Thursday, August 12, 2021

Sunday, August 1, 2021

মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স গ্রহণ করা কি জায়েজ হবে?

প্রশ্নঃ মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স গ্রহণ করা কি জায়েজ হবে? 

এ প্রশ্নের উত্তরে বলবো যে আমরা সবাই কম-বেশ জানি যে আমাদের মোবাইল গুলোতে যখন ব্যালেন্স শেষের দিকে থাকে, সংশ্লিষ্ট অপারেটর আমাদের কাছে মেসেজ পাঠান যে আপনার মোবাইলের ব্যালেন্স শেষের পথে, আপনি চাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিতে পারেন।

নিতে চাইলে *..# নাম্বারে ডায়েল করুন বা মেসেজ পাঠান।যাইহোক এ প্রক্রিয়ার পরে তারা আমাদেরকে  ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স পাঠিয়ে থাকে।
মজার বিষয় হলো যে আমাদের সমাজে আজকাল কেউ কাউকে ধার দিতে চায় না। 

নানা কারণে মানুষ ধার দেওয়ার প্রতি  বিতস্ন হয়ে গিয়েছে। সেখানে মোবাইল কোম্পানি আমাদেরকে সেধে ধার দিচ্ছে। 
এবং আমি চাওয়ার আগে আমাকে সেধেসেধে একরকম গায়ে পরে ধার দিচ্ছে! 
এর কারণ কি?
এর কারণ আমরা সবাই জানি যে এর পিছনে তাদের লাভ আছে আর লাভ হলো তারা পরবর্তী রিচার্জের সময় অতিরিক্ত টাকা কেটে রাখেন অথবা সাথে সাথেই অনেক সময় কেটে রাখেন। 

অর্থাৎ আমি ১০ টাকা বা ২০ টাকার ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেই, সেখানে ১ টাকা, ২ টাকা বা আট-আনা যাই হোক এটা তারা যে অতিরিক্ত কেটে রাখেন।এটা সুদ হিসেবে গন্য হবে।
কারণ  নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিখ্যাত হাদিসে আমরা জানি -
"কুল্লু ক্বরদিন জার্রা নাফ'আন ফাহুওয়া রিবা"। 
যেকোনো লোন যার বিপরীতে কোনো  লাভ দেওয়া, নেওয়া হয় সেটা সুদ হিসেবে গন্য হয়, সেটা সুদ হবে।
অতএব মোবাইল অপারেটর আমাকে ১০ বা ২০ টাকার ব্যালেন্স দিয়েছে ;ব্যালেন্স শেষ হয়ে গিয়েছে, সেটা আমাকে ধার দিয়েছে। আমি পরবর্তী রিচার্জের সময় পরিশোধ করবো, পরিশোধ করার সময় অথবা আগেই আমাকে যদি সে কম দেয় অথবা আমার কাছ থেকে যদি বেশি আদায় করে নেয় তাহলে যেই অতিরিক্ত অংশটুকু নিলো সেটা সুদ হবে। 

আর সুদ দেওয়া যেমন গুনা, নেওয়া-ও তেমনি গুনা।
মুসলমানদের জন্য ;ঈমানদারদের জন্য, কুরআন সুন্নাহর অনুসারীদের জন্য মোবাইল অপারেটর গুলো থেকে মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেয়া জায়েজ নাই, আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে। 

বাহিরের কথা বলতে পারবো না। তবে আমাদের দেশে সমস্ত অপারেটর গুলো, সমস্ত মোবাইল কোম্পানি গুলো একই সিস্টেম ফলো করে বিধায় মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেয়া জায়েজ হবে না। 
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দান করুক। 

________________________
উত্তর দিয়েছেন, 
শায়খ আহমাদুল্লাহ্

হাটহাজারী ফতোয়া বিভাগের ফতোয়া: এসপিসি ওয়ার্ল্ডের অনলাইন বিজনেস সম্পূর্ণ নাজায়েয

হাটহাজারী ফতোয়া বিভাগের ফতোয়া: এসপিসি ওয়ার্ল্ডের অনলাইন বিজনেস সম্পূর্ণ নাজায়েয
.
প্রশ্ন: 
বরাবর
ফতোয়া বিভাগ মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী 
বিষয়: spc প্রসঙ্গে
জনাব মুফতীয়ানে কেরাম, বর্তমানে অনলাইন ব্যবসা spc warld Express বহু স্তর থেকে আয় করার প্ল্যাটফর্ম। spc-এর এমডি সাহেবের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে অ্যাক্টিভ ইউজার আছে ৫০ লাখের বেশি। আমাদের এলাকার অধিকাংশ মুসলমান এমনকি অনেক আলিমও এই ব্যবসায় জড়িত! spc-এর সুরত হলো, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস অ্যাপ ডাউনলোড করে একজন রেফার খুঁজে বের করে ১২ শত টাকা দিয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করা। তারপর তাদের বিজ্ঞাপন দেখে ইনকাম করা। সারকথা হলো, বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে আয় করতে হলে ১২০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।  তার মাধ্যমে যদি আরেকজন সদস্যা হয় তাহলে সে এর কমিশন পাবে। অধিকাংশ সময় চারশত টাকা কমিশন পেয়ে থাকে। দ্বিতীয়জন তৃতীয় আরেকজনকে এতে যুক্ত করলে প্রথম ব্যক্তিও এর কিছু কমিশন পেয়ে থাকে। এভাবে ওয়ান স্টার থেকে সেভেন স্টার হতে পারলে তাদের দেয়া অনেক সুবিধা ও লাভের পার্সেন্ট পাওয়া যায়। এসপিসির কার্যক্রমে নিজের টাকা উত্তোলন করতে হলে নিম্নে পাঁচশত টাকা একাউন্টে থাকতে হবে। এটা হলো সাধারণ একাউন্টধারীর জন্য। রয়েল একাউন্ট হলে সেক্ষেত্রে ১০০ ইউনিট এর পণ্য ক্রয় করতে হবে।
আমার জানার বিষয় হলো, এসপিসির কার্যক্রম কি শরীয়তসম্মত? এর সাথে জড়িত হয়ে ইনকাম করা কি বৈধ? জানিয়ে বাধিত করবেন।

বিনীত
হাফিজ মুহম্মদ নুর কক্সবাজারী
ছাত্র হাটহাজারী মাদ্রাসা
01314325095
.

