১ম-ক মুনজিয়া ইসলাম, মাহমুদিয়া মহিলা মাদরাসা, মাহমুদনগর, ডেমরা, ঢাকা।
২য়-ক শামিমা, আয়েশা সিদ্দীকা মহিলা মাদরাসা, দত্তপাড়া, সদর, নরসিংদী।
৩য়-খ হাফসা সুলতানা মাদরাসা আয়েশা সিদ্দীকা (রা.), ৮৩ ঢালকানগর, ঢাকা।
৩য়-গ ১২২৮০ ফাহিমা মুসাররাত মাদরাসা আয়েশা সিদ্দীকা (রা.), ৮৩ ঢালকানগর, ঢাকা।
৩য়-ক রাহমা, আল হুদা মহিলা মাদরাসা, মীরেরহাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
৪র্থ- ক ফারিহা মাহজাবীন জামিয়া ইবরাহীমিয়া আমীনিয়া মহিলা মাদরাসা, আটিওয়াপদা কলোনী রোড, ৮৭৫ সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
৫ম-ক ১১২১৬ তামান্না আক্তার লিমা, নাসিরাবাদ তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসা, ১৮নং বগাবাড়ী, সদর, মোমেনশাহী।
৬ষ্ঠ-ক তাসমিয়া আক্তার, হযরত ফাতিমা রা. তালিমুদ্দিন মহিলা মাদরাসা, মেরাজনগর, কদমতলী, ঢাকা।
৭ম-খ তাইয়েবা বাইতুল ফালাহ মহিলা মাদরাসা, ২৯ শাহী মসজিদ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ।
৭ম-ক তাজকিরা বেগম, জামিয়া ফাতেমাতুজ জাহরা (রা.) দয়ামীর মহিলা মাদরাসা, উসমানী নগর, সিলেট।
৮ম-ক নাছিমা আক্তার, জামিয়া রাহেলা পারভীন তাহযীবুল বানাত নেত্রকোনা।
৮ম-খ তানজীম তাসফিয়া দিনা, রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসা, ঢাকা।
৯ম-খ সাদিয়া আক্তার, আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া তালীমুল উম্মাহ, ফায়দাবাদ, ঢাকা।
৯ম-গ কামরুন্নাহার, মাদরাসা আয়েশা সিদ্দীকা (রা.), ৮৩ ঢালকানগর, সূত্রাপুর, ঢাকা।
৯ম-ঘ খাদিজা আখতার জামিয়া ইবরাহীমিয়া আমীনিয়া মহিলা মাদরাসা, আটিওয়াপদা কলোনী রোড, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
৯ম-ক হুমাইরা, আল জামিয়াতুল আরাবিয়া লিল বানাত (ফাতেমা রা. মহিলা মাদরাসা), বগুড়া।
১০ম- সাদিয়া হাসান, জামি’আ ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানা, ছনটেক, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
সূত্র: হাইআতুল উলয়ার ওয়েবসাইট

মেধা তালিকা (ছাত্র )


১ম-ক মুহা: শামসুল হক, জামেয়া ইসলামিয়া কাছেমুল উলুম (জামিল মাদরাসা), বগুড়া।
১ম-খ ১৮৪১৭ খলিল আহমদ নাদিম জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলম ফরিদাবাদ ঢাকা।
২য়-ক মুহা: নাসীরুদ্দীন জামিয়া নুরানিয়া, তারাপাশা কিশোরগঞ্জ।
২য়-খ মোহাম্মদ খুবাইব রাজী, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
৩য়-খ আয়াতুল্লাহ, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
৩য়-ক জিহাদুল ইসলাম, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৪র্থ- মুহা: মুহিব্বুর রহমান, মাদরাসা জামালুল কুরআন, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।
৫ম- মো: আরিফ হাসান, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ, মোহাম্মদপুর।
৬ষ্ঠ- মোঃ মুতাসিম বিল্লাহ রাহাত, মাদরাসা বাইতুল উলম ঢালকানগর, ঢাকা।
৭ম- সিফাতুল্লাহ, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলম ফরিদাবাদ, ঢাকা।
৮ম-খ হুযাইফা, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
৮ম-ক খালিদ সাইফুল্লাহ, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৯ম- মুঈনুদ্দীন, জামেয়া কাসেমুল উলুম দরগাহ মাদরাসা সিলেট।
১০ম- মো: দিলাওয়ার হুসাইন, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
১১তম-গ মো: আব্দুল্লাহ, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলম ফরিদাবাদ, ঢাকা।
১১তম-ক মো: জাহাঙ্গীর কবীর, জামিয়া আরাবিয়া হাফিজিয়া ক্বারিয়ানা মাদরাসা, নিউ টাউন বাজার, সদর, দিনাজপুর।
১১তম-খ কাজী মুহাম্মাদুল্লাহ, জামিয়াতুস সুন্নাহ, শিবচর, মাদারীপুর।
১২তম- আ: ওয়াহিদ, মসজিদুল আকবার কমপ্লেক্স মাদরাসা মিরপুর-১।
১৩তম- মো: ইসমাইল জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
১৪তম- রেদওয়ান আহমদ জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলম ফরিদাবাদ ঢাকা।
১৪তম- মোহা. আতিকুর রহমান, আশরাফুল মাদারিস, যশোর।
১৫তম- মো: ইকরাম, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
১৬তম- মোহাম্মদ ইউছুফ, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
১৭তম-ক ৯৩৮ মুহাম্মাদ, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া আলী এন্ড নর রিয়েল ষ্টেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
