Thursday, August 12, 2021
নামাজের কাতারের মধ্যে ফাঁক রাখা যাবে কিজমাতে নামাজ পড়ার সময় লাইনের মধ্যে গ্যাপ রাখলে কী নামাজ হয়
Friday, August 6, 2021
Sunday, August 1, 2021
মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স গ্রহণ করা কি জায়েজ হবে?
হাটহাজারী ফতোয়া বিভাগের ফতোয়া: এসপিসি ওয়ার্ল্ডের অনলাইন বিজনেস সম্পূর্ণ নাজায়েয
Saturday, July 31, 2021
বিকাশ, নগদ ও রকেট একাউন্ট থেকে অর্জিত ইন্টারেস্ট ও ক্যাশব্যাক এর শরয়ী বিধান ৷
Tuesday, July 27, 2021
Sunday, July 18, 2021
হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল দেখুন ২০২১
হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল ২০২১Al Haiatul Ulya Result 2021 |(Full Marksheet & PDF Download)
হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল ২০২১
Al Haiatul Ulya Result 2021 |(Full Marksheet & PDF Download)
দাওরায়ে হাদীস এর ফলাফল প্রকাশ আজ
১৪৪২ হিজরী/২০২১ ঈসাব্দের দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল রবিবার ৭ যিলহজ্জ ১৪৪২ হিজরী মুতাবিক ১৮ জুলাই ২০২১ তারিখ দুপুর ১২:৩০ মিনিটে প্রকাশিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
চেয়ারম্যান মহোদয়ের আদেশক্রমে,
মু: অছিউর রহমান,
অফিস সম্পাদক, আল-হাইআতুল উলয়া বাংলাদেশ
Saturday, July 17, 2021
ওযু করার পর টিভি, বেগানা মহিলা দেখলে বা মহিলা বেগানা পুরুষ দেখলে ওযু নষ্ট হবে কি?
Sunday, July 11, 2021
চাল ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ফিতরা দেয়া যাবে?
Tuesday, July 6, 2021
জায়নামাযে কাবা ঘরের ছবির উপর পা রাখা যাবে
Monday, July 5, 2021
Sunday, July 4, 2021
প্রাণীর ছবি আঁকা কি জায়েয / ছবি আঁকার ক্ষেত্রে মৌলিক মাসআলা কি
Saturday, July 3, 2021
Friday, July 2, 2021
খতমে তারাবীতে প্রত্যেক শুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ আওয়াজ দিয়েপড়া যাবে কি
Thursday, July 1, 2021
বিয়ের স্মারকের লেখার জন্য / কিভাবে বিবাহের স্মারকে লেখা দিব/ স্মারকের জন্য লেখা দিব
বিয়ের স্মারকের লেখার জন্য / কিভাবে বিবাহের স্মারকে লেখা দিব/ স্মারকের জন্য লেখা দিব
সুখময় জীবনের নতুন মুসাফির
আ ন ও য়া র হু সা ই ন
হাফিজ মাওলানা আব্দুল করিম। মানবিক বহুবিদ গুণাবলির এক নন্দিত নাম। কানাইঘাটের সুনাম।