শরয়ী সমাধান 

প্রচলিত spc ward Express-এর কর্যক্রম, লেনদেন সম্পূর্ণ শরীয়ত পরিপন্থী ও অবৈধ। তাদের সাথে যুক্ত হওয়া নাজায়েয। এখান থেকে আয়  করা অবৈধ। এই ধরনের ইনকাম থেকে বেঁচে থাকা সবার জন্য অপরিহার্য। আর ইহাকে অবৈধ ঘোষণা করা আবশ্যক।এতে ঘুষ, ধোঁকা, প্রতারণা, আল আকলু বিল বাতিল তথা অন্যায়ভাবে সম্পদ আহরণ, বিনিময়হীন শ্রম, শ্রমহীন বিনিময়, অর্থাৎ আল আমলু বিলা উজরাহ, আল উজরাহ বিলা আমল, অন্যের  মাল অবৈধভাবে আহরণ, রিবা, যুলূম নানাবিধ শরীয়ত পরিপন্থী বিষয় রয়েছে। নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেয়া হল:
১. প্রশ্নে উল্লেখিত আছে যে, ১২০০  টাকা দিয়ে সদস্য পদ গ্রহণ করে তারপর সে বিজ্ঞাপন দেখে ইনকাম করতে পারবে। যদি ধরে নেয়া হয় তাদের বিজ্ঞাপন ক্লিক করে ইনকাম করা হয়, তাহলে ১২০০ টাকা কেন দিতে হয়? এতে বুঝা যায় যে, এটা মূল কাজের অতিরিক্ত অর্থ প্রদান, যাকে রিশওয়াহ বা ঘুষ বলা হয়। যা হারাম ও অবৈধ।
২. প্রশ্নে উল্লেখিত আছে যে, প্রথম ব্যক্তি যদি একজন সদস্য বৃদ্ধি করে তাহলে সে চারশত টাকা বোনাস পাবে, দ্বিতীয় ব্যক্তি যদি আরেকজনকে বানায় তাহলে প্রথম ব্যক্তি এর কিছু কমিশন পাবে। অর্থাৎ এসপিসির পদ্ধতিতে ডাউন লেভেল জেনারেশন থেকে আপ লেভেল জেনারেশনের যে কমিশন গুলো আসে সেগুলো বিনিময়হীন উপার্জন, যাকে আল আকলু বিল বাতিল তথা অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ বলা হয়। কারণ ১ম স্তরের সরাসরি জেনারেশন ছাড়া ২য় ও ৩য় স্তরের জেনারেশন থেকে পরবর্তী স্তরগুলোতে যে সকল ব্যক্তি যুক্ত হয় তারা অন্যান্য লোকজন কর্তৃক এবং তাদের স্বাক্ষরে।সুতরাং যে পারিশ্রমিক নিম্ন স্তর থেকে আসছে তা বিনিময়হীন হওয়ার কারণে 
الأكل مال الغير بالباطل  তথা অন্যের সম্পদ বাতিল পন্থায় আহরণ করার অন্তর্ভুক্ত যা অবৈধ
৩. আলোচিত পদ্ধতি নাজায়েয হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বহু স্তর থেকে আয় ও الإجر بلا عمل। কারণ এতে ডাউন লেভেলের যারা যুক্ত হচ্ছে, তারা অন্যের মাধ্যমে হচ্ছে, অথচ এখান থেকে অন্যের শ্রমের বিপরীতে কমিশন পাচ্ছে আপলেভেলের লোকজন। সুতরাং এটি নিষিদ্ধ শ্রমহীন বিনিময়, যা অবৈধ। 
৪. উপরোক্ত পদ্ধতির দিকে নজর দিলেই স্পষ্ট  হয়ে যায় যে, তাতে নিষিদ্ধ ‘গারার’ রয়েছে। কারণ এসপিসিতে যুক্ত হওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে রেফার করে আয় করা। অথচ এর পরিণতি সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। কেননা তার নিজের বানানো তিনজন লোক ছাড়া ডাউন লেভেলের পুরাটাই অন্যের কাজের উপর নির্ভরশীল, যা অনিশ্চিত। অন্যরা নেট সামনে অগ্রসর করলে তবেই সে কাঙ্ক্ষিত কমিশন পাবে, অন্যথায় নয়। কত টাকা কমিশন পাবে তাও অনিশ্চিত। অর্থাৎ অধিকাংশ জিনিসেই গারার রয়েছে।
৫. এসপিসির কর্যক্রমে টাকা উত্তোলন করতে হলে পণ্য ক্রয় করতে হবে। এটি একটি ফাসিদ শর্ত। কারণ, প্রাপ্ত আয় যদি হালালও ধরে নেয়া হয়, তাহলে সেটা এসপিসির নিকট গ্রাহকের পাওনা বা দায়। পাওনা আদায়ের জন্য তার পণ্য ক্রয় করতে  হবে। তা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাছাড়া এটি জুলুমও বটে।
৬. এসপিসির নীতি অনুযায়ী ৫০০ টাকার কম হলে ক্যাশ করা যাবে না। এটা স্পষ্ট জুলুম ও প্রতারণা। তাছাড়া এটা বিনিময়হীন শ্রমের অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ العمل بلا أجرة,  যা নিষিদ্ধ।

 দলীলসমূহ:
١-  قوله تعالى ولا تاكلوا اموالكم بينكم بالباطل (سوره البقرة ١٨٨) 
وقد جاء فى تفسير المنار  واما الباطل فهو مالم يكن في مقابلة شئ حقيقي  تفسير المنار( ج٢ ص ١٥٩ م دارالكتب)
قال رئيس المفسرين عبد الله ابن عباس في تفسيره ان ياكله  بغير عوض(أحكام القرأن جصصاص ج ٢ ص ١٧٢) 
٢- لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الراشي والمرتشي(الصحيح للبخاري)
٣- نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الحصاه وعن بيع الغرر (الصحيح للمسلم)
٤- عن ابي هريره رضي الله تعالى عنه قال قال الله تعالى انا خصمهم يوم القيامه..... ورجل استاجر اجيرا فا ستوفى منه ولم يعطه اجره (الصحيح للبخاري ح ٢٢٢٧)
٥- قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من غشنا فليس منا( الصحيح للمسلم)
٦- نهى رسول الله صلى الله عليه عن بيع وشرط(الجامع للترمذي)
٧- لا يحل سلف وبيع ولا شرطان في بيع (الجامع للترمذي)
                                                                          
সমাধানে: 
শফী কামরান

সত্যায়নে:
মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, 
মুফতী জসিমুদ্দীন,
মুফতী খলীল আহমদ কাসেমী।

~Kabir Ahmad Qasemi

Saturday, July 31, 2021

বিকাশ, নগদ ও রকেট একাউন্ট থেকে অর্জিত ইন্টারেস্ট ও ক্যাশব্যাক এর শরয়ী বিধান ৷

বিকাশ, নগদ ও রকেট একাউন্ট থেকে অর্জিত ইন্টারেস্ট ও ক্যাশব্যাক এর শরয়ী বিধান ৷

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা ৷

বরাবর
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা বাংলাদেশ

বিষয়ঃ হালাল হারাম প্রসঙ্গে।

মুহতারাম মুফতি সাহেব, বর্তমানে আমাদের অনেকের মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট আছে।এর মাধ্যমে আমরা টাকা লেনদেন করে থাকি। অনেক সময় দেখা যায় বিকাশ এর পক্ষ থেকে ইন্টারেস্ট হিসাবে কিছু টাকা এসে একাউন্টে যোগ হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় বিকাশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, ১০০ টাকা অ্যাপ থেকে রিচার্জ করলে ৫০ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আবার অনেক সময় দেখা যায় বিকাশের মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট করলে কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
এখন আমার জানার বিষয় হলো, এই টাকার হুকুম কী? এসব টাকা আমাদের জন্য বৈধ হবে কি? মাঝে মাঝে একাউন্টে এসে যে টাকা যোগ হয় সেটা কি ইন্টারেস্ট? এর বৈধতা আছে কি?

নিবেদক
শামসুদ্দিন রিফাত
ফেনী সদর ফেনী

الجواب باسم ملهم الصدق و الصواب

ইসলামি শরিয়া মতে মুয়ামালার ক্ষেত্রে পরস্পর শর্ত/চুক্তি ব্যতিরেকে এক পক্ষ অপর পক্ষকে উক্ত মুয়ামালায় উদ্বুদ্ধ করতে অতিরিক্ত কিছু দেয়া হাদিয়া বা উপঢৌকনের অন্তর্ভুক্ত। তবে আমানত কিংবা ঋণ হিসেবে জমাকৃত অর্থের উপর অতিরিক্ত গ্রহণ সুদের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে বিকাশ কোম্পানি কর্তৃক যত প্রকার ক্যাশব্যাক দেওয়া হয় তা যেহেতু তাদের অ্যাপ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কোনরূপ চুক্তি ছাড়া স্বেচ্ছায় প্রদান করে থাকে, তাই তা হাদিয়া বা উপঢৌকনের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং গ্রাহকদের জন্য তা গ্রহণ বৈধ হবে। অপরদিকে প্রশ্নের প্রথমাংশে উল্লেখিত বিকাশ কোম্পানি কর্তৃক তার গ্রাহকদেরকে মাঝেমধ্যে একাউন্টে জমানো অর্থের ওপর যে ইন্টারেস্ট দেওয়া হয়, তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং গ্রাহকদের জন্য তা গ্রহণ করা হারাম হবে।

الادلۃ الشرعیہ

فتح القدیر: 9/19 (رشيديه)

ثم إن الهبة في اللغة أصلها من الوهب…. ومعناها : إيصال الشيء إلى الغير بما ينفعه سواء كان مالا أو غير مال … وأما في الشريعة فهي تمليك المال بلا عوض كذا في عامة الشروح بل المتون .