১৭তম-খ মুহা: আসাদুল্লাহ, হ জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদী হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
১৮তম-গ মাসরুর আহমদ, জামেয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা বিয়ানীবাজার, সিলেট।
১৮তম-ক মো: জাহিদুল ইসলাম, জামিয়া আরাবিয়া হাফিজিয়া ক্বারিয়ানা মাদরাসা, নিউ টাউন বাজার, সদর, দিনাজপুর।
১৮তম-খ মুহাঃ রায়হান কবীর, মাদরাসা বাইতুল উলম ঢালকানগর, ঢাকা।
১৯তম-ক মো: মাহদী হাসান, জামিয়া ইসলামিয়া ইমদাদুল উলম, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা।
১৯তম-খ মুহাঃ মাহমুদুল হাসান মাদরাসা বাইতুল উলম ঢালকানগর, ঢাকা।
১৯তম-গ মোহাম্মদ ইবরাহীম খলীল, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
২০তম-খ মুহা: আহসান হাবিব, জামেয়া ইসলামিয়া কাছেমুল উলুম (জামিল মাদরাসা), বগুড়া।
২০তম-ক ৭৫৯৬ মুহা. আল আমীন হোসেন, আশরাফুল মাদারিস, সতীঘাটা, কোতয়ালী, যশোর।
২১তম-ক মো: মাসুম বিল্লাহ, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী ঢাকা।
২২তম-ক রোকনুজ্জামান, মসজিদুল আকবার কমপ্লেক্স জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মিরপুর-১, ঢাকা।
২৩তম-ক মুহা: নুর উদ্দীন, জামিয়া ইসলামিয়া ওবায়দিয়া, নানুপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।
২৪তম-ক মুহাঃ ইবরাহীম রুহী, জামিয়াতুস সুন্নাহ, দক্ষিণকান্দী, শিবচর, মাদারীপুর।
২৫তম-গ মু: আবুতাহের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
২৫তম-ঘ মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ, ঢাকা-১২০৪।
২৫তম-ক মুহা: লোকমান হাকীম, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া আলী এন্ড নর রিয়েল ষ্টেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
২৫তম-খ ইউসুফ খান মাদরাসা বাইতুল উলম ঢালকানগর, সূত্রাপুর, ঢাকা।
২৬তম-গ মো: ওলিউল্লাহ, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, ব্লক ডি/বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ৮৯১ গুলশান-২, ভাটারা, ঢাকা।
২৬তম-ঘ আযিযুর রহমান, জামেয়া কাসেমুল উলুম দরগাহে হযরত শাহজালাল রাহ. দরগাহ সিলেট।
২৬তম-ক মু: তাজুল ইসলাম, জামিয়া মোহাম্মাদীয়া আরাবীয়া (মাদরাসা), সেকশন-৭, পল্লবী ঢাকা।
২৬তম-খ মুহা: মাহদী হাসান জামিয়া ইসলামিয়া মদীনাতুল উলুম, পশ্চিম সোনারামপুর, আশুগঞ্জ, বি-বাড়ীয়া।
২৭তম-ঙ ১৫৮২৪ সৈয়দ হাফেজ মো: ইসমাইল, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, ব্লক ডি/বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গুলশান-২, ভাটারা, ঢাকা।
২৭তম-চ আজিজুল হক, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ ঢাকা।
২৭তম-ক মুজাহিদুল ইসলাম, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
২৭তম-খ আহসান উল্লাহ, আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
২৭তম-গ মো: মিজানুর রহমান, আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
২৭তম-ঘ যুবাইর আহমাদ, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
২৮তম-ক মোঃ সাইফুল ইসলাম, জামেউল উলুম মাদরাসা মিরপুর-১৪, কাফরুল, ঢাকা।
২৮তম-খ মো: জাকারিয়া, জামিয়া মাদানিয়া (কাশেফুল উলম), শুলকবহর, চট্টগ্রাম।
২৯তম-খ মো: ওমর ফারুক, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
২৯তম-গ মো: মুহিবুল্লাহ, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
২৯তম-ঘ ১৫৪৮৭ মো: আতিকুর রহমান জামিয়া কওমিয়া আরাবিয়া দারুল উলম খুকনি, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ।
২৯তম-ঙমো: ইলিয়াছ আমীন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী ঢাকা।
২৯তম-ক মুহাম্মাদ আশরাফুল ইসলাম, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ, ঢাকা।
৩০তম-খ আব্দুছ ছবুর, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
৩০তম-ক ৯৩৪ মুহা: তানবীর, মাহতাব জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া আলী এন্ড নুর রিয়েল ষ্টেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৩১তম-ক ১১৪৭৩ এনামুল হক, আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানীনগর, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ।
৩১তম-খ নাঈম নজির, জামিয়াতুল আবরার বাংলাদেশ, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা।