গর্দনা কান্দির গর্বের ধন। জামেয়া যাত্রাবাড়ীর সূর্য সন্তান। তিনি এক মেধাবী, ধীমান ও প্রতিভাবান। একাধারে তিনি একজন হাফিজ, আলিম ও মুদাররিস। পাশাপাশি একজন আদর্শ শিক্ষক ও তারুণ্যের প্রতীক। আপন মেধা ও প্রতিভায় স্বনামে পরিচিত। সুনামে খ্যাত। ইলমি আঙ্গিনায় সমাদৃত। ছাত্র-শিক্ষক সবার কাছে প্রশংসিত। চলনে-বলনে মায়াবী আচার-আচরণে সোহাগী। তিনি মুলায়েম অমায়িক। বাসতাতান ফিল ইলমে ওয়াল জিসমের উপমা। অফলাইনে ও অনলাইনে সরব ও পরিচিত। সর্বোপরি তিনি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে উত্তম ব্যক্তি।
এতোদিন ছিলেন বৈরাগী৷ ছিলেন সাধু সন্যাসী। মুজাররাদ কমিটির চলমান মেম্বার। এই অসহায় কমিটির প্রায় সকল পদেই অধিষ্ঠিত ছিলেন। তবে এপদের মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। আর মাত্র দু-তিন দিন বাকী। নতুন জীবনের পালে হাওয়া লেগেছে।
বন্দু করিমের বিয়ে। একাকিত্বের পথ মাড়িয়ে যুগল জীবনে পদার্পন করতে যাচ্ছেন করীম ভাই। সেটা নিঃসন্দেহে খুশির বিষয়। সাথে ভাবনার বিষয় " আদূরে ভাবী এসে যদি আমাদের এ প্রিয় মানুষটিকে শুধুই তার করে নেন। আর আমাদের আশায় বালি ছিটিয়ে দেন।" না, তা হতে দিব না, আমরা করিম ভাইকে অবশ্যই আগের মত রাখব।
এই জীবনের দুই অভিযাত্রীর একজন স্বামী, অপরজন স্ত্রী। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এ জোটির সৃষ্টি, বিকাশ ও সংযােগ। আল্লাহ তা'আলা তার পাক কালামে ইরশাদ করেন : “আমি তােমাদের মধ্য থেকেই অস্তিত্বে এনেছি তােমাদের সাথীকে। যাতে তােমরা তাদের নিকট স্বস্তি খুঁজে পাও। আর তােমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় টান, ভালােবাসা ও বন্ধুত্ব।”
বৈবাহিক জীবনের এই টান ভালােবাসা ও বন্ধুত্ব নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাকের প্রত্যক্ষ ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা বন্ধনটিকে একান্ত অবাধ মুক্ত আর দিক নির্দেশনাহীন ছেড়ে দেয়া হয়নি। এর জন্য দেয়া হয়েছে উৎকৃষ্টমানের নির্দেশনা, আচার-অনুষ্ঠান ও বিধি নিষেধ। এসব নীতি নিয়ম পালন করলে শুধু যে দাম্পত্য জীবন সুখময় হয়ে ওঠবে তাই নয়, বরং মানব সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুরূপে পরিবারে প্রশান্তি নেমে আসায় গােটা বিশ্বজগত হয়ে ওঠবে শান্তি সুখের নীড়।
বন্ধু আব্দুল করিম সেই শান্তি সুখের নীড়ের চলন্ত সিঁড়িতে পা রাখতে যাচ্ছেন। তাঁর সুখময় জীবনের সাথী সাহজাদী কুলসুমা জান্নাত জাহরা। মহান আল্লাহ তাদের শাদী মোবারকে বরকত দান করুন।
আব্দুল করীম ও কলসুমা জান্নাত জাহরা দম্পতির মধ্যে যেন আল্লাহ তা'য়ালা মুসলিম ইতিহাসের সেরা দম্পতি হযরত আলী ও ফাতেমা রাযি আল্লাহু আনহুমার ন্যায় পরস্পর ভালবাসা, সহযোগীতা ও সহমর্মীতা সৃষ্টি করে দেন। তাঁদের জীবন জগতে ও বংশধরদের আলোকময় করেন। দুনিয়া আখিরাতের সুখ সাচ্ছন্দ, সফলতা,
তাদের পদ চুম্বন করুক। আমীন!