فقہ البیوع: 2/810 (معارف القران)

ماجری بہ عمل بعض التجار انھم یعطون جوائز لعملائھم  الذین اشتروا منھم کمیۃ مخصوصۃ … ولیس ھذا من قبیل الزیادۃ فی المبیع…. فھی ھبۃ مبتداۃ موعودۃ من البائع لتشجیع الناس علی ان یشتروا ھذہ البضائع منہ.

بحوث فی قضایا فقھیۃ معاصرۃ: 1/342 (وزارۃ الاوقاف)

اما الودیعۃ الثابتۃ وودا‏ئع التوفیق فان البنک یدفع فائدۃ مضمونۃ لاصحابھا وبما ان ھذہ الودائع  قروض بلا خلاف. فما تدفعہ البنوک زیادۃ علی راس المال، فانہ ربا صراح لا سبیل الی جوازہ. وقد اجمع مجمع الفقہ الاسلامی فی ذلک قرارا فی دورتہ الثانیۃ. فمن یتقدم الی البنک لایداع اموالہ فی ھذین النوعین فانہ یعقد معہ عقد قرض ربوی، وذلک حرام. فلا یجوز  لمسلم ان یودع مالہ فی احد من ھذین النوعین۔

والله اعلم بالصواب

كتبه
فیض اللہ
المتمرن بدار الفتاء والارشاد المركزية داكا
بمركز الشيخ زكريا للبحوث الاسلامية
14/3/1442ھ

Sunday, July 18, 2021

হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল দেখুন ২০২১

হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল  দেখুন ২০২১
Al Haiatul Ulya Result 2021 |(Full Marksheet & PDF Download)

দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) এর ফলাফল 


ব্যক্তিগত ফলাফল দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন :


১৪৪২ হিজরী/২০২১ সনের দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার ফলাফলের পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করুন :

মেধা তালিকা (ছাত্র) ডাউনলোড করুন :

মেধা তালিকা (ছাত্রী) ডাউনলোড করুন :

ফলাফল প্রতিবেদন :

হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল ২০২১Al Haiatul Ulya Result 2021 |(Full Marksheet & PDF Download)

হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল ২০২১
Al Haiatul Ulya Result 2021 |(Full Marksheet & PDF Download)

দাওরায়ে হাদীস এর ফলাফল প্রকাশ আজ


১৪৪২ হিজরী/২০২১ ঈসাব্দের দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল রবিবার ৭ যিলহজ্জ ১৪৪২ হিজরী মুতাবিক ১৮ জুলাই ২০২১ তারিখ দুপুর ১২:৩০ মিনিটে প্রকাশিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

চেয়ারম্যান মহোদয়ের আদেশক্রমে,

মু: অছিউর রহমান,
অফিস সম্পাদক, আল-হাইআতুল উলয়া বাংলাদেশ

Saturday, July 17, 2021

Sunday, July 11, 2021

চাল ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ফিতরা দেয়া যাবে?

চাল ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ফিতরা দেয়া যাবে?

চাল দিয়েও কি ফিতরা আদায় করা যাবে?
খাদ্য ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ফিতরা দেয়া যাবে?
গম, জব, খেজুর, কিসমিস ও পনির দিয়ে ফিতরা দেয়ার কথা রয়েছে হাদীসে৷


Tuesday, July 6, 2021

জায়নামাযে কাবা ঘরের ছবির উপর পা রাখা যাবে

জায়নামাযে কাবা ঘরের ছবির উপর পা রাখা যাবে
by ah online bari 

mamunul hauqe,
মামুনুল হক,
আল্লামা মামুনুল হক,
আপনার জিজ্ঞাসা,
apnar jiggasa,
ahonlinebari,
ah online bari,

Sunday, July 4, 2021

প্রাণীর ছবি আঁকা কি জায়েয / ছবি আঁকার ক্ষেত্রে মৌলিক মাসআলা কি

প্রাণীর ছবি আঁকা কি জায়েয
ছবি আঁকার ক্ষেত্রে মৌলিক মাসআলা কি

জীব জন্তুর ছবি আঁকা কি হারাম
প্যাক্টিকেল খাতায় ছবি আঁকা যাবে/
ছবিযুক্ত পোশাক পরিধানের বিধান/
ইসলাম ধর্মে জীব-জন্তুর ছবি 
প্রাণীর ছবি অংকন করা কি


Friday, July 2, 2021

খতমে তারাবীতে প্রত্যেক শুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ আওয়াজ দিয়েপড়া যাবে কি

খতমে তারাবীতে প্রত্যেক শুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ আওয়াজ দিয়ে
পড়া যাবে কি?

https://youtu.be/RHqvqJFK0kc

তারাবীতে শুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে কি
তারাবীতে বিসমিল্লাহ

Thursday, July 1, 2021

বিয়ের স্মারকের লেখার জন্য / কিভাবে বিবাহের স্মারকে লেখা দিব/ স্মারকের জন্য লেখা দিব

বিয়ের স্মারকের লেখার জন্য / কিভাবে বিবাহের স্মারকে লেখা দিব/ স্মারকের জন্য লেখা দিব

সুখময় জীবনের নতুন মুসাফির
   আ ন ও য়া র  হু সা ই ন



হাফিজ মাওলানা আব্দুল করিম। মানবিক বহুবিদ গুণাবলির এক নন্দিত নাম। কানাইঘাটের সুনাম।
গর্দনা কান্দির গর্বের ধন। জামেয়া যাত্রাবাড়ীর সূর্য সন্তান। তিনি এক মেধাবী, ধীমান ও প্রতিভাবান। একাধারে তিনি একজন হাফিজ, আলিম ও মুদাররিস। পাশাপাশি একজন  আদর্শ শিক্ষক ও তারুণ্যের প্রতীক। আপন মেধা ও প্রতিভায় স্বনামে পরিচিত। সুনামে খ্যাত। ইলমি আঙ্গিনায় সমাদৃত। ছাত্র-শিক্ষক সবার কাছে প্রশংসিত। চলনে-বলনে মায়াবী আচার-আচরণে সোহাগী। তিনি মুলায়েম অমায়িক। বাসতাতান ফিল ইলমে ওয়াল জিসমের উপমা। অফলাইনে ও অনলাইনে সরব ও পরিচিত। সর্বোপরি তিনি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে উত্তম ব্যক্তি।

এতোদিন ছিলেন বৈরাগী৷ ছিলেন সাধু সন্যাসী। মুজাররাদ কমিটির চলমান মেম্বার। এই অসহায় কমিটির  প্রায় সকল পদেই অধিষ্ঠিত ছিলেন। তবে এপদের মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। আর মাত্র দু-তিন দিন বাকী। নতুন জীবনের পালে হাওয়া লেগেছে।

বন্দু করিমের বিয়ে। একাকিত্বের পথ মাড়িয়ে যুগল জীবনে পদার্পন করতে যাচ্ছেন করীম ভাই। সেটা নিঃসন্দেহে খুশির বিষয়। সাথে ভাবনার বিষয় " আদূরে ভাবী এসে যদি আমাদের এ প্রিয় মানুষটিকে শুধুই তার করে নেন। আর আমাদের আশায় বালি ছিটিয়ে দেন।" না, তা হতে দিব না, আমরা করিম ভাইকে অবশ্যই আগের মত রাখব।