৩১তম-গ কাজী মনসুর আহমদ, শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম জকিগঞ্জ, সিলেট।
৩২তম-গ নরুল হাসান, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
৩২তম-ক ৩২৩৭ মুহা: সাদ, রাজাপুর জামিয়া ইসলামিয়া মোহাম্মাদিয়া, রাজাপুর, লাকসাম, কুমিল্লা।
৩২তম-খ মোঃ ইবরাহিম হোসেন, জামিয়া হোসাইনিয়া আরাবিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা আগারগাঁও, শেরে বাংলানগর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
৩৩তম-ক মোঃ আব্দুল্লাহ ইদি্রস আলী বিশ্বাস, ইসলামিয়া মাদরাসা, আল্লার দর্গা, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
৩৩তম-খ মোহা: মঈন উদ্দিন আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
৩৩তম-গ মাহদী হাসান, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী ঢাকা।
৩৩তম-ঘ মুহা: আফসার শরীফ জিবরান, জামেয়া ইসলামিয়া আনওয়ারুল উলুম উমরপুরবাজার, ওসমানীনগর, সিলেট।
৩৪তম-গ আলীমুজ্জামান জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ, ঢাকা।
৩৪তম-ক রাকিবুল ইসলাম আল মাদরাসাতুল আরাবিয়া বাইতুস সালাম উত্তরা, ঢাকা।
৩৪তম-খ মোঃ আশরাফ আলী মাদরাসা বাইতুল উলম ঢালকানগর, সূত্রাপুর, ঢাকা।
৩৫তম-ক সারোয়ার হোসেন, জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকা।
৩৬তম-ক আহমদ উল্লাহ, ছমদিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসা, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
৩৬তম-খ ১৭৩৮৩ সা’দুল্লাহ জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী ঢাকা।
৩৭তম-ক মোঃ সাইদুর রহমান শেখ, জামিয়াতুস সুন্নাহ, দক্ষিণকান্দী, শিবচর, মাদারীপুর।
৩৭তম-খ মোঃ সাইফুল্লাহ, মাদরাসা বাইতুল উলম ঢালকানগর, ঢাকা।
৩৭তম-গ মহিউদ্দিন ইবনে মুনির, মসজিদুল আকবার কমপ্লেক্স জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মিরপুর ঢাকা।
৩৮তম-ছ মো: ইমাম হোসেন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী ঢাকা।
৩৮তম-ক শফীকুল ইসলাম শেখ, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া আলী এন্ড নুর রিয়েল ষ্টেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৩৮তম-খ মুহা: জাহিদ হাসান, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া আলী এন্ড নুর রিয়েল ষ্টেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৩৮তম-গ মুহাম্মাদ মাহমুদুল হাসান, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৩৮তম-ঘ মুহাম্মাদ রবিউল ইসলাম, জামিয়াতুস সুন্নাহ, দক্ষিণকান্দী, শিবচর, মাদারীপুর।
৩৮তম-ঙ মুঈনুদ্দীন, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৩৮তম-চ আব্দুল্লাহ আল নোমান জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৩৯তম-গ মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ জামিআ রাব্বানিয়া আরাবিয়া, জালকুড়ি, সিদ্ধিরগন্জ, নারায়নগন্জ।
৩৯তম-ঘ মো: আবুদারদা, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
৩৯তম-ঙ মো: হাবিবুল্লাহ জামিয়া কুরআনিয়া এমদাদুল উলুম, ফুলছোঁয়া, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
৩৯তম-ক মো: আবরারুল হক, আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
৩৯তম-খ মো: নজরুল ইসলাম বাইতুল আমান মাদরাসা মসজিদ কমপ্লেক্স, আদাবর, ঢাকা।
৪০তম-চ মো: সুললাইমান হুসাইন, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, ব্লক ডি/বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গুলশান-২, ভাটারা, ঢাকা।
৪০তম-ছ আব্দুল্লাহ জামেয়া কাসেমুল উলুম দরগাহে হযরত শাহজালাল রহ. দরগাহ সিলেট।
৪০তম-জ সাইফুর রহমান হেলাল, জামেয়া তওক্কুি লয়া রেঙ্গা, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
৪০তম-ক মুহা: সোলাইমান, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া আলী এন্ড নর রিয়েল ষ্টেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
৪০তম-খ মো: মোবারক হুসাইন, আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
৪০তম-গ মো: জাফর ইকবাল মারকাজুল উলুম আল ইসলামিয়া দক্ষিন মান্ডা, মুগদা, ঢাকা।
৪০তম-ঘ ওমর ফারুক, দারুল উলুম আল হোছাইনিয়া ওলামা বাজার, চর চান্দিয়া, সোনাগাজী, ফেনী।
৪০তম-ঙ মো: হাসানুজ্জামান আশরাফুল উলুম মাদরাসা, সদর, কুষ্টিয়া।