Tuesday, June 29, 2021
মৃত্যু সম্পর্কে লিখব / কিভাবে মৃত্যু সম্পর্কে লিখব / ঝড়ে ফুল, কাঁদে বাগান
Tuesday, August 11, 2020
আযাদ দীনী এদারা বোর্ড রিজাল্ট
২০২০ সালের হিফয বিভাগের মাদ্রাসা ওয়ারী এবং এক নজরে সংক্ষিপ্ত ফলাফল দেখতে নিম্নের লিংক ভিজিট করুন।
https://azaddiniadarah.com/result-2020-tahfizul-quran
Thursday, May 21, 2020
এবারের ঈদের নামাজ কোথায় কীভাবে পড়বো? #ফতওয়াওপরামর্শ
-------------------------------------------------
মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী
চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার
ভাইস চেয়ারম্যান, গ্লোবাল কন্সাল্টেটিভ কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ফতওয়া বোর্ড
-------------------------------------------------
ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়া সুন্নত। বৃষ্টির কারণে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মসজিদে পড়েছিলেন, তাই কারণবশত ঈদের জামাত মসজিদে পড়া যায়।
বিশ্বব্যাপী শহরে নগরে জনসংখ্যা অনুপাতে ঈদগাহ ও উন্মুক্ত মাঠের অপ্রতুলতাও এসময় মসজিদে নামাজ অনুষ্ঠান সুন্নাহসম্মত হওয়ার একটি কারণ। অবশ্য ঈদগাহ ও উন্মুক্ত মাঠে ঈদের জামাত পড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারাজীবনের আমল। এ বছর লোকজনের অধিক চলাচল ও সমাগম রোধে সরকার মাঠে ঈদের জামাত অনুমোদন করে নি। তাই মসজিদে পড়াই কর্তব্য আর এটিও সন্দেহাতীত ভাবে সুন্নাহসম্মত।
কোভিড১৯ এর মধ্যে সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ মসজিদে পড়ুন। প্রতি জামাতের জন্য আলাদা ইমাম নির্ধারন করে প্রয়োজনে একাধিক জামাত করুন।
নিজের জায়নামাজ, হাজী রুমাল, পাক করে ধোয়া তোয়ালে, গামছা বা বেডশিট সাথে নিয়ে মসজিদে কেবল নিজের নামাজের জায়গাটুকুতে বিছিয়ে নামাজ পড়ুন। এতে প্রতি জামাতের ফাঁকে ফাঁকে মসজিদের ফ্লোর নতুন করে সেনিটাইজ করতে হবে না।
জটলা পাকিয়ে না দাঁড়িয়ে এবং অযথা ঘোরাঘুরি না করে, কেবল ঈদের মূল ইবাদতটি আমরা পালন করি। যারা নানা জায়গায় আছেন, তারা এবার ঈদের বেড়ানো ও পুনর্মিলন বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় ইনশাআল্লাহ সময়ে সবই করা যাবে। আপনার আমার একটু আবেগ ও অবিবেচনা যেন আপনার অথবা অন্য কারোর ক্ষতি ও কষ্টের কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ।
বাংলাদেশের মসজিদ খোলা থাকায় মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজে শরীক হওয়া কর্তব্য। কোথাও সুনির্দিষ্ট কারণে ফুল লকডাউন থাকলে গ্রামের কমন উঠান, এপার্টমেন্টের নামাজখানা, ছাদ, কাচারি ঘরে ঈদের জামাত করা যাবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি অনুসরণ করে এসব জামাত হতে পারে। চলমান পরিস্থিতিতে মসজিদে জামাতে না যাওয়ার অনুমতি থাকাবস্থায় দু'চার জন মিলে বাসায়ও ঈদের ওয়াজিব নামাজ জামাতে আদায় করা যাবে।
জুমার নামাজ সহি হওয়ার মতো সেইম শর্ত ঈদের জামাতেও প্রযোজ্য । পার্থক্য হলো তিনটি। ১. ঈদের আজান নেই। ২. ঈদের খুতবা (প্রদান করা সুন্নত ) নামাজের পরে আর জুমার খুতবা (প্রদান করা ওয়াজিব ) নামাজের আগে। ৩. ঈদের নামাজে কিছু বাড়তি তাকবীর দিতে হয়। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহা ও কেরাতের আগে। শেষ রাকাতে কেরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে।