এই জীবনের দুই অভিযাত্রীর একজন স্বামী, অপরজন স্ত্রী। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এ জোটির সৃষ্টি, বিকাশ ও সংযােগ। আল্লাহ তা'আলা তার পাক কালামে ইরশাদ করেন : “আমি তােমাদের মধ্য থেকেই অস্তিত্বে এনেছি তােমাদের সাথীকে। যাতে তােমরা তাদের নিকট স্বস্তি খুঁজে পাও। আর তােমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় টান, ভালােবাসা ও বন্ধুত্ব।”
বৈবাহিক জীবনের এই টান ভালােবাসা ও বন্ধুত্ব নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাকের প্রত্যক্ষ ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা বন্ধনটিকে একান্ত অবাধ মুক্ত আর দিক নির্দেশনাহীন ছেড়ে দেয়া হয়নি। এর জন্য দেয়া হয়েছে উৎকৃষ্টমানের নির্দেশনা, আচার-অনুষ্ঠান ও বিধি নিষেধ। এসব নীতি নিয়ম পালন করলে শুধু যে দাম্পত্য জীবন সুখময় হয়ে ওঠবে তাই নয়, বরং মানব সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুরূপে পরিবারে প্রশান্তি নেমে আসায় গােটা বিশ্বজগত হয়ে ওঠবে শান্তি সুখের নীড়।

বন্ধু আব্দুল করিম সেই শান্তি সুখের নীড়ের চলন্ত সিঁড়িতে পা রাখতে যাচ্ছেন। তাঁর সুখময় জীবনের সাথী সাহজাদী কুলসুমা জান্নাত জাহরা। মহান আল্লাহ তাদের শাদী মোবারকে বরকত দান করুন
আব্দুল করীম ও কলসুমা জান্নাত জাহরা দম্পতির মধ্যে যেন আল্লাহ তা'য়ালা মুসলিম ইতিহাসের সেরা দম্পতি হযরত আলী ও ফাতেমা রাযি আল্লাহু আনহুমার ন্যায় পরস্পর ভালবাসা, সহযোগীতা ও সহমর্মীতা সৃষ্টি করে দেন। তাঁদের জীবন জগতে ও বংশধরদের আলোকময় করেন। দুনিয়া আখিরাতের সুখ সাচ্ছন্দ, সফলতা,
তাদের পদ চুম্বন করুক।  আমীন!

Tuesday, June 29, 2021

মৃত্যু সম্পর্কে লিখব / কিভাবে মৃত্যু সম্পর্কে লিখব / ঝড়ে ফুল, কাঁদে বাগান

ঝড়ে ফুল, কাঁদে বাগান

হাফিজ মাওলানা আনওয়ার হুসাইন

“মহান আল্লাহ তিনি, যার কুদরতি হাতে বিশ্বময় রাজত্ব রয়েছে৷ আর তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান৷ যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন- কে তোমাদের মাঝে কর্মে শ্রেষ্ট৷" ( সূরা মূলক ১-২ )

মৃত্যু জিনিষটা আল্লাহ পাকের সৃষ্টিরাজির মধ্যে এমন এক বিষয়, যাকে কেউই অস্বীকার করতে পারে না৷ জ্ঞানী, মূর্খ, ধনী, গরীব, আমীর, ফকীর সবাই মৃত্যুকে স্বীকার করে৷ 

জন্মিলে মরিতে হয় কথাটি অমোঘ সত্য৷ মৃত্যু থেকে কোন জীবই রেহাই পায় না৷ এমনকি আল্লাহর প্রিয় নবীগণ ও মৃত্যুবরণ করেছেন৷ অবশ্য মৃত্যু কারো জন্যে আশীর্বাদ আবার কারো ক্ষেত্রে সর্বনাশ৷ আল্লাহর বিধান মুতাবিক যারা জীবন পরিচালনা করে পরপাড়ে পাড়ি জমাবে, মৃত্যু তাদের জন্য হবে আশীর্বাদ৷ 
এছাড়া যারা ইহকালে খোদায়ী বিধানকে অস্বীকার করবে এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় জীবন পরিচালনা করবে, তাদের জন্য মৃত্যু সর্বনাশের দরজা খুলে দেবে৷ 

আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন “ মৃত্যু জিনিসটা সেতুর ন্যায়, যা দু'জন বন্ধুর মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক ঘটায়" ৷ তথা মু'মিন বান্দা যিনি আল্লাহর বন্ধু তাঁকে তাঁর পরম বন্ধু আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দেয়৷ অপরদিকে কাফের ব্যক্তির জন্য মৃত্যু অবধারিত গজবের দরজা খুলে দেয়" ৷ যেমন কালামুল্লাহ শরীফে আল্লাহ বলেন- “স্মরণ করো যখন ফেরেশতাগণ কাফেরদের প্রাণ বিসর্জন করবে এমতাবস্থায় যে, তারা কাফেরদের মুখমন্ডল ও পশ্চাতে প্রহার করতে থাকবে ৷ সাথে সাথে তারা এও বলবে যে, তোমরা জলন্ত সাজা আস্বাদন করো ৷ এ সাজা তোমাদেরই কর্মের ফল৷ আর মহান আল্লাহ তার বান্দার উপর জুলুমকারী
নন ৷" ( সূরা আনফাল- ৫০ )

যাক, এতক্ষণ মৃত্যু নিয়ে লিখছিলাম৷
এই মৃত্যু বিষয়টা যদিও কঠিন সত্য, তবুও কিছু কিছু মৃত্যুকে আমাদের মন মেনে নিতে চায় না৷ এরকমই একটি মৃত্যুকে নিয়ে লেখার উদ্দেশ্যে কলম হাতে বসা৷ সেই মহান ব্যক্তিত্ব হলেন 
মাও. সা'দ উদ্দীন রাহিমাহুল্লাহ ৷
আল্লাহর এ বান্দাকে হারিয়ে আজ আমরা বিরাট এক শূন্যতা অনুভব করছি৷ যার স্মৃতি আজ মনস্পটে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে ওঠে৷

স্মৃতির মৃত্যু নেই। এই পার্থিব জীবনে মানুষ যে আমল বা স্মৃতি তৈরি করে, তা মৃত্যুর পরও বাকি থেকে যায়। ইহকালেও , পরকালেও। 
মৃত্যুর পরেও মানুষকে তার স্মৃতি বা আমল দিয়ে বিবেচনা করা হয়। তাই পরবর্তীদের জন্য আমরা কী স্মৃতি রেখে যাচ্ছি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মহান এ ব্যক্তি ২৭ মার্চ ১৯৯৭ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বলেশ্বর ঢেমী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

গ্রামের মকতবে তাঁর পড়ালেখা শুরু হয়। এরপর স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং পরে ঘোড়াইল মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। তারপর সিলেটের আলুরতল মাদরাসায় খুব সুনামের সাথে পড়ালেখা করেন৷
এরপর ঢাকায় এক মাদরাসায় অধ্যয়ন কালীন সময়ে এক বিরল রোগ (ব্লাড ক্যান্সার) তাঁর শরীরে বাসা করে নেয়৷
অতঃপর এ বছরই তিনি
 ইহলোক ত্যাগ করেন৷
( আল্লাহপাক তাঁর কবরকে জান্নাতুল ফেরদাউসের নেয়ামত দ্বারা ভরপুর করুন)

যিনি দুআ-দরূদ, হাদীস, 
নসীহতমূলক শের-আশ্আর লিখে 
রাখতেন। কেউ কোন কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে কিছু বললে কিতাবের নাম ও 
প্রকাশনা তথ্যসহ সবকিছু লিখে 
রাখতেন-সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে। এভাবে তাঁর পকেট বইগুলোর মধ্যে 
এর একটি বিশাল সংগ্রহ জমা হতো৷
অনেক সময় বিভিন্ন কিতাবের 
গুরুত্বপূর্ণ অথচ দীর্ঘ বিষয়ও নিজ 
হাতে লিখে রেখে দিতেন। 