ঈদের জামাত সূর্য কিছু ওপরে ওঠার পর থেকে মধ্য দুপুরের আগে পর্যন্ত পড়া যায়। সময় হিসাবে ধরুন, সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে বেলা এগারোটার মাঝের সময়টি।
মুসাফাহা বা দুই হাতের মিলন এবং মুআনাকা বা কোলাকুলি ঈদের সাথে সম্পর্কিত কোনো বিশেষ আমল বা ঈদের অংশ নয়। এ দুটি সারাবছরের সুন্নত আমল। বৈশ্বিক মহামারি সংকট মুহূর্তের ঈদে এই সংস্কৃতি ও অভ্যাসগত মুসাফাহা, মুআনাকা না-ই বা করলেন। মুখে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করুন।
যারা বাস্তব ওজর বশত ঈদের জামাতে শরীক হতে অপারগ, আশা করা যায়, ওজরের কারণে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিবেন। জামাতের ব্যবস্থা করতে না পারলে এ নামাজ পড়তে হবে না। এ নামাজ একা পড়া যায় না। এর কোনো কাজাও নেই। কিছু ইমামের মত, আমাদের ইমাম আজমের মত এবং আমাদের ফিকাহ এবং ফতওয়া হচ্ছে একা ঈদের নামাজ না পড়া। কেননা, এর পক্ষে শক্তশালী দলিল পাওয়া যায় না। তাছাড়া এটি মুসলিম উম্মাহর দীনি ও সামাজিক সম্মিলিত ইবাদত। ব্যক্তিগত পর্যায়ের আমল নয়। একা পড়া যাবে না। অন্তত পরিবারের লোকজন নিয়ে জামাতে পড়তে হবে।
একটি মত আছে যে একাও পড়া যাবে। এটি কিছু ইমামের অভিমত। আমাদের মতে, দু'একজন মুসল্লী নিয়ে ঘরোয়া জামাতে অতিরিক্ত তাকবীর দিয়ে পড়ে নিবে। না পারলে খুতবা ছাড়াই পড়বে, কেননা ঈদের খুতবা ওয়াজিব নয়। এমন নামাজ জরুরী অবস্থায় অনুমোদিত।
জুমার বদলে জোহর পড়ে নেওয়ার মতো ঈদের নামাজের কোনো বিকল্পও নেই। অপারগ অবস্থায় যে কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ অপারগ অবস্থায় ঈদের নামাজে শরীক হতে না পারলে আশা করি তিনি গুনাহগার হবেন না। আল্লাহ তার এই অপারগতা ক্ষমা করে দেবেন।
জননিরাপত্তা, জরুরী নাগরিক সেবা, কড়া লকডাউনে আবদ্ধ, চিকিতসা, সিরিয়াস রোগীর খেদমতে নিয়োজিত ইত্যাদি একান্ত জরুরী অবস্থায় একজন ইমাম দুই কিংবা তিনজন মুসল্লী নিয়ে নিজ অবস্থানস্থলেও ঈদের জামাত পড়ে নিতে পারবেন। আলেম ইমাম না পাওয়া গেলে, ইমাম সাধারণ নামাজি ও ইমামতের নিয়ম জানা তুলনামূলক ধার্মিক ব্যক্তি হলেও চলবে।
খুতবা দিতে সক্ষম না হলে খুতবা ছাড়াই শুধু দুই রাকাত পড়ে নিবে।খুতবার সুন্নত আদায়ের ইচ্ছা ও সাহস করলে প্রথম খুতবায় আউজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, সূরা ফাতিহা, দুরুদ শরীফ ও রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া...পড়ে দিলে চলবে।
মাঝখানে মিন্বর না থাকাবস্থায় একটি চেয়ার টুল বা বক্সের উপর তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা পরিমাণ বসে, আবার দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবায় আউজুবিল্লাহ বিসমিল্লাহসহ সূরা আন নাসর অর্থাৎ ইযা জাআ সূরাটি পাঠ করে, আসতাগফিরুল্লাহ, দুরুদ শরীফ, দোয়া মাসূরা ইত্যাদি পড়ে নিলেও চলবে।
ঈদের খুতবার মধ্যে কয়েকবার তাকবীরের বাক্যটি পড়া সুন্নত। এ পরিমাণ পাঠ জুমার খুতবা হিসাবেও জরুরী অবস্থায় পড়া যায়। জুমা ও ঈদের খুতবার অপরিহার্য অনুষঙ্গের সবই এ সংক্ষিপ্ত কোর্সটিতে রয়েছে। আলেম হলে আরো সুন্দর করে প্রমিত খুতবা প্রদান করবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে গুনাহ ছাড়ার ও নেক আমল করার তাওফীক দিন এবং বিশ্বকে বালা-মুসীবত, মহামারী, রিজিকের সংকীর্ণতা, আর্থিক সংকট ও সমুদয় শঙ্কা থেকে মুক্ত করে দিন। রমজান আবারও আসুক সকলের জীবনে, ঈদ হোক জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফায়সালা লাভের আনন্দে আনন্দময়।
-------------------------------------------------
#দীনিইলমেরপ্রসারের নিয়তে শেয়ার করুন। শবেকদরের দশকে হওয়ায় অন্য সময়ের চেয়ে হাজারগুণ বেশী সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। সৌজন্য স্বীকার করে হুবহু কপিও করতে পারেন, তবে এভাবে লেখার পরবর্তী ক্রমসমৃদ্ধ ও পরিমার্জিত রূপটি আপনার কপিতে পৌঁছুবে না ।
Sunday, May 10, 2020
মাগফিরাতের দশদিনঃ আমাদের কী হবে? প্রসঙ্গ তওবা ইস্তেগফারের প্রকৃত অর্থ মর্ম ও মূল প্রেরণা ---------------------------------------------- মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার
----------------------------------------------
মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী
চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার
------------------------------------------------
মাগফিরাত মানে ক্ষমা। বান্দার প্রয়োজন মাগফিরাত প্রাপ্ত হওয়া। ক্ষমা লাভ করা। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল। তাঁর এক নাম আল গাফুরু। গাফুরুর রাহীম। পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি আল গাফফার আত তাওওয়াব। রমজানের প্রথম দশদিন রহমতের। মধ্যের দশদিন মাগফিরাতের। শেষ নয় বা দশদিন জাহান্নাম থেকে নাজাতের। দোজখের আগুন থেকে মুক্তির। মাগফিরাত লাভের জন্য তাওবা ইস্তেগফার করা ছাড়া উপায় নাই। আজাব গজব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবাই বলে আসুন তাওবা করি। বলা হয় বেশী বেশী ইস্তেগফার করার কথা।
এদুটো কথার অর্থ মর্ম ও বিশ্লেষণ করা খুব দরকার। এটাও জানা প্রয়োজন যে, রমজানের সময় আমরা ক্ষমা পেলাম কিনা। আমাদের কি মাগফিরাত হবে?
নবী করীম স.বলেছেন, ওই ব্যক্তির চেহারা ধূলিমলিন হোক, যে রমজান পেলো অথচ তার গুনাহ খাতা মাফ করিয়ে নিতে পারলো না। তিনি আরো বলেন, মানুষ মাত্রই ভুলত্রুটি ও গুনাহ খাতা আছে। তবে পাপীদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তাওবা করে।
তাওবা কী, কীভাবে করতে হয়
মাগফিরাত বা ক্ষমা পেতে হলে তাওবা করতে হয়। রমজানে কি আমরা তাওবা করেছি?
প্রথমেই বুঝতে হবে যে, তাওবাহ কোনো খেল তামাশা নয়। এটা কোনো প্রচলিত অনুষ্ঠান নয়। অনেকে না বুঝেই বলে, গজব থেকে রক্ষা পেতে অমুককে তওবা করতে হবে। আসলে তওবা অর্থই সে বোঝেনা। অমুক যদি রাজি হয় আর বলে, হুজুর তওবা করিয়ে দিন। তখন এমন সো কল্ড হুজুর ও রসমী পীরও দেশে আছে, যে বলবে, জনাব মহোদয় মহামান্য স্যার মাননীয় কিংবা বস্ পড়ুন আমার সাথে 'আসতাগফিরুল্লাহা ও আতূবু ইলাইহি'। ব্যাস তওবা কমপ্লিট। এরপর বলে দিবে, সকাল সন্ধ্যা ১০০ বার পড়বেন আসতাগফিরুল্লাহ।
অথচ এরকম 'অমুকের দল' ১৮ কোটি মানুষের অধিকার হরণ, সম্পদ চুরি, খুন,জুলুম, খোদাদ্রোহ, কুরআন-সুন্নাহ অস্বীকার, অন্যায়, অনাচার, মিথ্যা, পাপাচার সহ দুনিয়ার সব শিরকী কুফরী আর কবিরা গুনাহ করে রেখেছে। আল্লাহর হক, বান্দার হক সবই নষ্ট করেছে। এখনো করছে। ভবিষ্যতে করবে বলে মনস্থির করে আছে। হুজুর বা পীর কিন্তু তাকে ময়না পাখির বুলি আউড়িয়ে তথাকথিত তওবা করিয়ে নিষ্পাপ করে ফেলেছেন। এমন সামাজিক ও প্রচলিত হুজুর এবং পীরের দ্রুত ইসলাহ হওয়া দরকার। শিক্ষিত আল্লাহভীরু আলেম ও প্রকৃত পীর মাশায়েখের কাছ থেকে তাদের কিছু শেখা উচিৎ।