সুন্নতের অনুসরণ তাঁর স্বভাবে 
পরিণত হয়েছিল অসুখের সময়  স্বাভাবিক চেতনা হারালেও সুন্নতের কথা তাঁর ঠিকই মনে থাকত। সারাক্ষণ মাথায় টুপি থাকত। কখনো টুপি নিয়েই ঘুমিয়ে পড়তেন। কথা-কাজ, চলন-বলন, ইবাদত-বন্দেগী সবকিছুতেই সুন্নত ছিল তাঁর নির্বিকল্প আদর্শ।

সুন্নাতের খেলাফ কোনো কাজ
 দেখলেই তিনি তা শুধরে দেয়ার
 চেষ্টা করতেন। শাসনের যোগ্য হলে তাই করতেন। শিশুদেরকে সুন্নতের তালীম দিতেন। বাম হাতে কোনো শিশুকে কিছু
 খেতে দেখলে ভীষণ রেগে যেতেন।
 
নামায ‘চোখের শীতলতা’ হাদীসটির যথার্থতা তাঁকে দেখলে উপলব্ধি করা যেত। নামাযের প্রতি তাঁর আকর্ষণ, 
নামাযে মনোযোগ ও খুশু-খুযু, 
সদা নামাযের প্রতি মানুষকে 
দাওয়াত দেওয়া ইত্যাদি দেখে 
মনে হত নামায তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ, সত্যিই নামায তাঁর ‘চোখের 
শীতলতা’।
জামাতের গুরুত্ব ছিল তাঁর কাছে 
অত্যধিক। 
ইশরাকের নামায, ভরপুর মসজিদে আওয়াবীনের নামায ও শেষ রাতে
নির্জনে তাহাজ্জুদের নামায 
সবগুলোর ধরন ধারণ ছিল
 এক ও অভিন্ন। নিয়মিত এবং খুশু-খুযুতে সমৃদ্ধ।

নামাযের মত কুরআন তিলাওয়াতও ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর আবেগপূর্ণ গম্ভীর আওয়াজের তিলাওয়াত, তিলাওয়াতের আদাব, পূর্ণ একাগ্রতা ও মনোযোগিতার যে চিত্র আমার মনে গেঁথে গেছে এর
 উপমা আর খুঁজে পাইনি। সকালের ঘুম তার কাছে খুব 
অপছন্দনীয় ছিল৷
 কুরআন মাজীদের যত্ন ও আদব 
রক্ষায় ছিলেন খুব সতর্ক।

যখন অসুস্থতা ও দুর্বলতার কারণে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়,
 তখন পুরো সময়ই কাটাতেন কেবল কুরআন তিলওয়াতে৷
দু‘আ ছিল তাঁর একটি বিশেষ 
বৈশিষ্ট্য। প্রতি দিন নিয়মিত চার পাঁচ বার
 লম্বা লম্বা দু‘আ করতেন ৷ 
দু‘আ শেষে মনে হত পৃথিবীটা কত 
সুন্দর নিষ্কণ্টক। তৃপ্তিতে ভরে যেত মন।

অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য 
তাঁকে শিশু থেকে মৃত্যু আপন পর
 সকলের কাছেই পরম প্রিয় করে
 রেখেছে। 
লোভ, হিংসা-বিদ্বেষ, স্বার্থপরতার 
কোন চিহ্নও তাঁর মাঝে ছিল না। তিনি ছিলেন স্বল্পভাষী, সদা সহাস্য-সদালাপী। 

তাঁর চরিত্রে বিনয়-নম্রতা, ক্ষমা ও
 উদারতা দীপ-শিখার মত 
জ্বল-জ্বল করত। বংশগত আভিজাত্য, আজন্ম ভদ্রতারাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিঃশর্ত অনুকরণের অদম্য স্পৃহা ও উলামায়ে কেরামের সুহ্বত তাঁকে অপরূপ চারিত্রিক রূপশোভা দিয়ে একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষরূপে তৈরী করেছিল।

তিনি ইবাদত-বন্দেগী ও শত 
ব্যস্ততার পরও নিজের কোন কাজ অন্যকে দিয়ে করাতেন না। 
নিজের কাপড় চোপর ধোয়াসহ সব কাজ নিত্যদিনই রুটিন মাফিক 
করতেন।

খাবার ছিল পরিমিত এবং সময়মত। পূর্ণ মনোযোগিতার সাথে খাবার
 খেতেন সম্পূর্ণ সুন্নত তরীকায়। বসতেন ঠিক মনিবের সামনে
 গোলামের বসার মতো। সাধারণত তাঁর কোনো খাবারের 
অংশ মাটিতে পড়ত না। অন্য কারো কিছু পড়ে গেলেও তিনি উঠিয়ে নিজে খেতেন অথবা অন্যকে খাইয়ে দিতেন। খাবার শেষে হাত ধোয়ার আগেই 
হাত বা প্লেট দেখলে মনে হত খাবার এখনো শুরু হয়নি। অনুরূপ তাঁর হাঁটাও ছিল 
মাপাঝোকা৷ সব সময় পথের ডান 
দিকে চলতেন। চোখ থাকত নিচের 
দিকে।

তিনি সব সময়ই মুত্যুর জন্য প্রস্ত্তত
 থাকতেন৷ তাঁর আলোচনার একটি 
নিয়মিত বিষয় ছিল-মৃত্যু ও তৎপরবর্তী যিন্দেগী। প্রায় সবসময়ই তাঁর মুখে এ হাদিসটি শোনা যেত- ‘তোমার মরণের পরের জগৎটা হয়ত একটা দোজখের ‘গাড়া’ হইব, না হয় জান্নাতের একটি বাগিচা’।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি 
ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি রাতে একবার ‘সায়্যিদুল
 ইসতিগফার’  পড়বে, সে যদি ঐ 
রাতে মারা যায় তাহলে সে জান্নাতি। আর যে এ দু‘আটি দিনে পড়বে,
 অতঃপর ঐ দিনে যদি সে মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতি’। হয়ত এ আশাতেই তিনি সর্বদা এ
 দু‘আর আমল করতেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইবাদত ও তাকওয়া-পরহেযগারির বিষয়ে খুব যত্নশীল ছিলেন। সেজন্য আসাতিযায়ে কেরামের নেক নযর ছিল তাঁর প্রতি। তাছাড়া নিজ থেকেও উস্তাযদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। উস্তাযগণও তাঁকে মহব্বত করতেন।

আর আমরা আশাবাদী যে, শেষ পর্যন্ত তিনি পেয়ে গেছেন স্থায়ী কামিয়াবীও। পেয়েছেন শহীদী মৃত্যু। 

চলে গেছেন, রেখে গেছেন অনেক ত্যাগ, কুরবানী, আদর্শ ও কামিয়াবীর ফিরিস্তি। আল্লাহ তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগিচা বানিয়ে দিন এবং মুসলিম তরুণ-যুবকদের তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেয়ার তাওফীক দান করুন। 
মুসলমানদের মেধা, মননশীলতা, 
সৃজনশীলতা, কণ্ঠ ও মেহনত ব্যয় হোক মহান সৃষ্টিকর্তার অনুমোদিত পথ ও পন্থায়। আমীন।

আল্লাহ বলেন “ প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে"৷ 
হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত চলছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে৷ তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৪ অক্টোবর ২০১৮ ঈসায়ি নয়াযড়কস্থ উইমেন্স মেডিকেল  হাসপাতালে সবাইকে এতীম করে পাড়ি জমালেন জান্নাতের পথে৷

সাহাবী হযরত সালমান ফারসী রা. বলেছেন, ‘কোনো ভূখণ্ড কাউকে শ্রেষ্ঠ বানাতে পারে না। একমাত্র আমলই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে।’ আমরা আশা করি, মাওলানা সা'দ উদ্দীন রাহিমাহুল্লাহ তাঁর জীবনের স্বল্প পরিসরে দ্বীনী যে চেষ্টা করে গেছেন তাই তাকে মর্যাদা দান করবে।

আল্লাহ্ এই চেহারার ঔজ্জ্বল্য তুমি বাড়িয়ে দাও।তুমি এর দীপ্তি চিরস্থায়ী করে দাও।তুমি তাঁকে আফিয়ত ও প্রশান্তি দান কর।তাঁর সকল নেক কাজকে তুমি কবুল করে নাও। 
সব ভুল-ত্রুটি তুমি ক্ষমা করে দাও৷
তুমি তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। আমীন।

اللهم اغفره وارحمه وعافه وأكرم نزله ووسع مدخله مدخلا كريما واغسله بالماء الثلج والبرد ونقه من الذنوب والخطايا كما ينقى الثوب الابيض من الدنس.

اللهم اغفره وارحمه واسكنه فى الجنةالفردوس الاعلى. امين يارب العلمين.
اللهم أجعل قبره روضة من رياض الجنة  .اللهم نور مرقده و طيب مضجعه و عطر مشهده  و اكرم مثواه.

Tuesday, August 11, 2020

আযাদ দীনী এদারা বোর্ড রিজাল্ট

 ২০২০ সালের হিফয বিভাগের মাদ্রাসা ওয়ারী এবং এক নজরে সংক্ষিপ্ত ফলাফল দেখতে নিম্নের লিংক ভিজিট করুন।



https://azaddiniadarah.com/result-2020-tahfizul-quran

Thursday, May 21, 2020

এবারের ঈদের নামাজ কোথায় কীভাবে পড়বো? #ফতওয়াওপরামর্শ

এবারের ঈদের নামাজ কোথায় কীভাবে  পড়বো? #ফতওয়াওপরামর্শ
-------------------------------------------------
মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী
চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার
ভাইস চেয়ারম্যান, গ্লোবাল কন্সাল্টেটিভ কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ফতওয়া বোর্ড
-------------------------------------------------
ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়া সুন্নত। বৃষ্টির কারণে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মসজিদে পড়েছিলেন, তাই কারণবশত ঈদের জামাত মসজিদে পড়া যায়।

বিশ্বব্যাপী শহরে নগরে জনসংখ্যা অনুপাতে ঈদগাহ ও উন্মুক্ত মাঠের অপ্রতুলতাও এসময় মসজিদে নামাজ অনুষ্ঠান সুন্নাহসম্মত হওয়ার একটি কারণ। অবশ্য ঈদগাহ ও উন্মুক্ত মাঠে ঈদের জামাত পড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারাজীবনের আমল। এ বছর লোকজনের অধিক চলাচল ও সমাগম রোধে সরকার মাঠে ঈদের জামাত অনুমোদন করে নি। তাই মসজিদে পড়াই কর্তব্য আর এটিও সন্দেহাতীত ভাবে সুন্নাহসম্মত।

কোভিড১৯ এর মধ্যে সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ মসজিদে পড়ুন। প্রতি জামাতের জন্য আলাদা ইমাম নির্ধারন করে প্রয়োজনে একাধিক জামাত করুন।

নিজের জায়নামাজ, হাজী রুমাল, পাক করে ধোয়া তোয়ালে, গামছা বা বেডশিট সাথে নিয়ে মসজিদে কেবল নিজের নামাজের জায়গাটুকুতে বিছিয়ে নামাজ পড়ুন। এতে প্রতি জামাতের ফাঁকে ফাঁকে মসজিদের ফ্লোর নতুন করে সেনিটাইজ করতে হবে না।

জটলা পাকিয়ে না দাঁড়িয়ে এবং অযথা ঘোরাঘুরি না করে, কেবল ঈদের মূল ইবাদতটি আমরা পালন করি। যারা নানা জায়গায় আছেন, তারা এবার ঈদের বেড়ানো ও পুনর্মিলন বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন।

সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় ইনশাআল্লাহ সময়ে সবই করা যাবে। আপনার আমার একটু আবেগ ও  অবিবেচনা যেন আপনার অথবা অন্য কারোর ক্ষতি ও কষ্টের কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ।

বাংলাদেশের মসজিদ খোলা থাকায় মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজে শরীক হওয়া কর্তব্য। কোথাও সুনির্দিষ্ট কারণে ফুল লকডাউন থাকলে গ্রামের কমন উঠান, এপার্টমেন্টের নামাজখানা, ছাদ, কাচারি ঘরে ঈদের জামাত করা যাবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি অনুসরণ করে এসব জামাত হতে পারে। চলমান পরিস্থিতিতে মসজিদে জামাতে  না যাওয়ার অনুমতি থাকাবস্থায় দু'চার জন মিলে বাসায়ও ঈদের ওয়াজিব নামাজ জামাতে আদায় করা যাবে।

জুমার নামাজ সহি হওয়ার মতো সেইম শর্ত ঈদের জামাতেও প্রযোজ্য । পার্থক্য হলো তিনটি। ১. ঈদের আজান নেই। ২. ঈদের খুতবা (প্রদান করা সুন্নত ) নামাজের পরে আর জুমার খুতবা (প্রদান করা ওয়াজিব )  নামাজের আগে। ৩. ঈদের নামাজে কিছু বাড়তি তাকবীর দিতে হয়। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহা ও কেরাতের আগে। শেষ রাকাতে কেরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে।

ঈদের জামাত সূর্য কিছু ওপরে ওঠার পর থেকে মধ্য দুপুরের আগে পর্যন্ত পড়া যায়। সময় হিসাবে ধরুন, সকাল সাড়ে  ছয়টা থেকে বেলা এগারোটার মাঝের সময়টি।

মুসাফাহা বা দুই হাতের মিলন এবং মুআনাকা বা কোলাকুলি ঈদের সাথে সম্পর্কিত কোনো বিশেষ আমল বা ঈদের অংশ নয়। এ দুটি সারাবছরের  সুন্নত আমল। বৈশ্বিক মহামারি সংকট মুহূর্তের ঈদে এই সংস্কৃতি ও  অভ্যাসগত মুসাফাহা, মুআনাকা না-ই বা করলেন। মুখে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করুন।

যারা  বাস্তব ওজর বশত ঈদের জামাতে শরীক হতে অপারগ, আশা করা যায়, ওজরের কারণে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিবেন। জামাতের ব্যবস্থা করতে না পারলে এ নামাজ পড়তে হবে না। এ নামাজ একা পড়া যায় না। এর কোনো কাজাও নেই।  কিছু ইমামের মত, আমাদের ইমাম আজমের মত এবং আমাদের ফিকাহ এবং ফতওয়া হচ্ছে একা ঈদের নামাজ না পড়া। কেননা, এর পক্ষে শক্তশালী দলিল পাওয়া যায় না। তাছাড়া এটি মুসলিম উম্মাহর দীনি ও সামাজিক সম্মিলিত ইবাদত। ব্যক্তিগত পর্যায়ের আমল নয়। একা পড়া যাবে না। অন্তত পরিবারের লোকজন নিয়ে জামাতে পড়তে হবে।

একটি মত আছে যে একাও পড়া যাবে। এটি কিছু ইমামের অভিমত। আমাদের মতে, দু'একজন মুসল্লী নিয়ে ঘরোয়া জামাতে অতিরিক্ত তাকবীর দিয়ে পড়ে নিবে। না পারলে খুতবা ছাড়াই পড়বে, কেননা ঈদের খুতবা ওয়াজিব নয়। এমন নামাজ জরুরী অবস্থায় অনুমোদিত।