তাওবাহ হচ্ছে ১.গুনাহ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া। সব নাফরমানি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি।২. সব ধরনের গুনাহ ও অপকর্ম ছেড়ে দেওয়ার সুদৃঢ় ইচ্ছা ও অঙ্গীকার। ৩.বান্দার হক দিয়ে দেওয়া। শোষণ উৎপীড়নের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ৪.সব হক মানুষকে বুঝিয়ে দিয়ে মুআমালা পরিষ্কার করে নেওয়া। ৫.লেনদেন পরিষ্কার করে মানুষের অধিকার বা পাওনা দিয়ে দেওয়া।
৬.অনুতপ্ত হয়ে জানা অজানা প্রকাশ্য গোপন ছোট বড়ো সব গুনাহ থেকে বিরত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আল্লাহর কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করা।৭.জীবনে আচরণগত বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা। এর নাম 'তাওবাহ'।
এককথায়, জুলুম পাপাচার অপকর্ম চুরি দুর্নীতি গুম খুন লুটপাট সুদ ঘুষ যাবতীয় হারামকাজ ও কবিরাগুনাহ বন্ধ করে, এসবের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া, তালাফি করা, হকদারকে তার হক ফিরিয়ে দিয়ে এবং পূর্ণাঙ্গ কাফফারা আদায় করে, ভবিষ্যতে আর এসব না করার দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে সর্বান্তকরণে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার নাম 'তাওবাহ' বা প্রত্যাবর্তন। তাওবার শাব্দিক অর্থ প্রত্যাবর্তন।
রমজানে এসব বিষয়ে মনযোগী হওয়া এবং কার্যকর করা হলে মাগফিরাত পাওয়া সহজ হবে। এ মাস সাধারণ ক্ষমা লাভের মাস। মধ্য দশক স্পেশাল অফার ও ডিসকাউন্ট এর সময়। এটি ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে সহজে আল্লাহর কাছে হিসাব দাখিলের সুযোগ। কিছু না করে, মানুষের হক আদায় না করে কেবল মুখে মাফ চাইলে তাওবা হয়না। ব্যক্তিগত সাধারণ গুনাহের জন্য মৌখিক ও আন্তরিক ইস্তেগফার ফলদায়ক। যা আমাদের সদাসর্বদা করতে থাকা উচিত।
অন্যায় অপরাধ পরিত্যাগ ও কৃতকর্মের সংশোধন না করে ' মাফ চাই' ' মাফ করে দাও' বললেই সবকিছু হয়ে যায় না। শুধু মুখে মাফ চাওয়াকেই 'তাওবাহ' বলে না।
কেবল জীবন চলার পথে রাত দিন সংঘটিত সাধারণ গুনাহের জন্য মাফ চাওয়ার নামই 'ইস্তিগফার' বা ক্ষমাপ্রার্থনা । বিশেষ করে আল্লাহর ইবাদতে ত্রুটি এবং সাধারণ গুনাহের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা, দৈনন্দিন ইস্তেগফারের উদ্দেশ্য।
সহজ উচ্চারণে মানুষ ' তাওবাহ' শব্দটিকে 'তওবা' বা 'তাওবা' বলে। তাওবার মতো তাওবা হওয়া চাই। আলেমদের কর্তব্য তাওবার প্রকৃত অর্থ ও মর্ম মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করা।
অর্থহীন মৌখিক তাওবার ডাক, তাওবার মাহফিল নামে সস্তা তাওবার অানুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে (নাউজুবিল্লাহ) মহান আল্লাহ এবং তাঁর শোষিত অধিকার বন্চিত মজলুম বান্দাদের সাথে রসিকতা করা, তাওবার সঠিক পদ্ধতি নয়। তাওবার গুরুত্ব কমানোর মতো এমন অনুষ্ঠান বা হালকা কাজ করা কারো পক্ষেই ঠিক না।
যা অনেক সময় না বুঝে বহু মানুষ করে থাকে।এতে তাওবার অর্থ বিকৃতির পাশাপাশি তাওবার নামে একধরণের তামাশাও করা হয়। যাতে আরো গুনাহ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার প্রকৃত তাওবা করলে মানুষের গুনাহ থাকে না। আল্লাহ অধিক সন্তুষ্ট হলে গুনা হকে সওয়াব দিয়ে পরিবর্তন করে দিয়ে থাকেন। নবী করীম স. বলেছেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী যেন গুনাহমুক্ত মানুষের মতো।