জুমার বদলে জোহর পড়ে নেওয়ার মতো ঈদের নামাজের কোনো বিকল্পও নেই। অপারগ অবস্থায় যে কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ অপারগ অবস্থায় ঈদের নামাজে শরীক হতে না পারলে আশা করি তিনি গুনাহগার হবেন না। আল্লাহ তার এই অপারগতা ক্ষমা করে দেবেন।

জননিরাপত্তা, জরুরী নাগরিক সেবা, কড়া লকডাউনে আবদ্ধ, চিকিতসা, সিরিয়াস রোগীর খেদমতে নিয়োজিত ইত্যাদি একান্ত জরুরী অবস্থায় একজন ইমাম দুই কিংবা তিনজন মুসল্লী নিয়ে নিজ অবস্থানস্থলেও  ঈদের জামাত পড়ে নিতে পারবেন। আলেম ইমাম না পাওয়া গেলে, ইমাম সাধারণ নামাজি ও ইমামতের নিয়ম জানা তুলনামূলক ধার্মিক ব্যক্তি হলেও চলবে।

খুতবা দিতে সক্ষম না হলে খুতবা ছাড়াই শুধু দুই রাকাত পড়ে নিবে।খুতবার সুন্নত আদায়ের ইচ্ছা ও সাহস করলে প্রথম খুতবায় আউজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, সূরা ফাতিহা, দুরুদ শরীফ ও রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া...পড়ে দিলে চলবে।

মাঝখানে মিন্বর না থাকাবস্থায় একটি চেয়ার টুল বা বক্সের উপর তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা পরিমাণ বসে, আবার দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবায় আউজুবিল্লাহ বিসমিল্লাহসহ সূরা আন নাসর অর্থাৎ ইযা জাআ সূরাটি পাঠ করে, আসতাগফিরুল্লাহ, দুরুদ শরীফ, দোয়া মাসূরা ইত্যাদি পড়ে নিলেও চলবে।

ঈদের খুতবার মধ্যে কয়েকবার তাকবীরের বাক্যটি পড়া সুন্নত। এ পরিমাণ পাঠ জুমার খুতবা হিসাবেও জরুরী অবস্থায় পড়া যায়। জুমা ও ঈদের খুতবার অপরিহার্য অনুষঙ্গের সবই এ সংক্ষিপ্ত কোর্সটিতে রয়েছে। আলেম হলে আরো সুন্দর করে প্রমিত খুতবা প্রদান করবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে গুনাহ ছাড়ার ও নেক আমল করার তাওফীক দিন এবং বিশ্বকে বালা-মুসীবত, মহামারী, রিজিকের সংকীর্ণতা, আর্থিক সংকট ও সমুদয় শঙ্কা থেকে মুক্ত করে দিন। রমজান আবারও আসুক সকলের জীবনে, ঈদ হোক জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফায়সালা লাভের আনন্দে আনন্দময়।
-------------------------------------------------
#দীনিইলমেরপ্রসারের নিয়তে শেয়ার করুন। শবেকদরের দশকে হওয়ায় অন্য সময়ের চেয়ে হাজারগুণ বেশী সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। সৌজন্য স্বীকার করে হুবহু কপিও করতে পারেন, তবে এভাবে লেখার পরবর্তী ক্রমসমৃদ্ধ ও পরিমার্জিত রূপটি আপনার কপিতে পৌঁছুবে না ।

Sunday, May 10, 2020

মাগফিরাতের দশদিনঃ আমাদের কী হবে? প্রসঙ্গ তওবা ইস্তেগফারের প্রকৃত অর্থ মর্ম ও মূল প্রেরণা ---------------------------------------------- মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার

মাগফিরাতের দশদিনঃ আমাদের কী হবে? প্রসঙ্গ তওবা ইস্তেগফারের প্রকৃত অর্থ মর্ম ও মূল প্রেরণা
----------------------------------------------
মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী
চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার



------------------------------------------------
 মাগফিরাত মানে ক্ষমা। বান্দার প্রয়োজন মাগফিরাত প্রাপ্ত হওয়া। ক্ষমা লাভ করা। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল। তাঁর এক নাম আল গাফুরু। গাফুরুর রাহীম। পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি আল গাফফার আত তাওওয়াব। রমজানের প্রথম দশদিন রহমতের। মধ্যের দশদিন মাগফিরাতের। শেষ নয় বা দশদিন জাহান্নাম থেকে নাজাতের। দোজখের আগুন থেকে মুক্তির। মাগফিরাত লাভের জন্য তাওবা ইস্তেগফার করা ছাড়া উপায় নাই। আজাব গজব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবাই বলে আসুন তাওবা করি। বলা হয় বেশী বেশী ইস্তেগফার করার কথা।

এদুটো কথার অর্থ মর্ম ও বিশ্লেষণ করা খুব দরকার। এটাও জানা প্রয়োজন যে, রমজানের সময় আমরা ক্ষমা পেলাম কিনা। আমাদের কি মাগফিরাত হবে?
নবী করীম স.বলেছেন, ওই ব্যক্তির চেহারা ধূলিমলিন হোক, যে রমজান পেলো অথচ তার গুনাহ খাতা মাফ করিয়ে নিতে পারলো না। তিনি আরো বলেন, মানুষ মাত্রই ভুলত্রুটি ও গুনাহ খাতা আছে। তবে পাপীদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তাওবা করে।

তাওবা কী, কীভাবে করতে হয়
মাগফিরাত বা ক্ষমা পেতে হলে তাওবা করতে হয়। রমজানে কি আমরা তাওবা করেছি?

প্রথমেই বুঝতে হবে যে, তাওবাহ কোনো খেল তামাশা নয়। এটা কোনো প্রচলিত  অনুষ্ঠান নয়। অনেকে না বুঝেই বলে, গজব থেকে রক্ষা পেতে অমুককে তওবা করতে হবে। আসলে তওবা অর্থই সে বোঝেনা। অমুক যদি রাজি হয় আর বলে, হুজুর তওবা করিয়ে দিন। তখন এমন সো কল্ড হুজুর ও রসমী পীরও দেশে আছে, যে বলবে, জনাব মহোদয় মহামান্য স্যার মাননীয় কিংবা বস্ পড়ুন আমার সাথে 'আসতাগফিরুল্লাহা ও আতূবু ইলাইহি'। ব্যাস তওবা কমপ্লিট। এরপর বলে দিবে, সকাল সন্ধ্যা ১০০ বার পড়বেন আসতাগফিরুল্লাহ।

অথচ এরকম 'অমুকের দল' ১৮ কোটি মানুষের অধিকার হরণ, সম্পদ চুরি, খুন,জুলুম, খোদাদ্রোহ, কুরআন-সুন্নাহ অস্বীকার,  অন্যায়, অনাচার, মিথ্যা, পাপাচার সহ দুনিয়ার সব শিরকী কুফরী আর কবিরা গুনাহ করে রেখেছে। আল্লাহর হক, বান্দার হক সবই নষ্ট করেছে। এখনো করছে। ভবিষ্যতে করবে বলে মনস্থির করে আছে। হুজুর বা পীর কিন্তু তাকে ময়না পাখির বুলি আউড়িয়ে তথাকথিত তওবা করিয়ে নিষ্পাপ করে ফেলেছেন। এমন সামাজিক ও প্রচলিত হুজুর এবং  পীরের দ্রুত ইসলাহ হওয়া দরকার। শিক্ষিত আল্লাহভীরু আলেম ও প্রকৃত পীর মাশায়েখের কাছ থেকে তাদের কিছু শেখা উচিৎ।