মানুষের উচিত তাওবা ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর পার্থিব গজব বালা মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আাখেরাতের আজাব হতে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি দুনিয়ায়ও তাওবা ইস্তিগফারের উপকারিতা লাভ করা। ইস্তেগফার করার অনেক মর্তবা। এখানে কিছু দেয়া হলো।
১. অধিক ইস্তিগফারের কারণে প্রচুর বর্ষণ হয়। বাগান ও শস্যে ভালো ফসল হয়। প্রাকৃতিক অবস্থা ভালো থাকে। ২. ইস্তিগফারকারীকে আল্লাহ উত্তম সন্তান, সম্পদ ও জীবিকার দান করেন। ৩. দীনি দায়িত্ব পালন ও ইবাদত বন্দেগী করা সহজ হয়। কর্মজীবন হয় সুখের।
৪. আল্লাহ ও বান্দার মাঝে দূরত্ব ঘুচে যায়। ৫. ইস্তিগফারকারীর চোখে দুনিয়াকে খুব তুচ্ছ করে দেয়া হয়৷
৬. ওয়াসওয়াসা দানকারী মানব ও জিন শয়তান থেকে তাকে হেফাজত করা হয়৷ ৭. ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করা যায়। ৮.আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়। ৯.বিচক্ষণতা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
১০.দুশ্চিন্তা, পেরেশানি দূর হয়। ১১. অভাব ও বেকারত্ব দূর হয়।১২.আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জিত হয়। পাপী বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ আনন্দিত হন। ১৩.মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারা তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে আসে৷ ১৪.হাশরের মাঠে মানুষ যখন প্রচন্ড গরম ও ঘামের মধ্যে থাকবে, তখন ইস্তিগফারকারী থাকবে আরশের ছায়াতলে। ১৫.কিয়ামতের দিন মানুষ যখন অস্থির থাকবে, ইস্তিগফারকারী তখন ডানপাশের মুত্তাকিদের দলে থাকবে। ১৬. মন্দ কজ থেকে বেচে থাকা যায়। ১৭. আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণও তার জন্য দু'আ করেন।
ইস্তেগফার কী, কীভাবে করতে হয়
ইস্তেগফার অর্থ হল 'ক্ষমা প্রার্থনা করা'। কোন ভুল করে ফেললে তার জন্য আমরা মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট ক্ষমা চেয়ে থাকি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য আমরা সবাই বিশেষ করে 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ি। যা সবার নিকট সহজ ও সহজে উচ্চারিত।
আরবি 'আস্তাগফিরুল্লাহ' কথাটির বাংলা অর্থ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
প্রতি ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন। তিনি বলতেন, তোমরা বেশী বেশী ক্ষমাপ্রার্থনা কর, আমি আমার আল্লাহর কাছে প্রতিদিন ৭০ বার ক্ষমাপ্রার্থনা করে থাকি।
ইস্তেগফার এর মধ্যে উত্তম হচ্ছে,
আমি আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবা করছি বা তার অবাধ্যতা ছেড়ে আনুগত্যে ফিরে আসছি।
আরবীতে বললে,
'আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি'।
আমরা রমজানের মধ্য ভাগসহ পুরো রমজান তাওবা ইস্তেগফার করতে থাকি। আশা করা যায়, আল্লাহ অগণিত মানুষের সাথে আমাদেরকেও মাগফিরাত করে দিবেন।
#শেয়ারকরেছড়িয়েদিন। উপকারী ইলম ও সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পাবেন। রমজানের বহুগুণ বেশী সওয়াবের বর্ধিত পরিমাণে ইলমেদীন চর্চার কল্পনাতীত সওয়াবও আল্লাহ আমাদের সবাইকে দান করুন।