তাওবাহ হচ্ছে ১.গুনাহ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া। সব নাফরমানি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি।২. সব ধরনের গুনাহ ও অপকর্ম ছেড়ে দেওয়ার সুদৃঢ় ইচ্ছা ও অঙ্গীকার। ৩.বান্দার হক দিয়ে দেওয়া। শোষণ উৎপীড়নের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ৪.সব হক মানুষকে বুঝিয়ে দিয়ে মুআমালা পরিষ্কার করে নেওয়া। ৫.লেনদেন পরিষ্কার করে মানুষের অধিকার বা পাওনা দিয়ে দেওয়া।
 ৬.অনুতপ্ত হয়ে জানা অজানা প্রকাশ্য গোপন ছোট বড়ো সব গুনাহ থেকে বিরত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আল্লাহর কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করা।৭.জীবনে আচরণগত বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা। এর নাম 'তাওবাহ'।

এককথায়, জুলুম পাপাচার অপকর্ম চুরি দুর্নীতি গুম খুন লুটপাট সুদ ঘুষ যাবতীয় হারামকাজ ও কবিরাগুনাহ বন্ধ করে, এসবের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া, তালাফি করা, হকদারকে তার হক ফিরিয়ে  দিয়ে এবং পূর্ণাঙ্গ কাফফারা আদায় করে, ভবিষ্যতে আর এসব না করার দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে সর্বান্তকরণে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার নাম 'তাওবাহ' বা প্রত্যাবর্তন। তাওবার শাব্দিক অর্থ প্রত্যাবর্তন।

রমজানে এসব বিষয়ে মনযোগী হওয়া এবং কার্যকর করা হলে মাগফিরাত পাওয়া সহজ হবে। এ মাস সাধারণ ক্ষমা লাভের মাস। মধ্য দশক স্পেশাল অফার ও ডিসকাউন্ট এর সময়। এটি ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে সহজে আল্লাহর কাছে হিসাব দাখিলের সুযোগ। কিছু না করে, মানুষের হক আদায় না করে কেবল মুখে মাফ চাইলে তাওবা হয়না। ব্যক্তিগত সাধারণ গুনাহের জন্য মৌখিক ও আন্তরিক ইস্তেগফার ফলদায়ক। যা আমাদের সদাসর্বদা করতে থাকা উচিত।

অন্যায় অপরাধ পরিত্যাগ ও কৃতকর্মের সংশোধন না করে ' মাফ চাই'  ' মাফ করে দাও' বললেই সবকিছু হয়ে যায় না। শুধু মুখে মাফ চাওয়াকেই 'তাওবাহ' বলে না।

কেবল জীবন চলার পথে রাত দিন সংঘটিত সাধারণ গুনাহের জন্য মাফ চাওয়ার নামই 'ইস্তিগফার' বা ক্ষমাপ্রার্থনা । বিশেষ করে আল্লাহর ইবাদতে ত্রুটি এবং সাধারণ গুনাহের  জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা, দৈনন্দিন ইস্তেগফারের উদ্দেশ্য।

সহজ উচ্চারণে মানুষ ' তাওবাহ' শব্দটিকে  'তওবা' বা  'তাওবা' বলে। তাওবার মতো তাওবা হওয়া চাই। আলেমদের কর্তব্য তাওবার প্রকৃত অর্থ ও মর্ম মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করা।

অর্থহীন মৌখিক তাওবার ডাক, তাওবার মাহফিল নামে সস্তা তাওবার অানুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে (নাউজুবিল্লাহ) মহান আল্লাহ এবং তাঁর শোষিত অধিকার বন্চিত মজলুম বান্দাদের সাথে রসিকতা করা, তাওবার সঠিক পদ্ধতি নয়। তাওবার গুরুত্ব কমানোর মতো এমন অনুষ্ঠান বা হালকা কাজ করা কারো পক্ষেই ঠিক না।

 যা অনেক সময় না বুঝে বহু মানুষ করে থাকে।এতে তাওবার অর্থ বিকৃতির পাশাপাশি তাওবার নামে একধরণের তামাশাও করা হয়। যাতে আরো গুনাহ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার প্রকৃত তাওবা করলে মানুষের গুনাহ থাকে না। আল্লাহ অধিক সন্তুষ্ট হলে গুনা হকে সওয়াব দিয়ে পরিবর্তন করে দিয়ে থাকেন। নবী করীম স. বলেছেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী যেন গুনাহমুক্ত মানুষের মতো।

মানুষের উচিত তাওবা ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর পার্থিব গজব বালা মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আাখেরাতের আজাব হতে রক্ষা পাওয়ার  পাশাপাশি দুনিয়ায়ও তাওবা ইস্তিগফারের উপকারিতা লাভ করা। ইস্তেগফার করার অনেক মর্তবা। এখানে কিছু দেয়া হলো।

১. অধিক ইস্তিগফারের কারণে প্রচুর বর্ষণ হয়। বাগান ও শস্যে ভালো ফসল হয়। প্রাকৃতিক অবস্থা ভালো থাকে। ২. ইস্তিগফারকারীকে আল্লাহ উত্তম সন্তান, সম্পদ ও জীবিকার দান করেন। ৩. দীনি দায়িত্ব পালন ও ইবাদত বন্দেগী করা  সহজ হয়। কর্মজীবন হয় সুখের।
৪. আল্লাহ ও বান্দার মাঝে দূরত্ব ঘুচে যায়। ৫. ইস্তিগফারকারীর চোখে দুনিয়াকে খুব তুচ্ছ করে দেয়া হয়৷
৬. ওয়াসওয়াসা দানকারী মানব ও জিন শয়তান থেকে তাকে হেফাজত করা হয়৷ ৭. ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করা যায়। ৮.আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়। ৯.বিচক্ষণতা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
১০.দুশ্চিন্তা, পেরেশানি দূর হয়। ১১. অভাব ও বেকারত্ব দূর হয়।১২.আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জিত হয়। পাপী বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ আনন্দিত হন। ১৩.মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারা তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে আসে৷ ১৪.হাশরের মাঠে মানুষ যখন প্রচন্ড গরম ও ঘামের মধ্যে থাকবে, তখন ইস্তিগফারকারী থাকবে আরশের ছায়াতলে। ১৫.কিয়ামতের দিন মানুষ যখন অস্থির থাকবে, ইস্তিগফারকারী তখন ডানপাশের মুত্তাকিদের দলে থাকবে। ১৬. মন্দ কজ থেকে বেচে থাকা যায়। ১৭. আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণও তার জন্য দু'আ করেন।

ইস্তেগফার কী, কীভাবে করতে হয়

ইস্তেগফার অর্থ হল 'ক্ষমা প্রার্থনা করা'। কোন ভুল করে ফেললে তার জন্য আমরা মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট ক্ষমা চেয়ে থাকি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য আমরা সবাই বিশেষ করে  'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ি। যা সবার নিকট সহজ ও সহজে উচ্চারিত।

আরবি 'আস্তাগফিরুল্লাহ' কথাটির বাংলা অর্থ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

প্রতি ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন। তিনি বলতেন, তোমরা বেশী বেশী ক্ষমাপ্রার্থনা কর, আমি আমার আল্লাহর কাছে প্রতিদিন ৭০ বার ক্ষমাপ্রার্থনা করে থাকি।

ইস্তেগফার এর মধ্যে উত্তম হচ্ছে,

আমি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবা করছি বা তার অবাধ্যতা ছেড়ে আনুগত্যে ফিরে আসছি।
আরবীতে বললে,
'আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি'।
আমরা রমজানের মধ্য ভাগসহ পুরো রমজান তাওবা ইস্তেগফার করতে থাকি। আশা করা যায়, আল্লাহ অগণিত মানুষের সাথে আমাদেরকেও মাগফিরাত করে দিবেন।

#শেয়ারকরেছড়িয়েদিন। উপকারী ইলম ও সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পাবেন। রমজানের বহুগুণ বেশী সওয়াবের বর্ধিত পরিমাণে ইলমেদীন চর্চার কল্পনাতীত সওয়াবও আল্লাহ আমাদের সবাইকে দান করুন।